ঈদের পূর্বে শেয়ার বিক্রি কমবে

প্রকাশ:| শনিবার, ১১ জুলাই , ২০১৫ সময় ০৮:১৭ অপরাহ্ণ

সূচকের নিম্নগতির মধ্য দিয়ে সপ্তাহের শেষ কার্য দিবস বৃহস্পতিবারের লেনদেন শেষ হয়েছে দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে

সূচকের নিম্নগতির মধ্য দিয়ে সপ্তাহের শেষ কার্য দিবস বৃহস্পতিবারের লেনদেন শেষ হয়েছে দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে

দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) গত সপ্তাহে লেনদেন বেড়েছে ২৪ দশমিক ৫৭ শতাংশ। এ সময়ে দৈনিক গড় লেনদেন কমেছে দশমিক ৩৪ শতাংশ। তবে ঈদের আগে শেয়ারবাজারে আর বিক্রির চাপ থাকছে না। এতে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা বিরাজ করতে পারে বলে মনে করছেন বাজারসংশ্লিষ্টরা।

ডিএসইতে গত সপ্তাহে দৈনিক গড় লেনদেনের পরিমাণ ছিল ৪৬৯ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। আগের সপ্তাহে এর পরিমাণ ছিল ৪৭১ কোটি ৫৩ লাখ টাকা।

টি+২ ব্যবস্থা চালু হওয়ায় শেয়ার লেনদেন নিষ্পত্তিতে এখন তিনদিন সময় লাগে। এতে ঈদুল ফিতরের আগে শেয়ারবাজার থেকে নগদ টাকা উত্তোলনের সুযোগ কমে আসায় বিক্রির পরিমাণ কমেছে। তবে সেভাবে কেনার পরিমাণ বাড়েনি।

বাজারসংশ্লিষ্টরা মনে করেন, বিনিয়োগকারীরা আগামীকাল রোববার বিক্রি হওয়া শেয়ারের চেক ব্রোকারেজ হাউসে ইস্যু অর্ডার দিতে পারবে মঙ্গলবার। চেক হাতে পাবেন বৃহস্পতিবার। কিন্তু ঈদুল ফিতরের ছুটির কারণে বুধবারই ব্রোকারেজ হাউস বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ঈদের আগে বিনিয়োগকারীরা চেক পাবেন না। এ কারণে ঈদের আগে বাজারে বিক্রি কমতে পারে। এতে বাজার ভালো হতে পারে।

আবার অনেকে মনে করেন, জুলাই-জুন যেসব কোম্পানির হিসাব বছর, তাদের অনেকেই ঈদের পর লভ্যাংশ ঘোষণা দেবে। এতে বাজার ভালো হতে পারে।

ন্যাশনাল ব্যাংক সিকিউরিট লিমিটেডের শাখা ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ ইকবাল বলেন, ‘লেনদেন নিষ্পত্তির সময়ের সীমাবদ্ধতার কারণে ঈদের আগে শেয়ার বিক্রির চাপ কমবে। তবে আমরা বিনিয়োগকারীদের নগদ টাকার জরুরি চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে শেয়ার বিক্রির টাকা চেকের মাধ্যমে না দিয়ে নগদ দিয়ে থাকি, যা ঋণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।’

ডিএসইতে গত সপ্তাহে লেনদেন হওয়া ৩২৬টি কোম্পানির মধ্যে দাম বেড়েছে ১৬৬টির, কমেছে ১৩২টির ও অপরিবর্তিত ছিল ২৬টির দাম।

গত সপ্তাহে লেনদেনে টাকার পরিমাণে এগিয়ে থাকা কোম্পানির তালিকায় শীর্ষে ছিল ইউনাটেড এয়ারওয়েজ। ডিএসইর মোট লেনদেনে এর অবদান ছিল ৪ দশমিক ৩২ শতাংশ। এ ছাড়া অন্য কোম্পানিগুলো হচ্ছে- এসিআই লিমিটেড, অলিম্পিক অ্যাকসেসরিজ, বেক্সিমকো লিমিটেড, গ্রামীণফোন, ইফাদ অটোস, লাফার্জ সুরমা সিমেন্ট, বেক্সিমকো ফার্মা, এসিআই ফর্মুলেশনস ও স্কয়ার ফার্মা।

মোট লেনদেনের পরিমাণ বাড়ায় গত সপ্তাহে ডিএসইতে বাজার মূলধন আগের সপ্তাহের চেয়ে দশমিক ৮২ শতাংশ বেড়েছে।

চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) মোট লেনদেন হওয়া ২৮০টি কোম্পানির মধ্যে দাম বেড়েছে ১৩৪টির, কমেছে ১২১টির ও অপরিবর্তিত ছিল ২৫টির দাম। সিএসইর সার্বিক সূচক গত সপ্তাহে বেড়েছে দশমিক ৫৮ শতাংশ।

গত সপ্তাহে ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স বেড়েছে দশমিক ৬ শতাংশ বা ২৭ পয়েন্ট। এ ধারাবাহিকতা ঈদের আগে-পরে বজায় থাকবে বলেই আশা বাজার সংশ্লিষ্টদের।