ঈদগাঁও মেহেরঘোনা রেঞ্জ অফিস অরক্ষিত: হুমকির মুখে মাদারট্রি

প্রকাশ:| বুধবার, ৮ নভেম্বর , ২০১৭ সময় ০৯:৪৮ অপরাহ্ণ

সেলিম উদ্দিন, ঈদগাঁও (কক্সবাজার) প্রতিনিধি, কক্সবাজার উত্তর বনবিভাগের ঈদগাঁও-মেহেরঘোনা রেঞ্জ অফিস অরক্ষিত থাকায় দখল হয়ে যাচ্ছে বনভুমি। এসব জায়গায় একের পর এক কাটা হচ্ছে পাহাড়। এ কারণে উজাড় হতে চলেছে সরকারি বনভুমি। সংরক্ষিত এলাকা দখল করে নির্মিত হচ্ছে বসতবাড়ি-দোকানঘর। বনকর্মকর্তাদের উদাসিনতার কারণেই দখলদারিত্ব বাড়ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। এভাবে চলতে থাকলে অল্প কিছুদিনের ভিতরেই বনবিভাগের অনেক জমি দখল হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। চারপাশে সীমানা প্রাচীর না থাকায় ক্রমান্বয়ে দখল করে নিচ্ছেন ভূমিদস্যুরা। অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করে দ্রুত সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
অভিযোগে জানা যায়, রেঞ্জ অফিস পাহাড়ে চারপাশে আগের তুলনায় নতুন নতুন করে গড়ে উঠছে বাড়িঘর। বর্ষা মৌসুমে মাটি কেটে সমতল ভূমিতে পরিণত করছে পাহাড়ি জমি। নিত্যনতুন কৌশলে গ্রাস করে নিচ্ছে বনবিভাগের জায়গা। অফিস পাহাড়ের সুন্দর্য্য নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি হুমকির মুখে পড়ছে মাদারট্রি গর্জনগাছ। চুরের দল রাতের আধাঁরে যে কোন সময় কেটে নিয়ে যেতে পারে এসব মাদারট্রি। এছাড়া অফিস পাহাড়ে বনবিভাগের জায়গা দখল নিয়ে স্থানীয় কয়েক পরিবারের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চললেও এক্ষেত্রে বনবিট কর্মকর্তাদের ভূমিকা রহস্যজনক। স্থানীয়রা বলছেন রেঞ্জ অফিসের নাকের ডগায় অবৈধ দখল ঠেকাতে না পারা কর্মকর্তাদের দায়িত্ব পালন প্রশ্নবৃদ্ব হয়ে উঠেছে।
সুত্রে জানা যায়, এসবই চলছে অসাধু বনবিট কর্মকর্তা ও বন জায়গিরদারদের যোগসাজসে। দেখে শুনেও নিরব ভুমিকা পালন করছেন কর্তাবাবুরা। স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের মাধ্যমে নয়ছয় হচ্ছে। এ সিন্ডিকেটে জনপ্রতিনিধি, ব্যবসায়ী, রাজনীতিবিদ, হেডম্যান, ভিলেজারও রয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, ভিলেজার তাহের বিভিন্ন সিন্ডিকেট থেকে অফিস ম্যানেজের নাম ভাঙ্গিয়ে হাতিয়ে নিচ্ছে মোটা অংকের টাকা। তাছাড়াও অফিস পাহাড়ের উত্তর পাশে বনবিভাগের জায়গায় বাড়ি নির্মাণ করাই মিশ্রপ্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে স্থানীয়দের মাঝে।
স্থানীয় বাসিন্দা হাসান জানায়, বন কর্মকর্তারা মোটা অংকের বিনিময়ে ম্যানেজ হওয়ার কারণেই ভূমিদস্যুরা দিনদিন বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।
মেহেরঘোনা রেঞ্জ কর্মকর্তা মামুন মিয়া বলেন, জনবলের অভাব ও নেতাদের তদবিরের কারণে দায়িত্ব পালন সম্ভব হচ্ছেনা। আশপাশে যে বাড়িঘর তা অনেক দিনের পুরোনো। তাছাড়া সীমানা প্রাচীরের ব্যাপারে কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। এ বিষয়ে উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলে উদ্যোগ নেয়া হবে।
মেহেরঘোনা বিট কর্মকর্তা মনজুরুল ইসলাম বলেন, যে সব বাড়িঘর হয়েছে তা আমি দায়িত্ব নেয়ার আগে হয়েছে। তবে নতুন করে অবৈধভাবে দখল করতে না পারে সেদিকে নজর রয়েছে।
কক্সবাজার উত্তর বনবিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা হক মাহবুব মুর্শেদ বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে বলে জানান।