ঈদগাঁওয়ে কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্পের ব্লক নির্মাণে অনিয়ম!

নিউজচিটাগাং২৪/ এক্স প্রকাশ:| শুক্রবার, ৬ জুলাই , ২০১৮ সময় ১০:২৭ অপরাহ্ণ


সেলিম উদ্দিন, ঈদগাঁও, কক্সবাজার প্রতিনিধি: জাইকা-এর অর্থায়নে কোল পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি বাংলাদেশ লিঃ কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন ১২০০ মেগাওয়াট ও কয়লা ভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়মের মাধ্যমে ব্লকের কাজ চলছে কক্সবাজার সদরের ঈদগাঁও-জালালাবাদে। এ নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে বিরূপ মন্তব্য শুনা যাচ্ছে।
খোঁজ খবর নিয়ে জানা গেছে, মহেশখালী উপজেলার মাতারবাড়ী মৌজার অধিগ্রহনকৃত ১৪১৪.০৫ একর ভুমিতে নির্মান হচ্ছে কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্প। এ প্রকল্পের আওতায় বিভিন্ন উন্নয়নের কাজও চলমান রয়েছে। নির্মানের একটি অংশ ব্লকের কাজ চলছে সদরের জালালাবাদ ইউনিয়নের ফরাজী পাড়া এলাকায় জেডএমবি ও টিকে ব্রিক ফিল্ডে।
স্থানীয়রা জানায়, মহেশখালী উপজেলায় ব্লক তৈরীর স্থান না থাকায় এবং নির্মাণ সামগ্রী সেখানে নিয়ে তৈরী করলে খরচ বেশি পড়ার আশংকায় সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার কাজে অনিয়ম করার মন মানসিকতায় ৩০ কিলোমিটার দূরে এসে ব্লক গুলো তৈরী করছে। কাজের ম্যানুয়াল অনুযায়ী তৈরীকৃত ব্লকে সিলেটের পাথুরে কংকর ব্যবহারের নিয়ম থাকলেও ব্যবহার করা হচ্ছে স্থানীয় ব্রিক ফিল্ডের ইটের লাল কংকর। ১নং বালি ব্যবহারের নিয়ম থাকলেও ব্যবহার করা হচ্ছে ঈদগাঁও নদীর অপরিষ্কার বালি। যা উক্ত কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্পে ব্যবহার করা হলে দীর্ঘস্থায়ী হবে না বলে মত প্রকাশ করেন স্থানীয় বাসিন্দরা। সরেজমিন গতকাল ঐ এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, ১০/১২ জন শিশু শ্রমিক উক্ত ব্লক তৈরীতে নিয়োজিত রয়েছে। একদিকে ব্লক তৈরী হলেও অন্যদিকে তৈরীকৃত ব্লকে ফাটল ধরেছে।
সুত্রে জানা গেছে, উক্ত প্রকল্পের আওতায় ৪০ হাজার ব্লক নির্মান কাজের টেন্ডার হয়েছে। ইতিপুর্বে ৪/৫ হাজার ব্লকের কাজ শেষ হয়েছে। সংম্লিষ্ট ঠিকাদার প্রকল্প কর্মকর্তার যোগসাজশে প্রতিষ্ঠানের তদারক মাতারবাড়ী এলাকার আনচার নামের এক ব্যক্তি এসব অনিয়মে জড়িত বলে জানা গেছে। এসব বিষয়ে জানতে আনচারের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানায়, কোথাও লিখা নাই সিলেটি পাথর ও ১নং বালি ব্যবহারের। যেমন মনে হয় তেমন ব্যবহার করা যাবে।
মহেশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবুল কালামের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানায়, প্রকল্পটি আমাদের অধীনস্থ নয়, তাদের নিজস্ব কোম্পানির নিয়োজিত ঠিকাদাররা তদারকি করে থাকে কাজগুলো।
জালালাবাদ ইউপি চেয়ারম্যান ইমরুল হাসান রাশেদ বলেন, ফরাজী পাড়া এলাকায় কিছু ব্লক নির্মানের কাজ চলছে বলে শুনছি। তবে অনিয়মের বিষয়টি এখনো জানি না। খোঁজখবর নিয়ে অনিয়মের প্রমান পাওয়া গেলে সংশ্লিদের অবহিত করা হবে। তবে যে কোন ব্লক নির্মাণে স্থানীয় ইটের কংকর ব্যবহার করলে কাজের টেকসই হবে না বলে অভিমত ব্যক্ত করেন তিনি।