ঈদগাঁওতে গৃহবধূ উধাও!

প্রকাশ:| শুক্রবার, ২৩ সেপ্টেম্বর , ২০১৬ সময় ১১:২৯ অপরাহ্ণ

কক্সবাজার সদর উপজেলার ঈদগাঁও ইসলামাবাদ ইউনিয়নের তেতুলতলির এক ভাড়া কলোনী থেকে স্বামীর অনুপস্থিতিতে ৩ ছেলেমেয়ে রেখে এক গৃহবধূ উধাও হওয়ার চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। ২১ সেপ্টেম্বর রাতেই এ ঘটনা ঘটে। ঐ গৃহবধূর স্বামী তার স্ত্রীকে না পেয়ে ছেলে ও মেয়ে নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে বলে জানান।
জানা যায়, বিগত ২০০১ সালে ইসলামী শরিয়ত মোতাবেক চৌফলদন্ডী নতুন মহাল গ্রামের মৃত আবদুল হকের কন্যা কহিনুর আক্তারকে বিয়ে করেন চকরিয়া উপজেলার খুটাখালী ইউনিয়নের নয়াপাড়া গ্রামের দানু মিয়ার পুত্র জাহাঙ্গীর আলম। বিয়ে পরবর্তী কয়েক বছর সুখের সংসার হলেও পরবর্তীতে স্ত্রী বেপরোয়া হয়ে উঠে বলে স্বামী জাহাঙ্গীর আলম জানান। এক পর্যায়ে স্ত্রীর চলাফেরা ও অপকর্ম সহ্য করতে না পেরে শ্বাশুড়ী বাধা দিলে তার সাথে মারামারির ঘটনাও ঘটে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে শ্বাশুড়ী দিলদার বেগম তার পুত্র জাহাঙ্গীর আলম ও পালিয়ে যাওয়া পুত্রবধূ কহিনুর আক্তারকে বিবাদী করে আদালতে মামলা দায়ের করলে স্বামী-স্ত্রী দুজনই গ্রেফতার এড়াতে পালিয়ে ঈদগাঁওতে অবস্থান করছিল। এদিকে অসহায় স্বামী জাহাঙ্গীর আলম তার স্ত্রীর মন রক্ষা করতে অতীব দুঃখ কষ্টে জীবন যাপন করলেও গত ২১ সেপ্টেম্বর প্রজেক্টে মাছ ধরতে গেলে তার অনুপস্থিতির সুযোগে সিরাজ দালাল নামের ঈদগাঁওর এক আদম ব্যাপারীর খপ্পরে পড়ে তার কথামত অজানার উদ্দেশ্যে স্বর্ণালঙ্কার ও মূল্যবান জিনিসপত্র নিয়ে উধাও হয়। ইতিপূর্বেও ঐ সিরাজ দালালের সাথে ঢাকায় সপ্তাহ যাবত অবস্থান করছিল। পরবর্তীতে স্বামী খবর পেয়ে সিরাজ দালালের বিরুদ্ধে ঈদগাঁও পুলিশ ক্যাম্পে অভিযোগ করার ৭/৮ ঘন্টার মধ্যে স্ত্রী তার বাড়ীতে ফিরে আসে।
স্বামীর দাবী, সিরাজ দালালই তার স্ত্রীকে ফুঁসলিয়ে অজানার উদ্দেশ্যে নিয়ে যায়। অন্যদিকে লায়লা নামের স্থানীয় এক মহিলা জানান, তার সাথে সৌদি আরবে যাওয়ার জন্য ঢাকায় গিয়ে ট্রেনিং ও পাসপোর্ট করেছে সিরাজ দালালের মাধ্যমে। যাবতীয় খরচ সিরাজ দালালই বহন করছেন বলে ঐ লায়লা জানান। স্বামীর দাবী, কোন অভিভাবক ছাড়া কিভাবে তার স্ত্রীকে সিরাজ দালাল বিদেশ নিয়ে যাবে তা তার মাথায় আসছে না। সিরাজ দালাল ও তার এজেন্সীর বিরুদ্ধে ইতিপূর্বে অভিযোগ এবং বর্তমানে মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানান অসহায় স্বামী জাহাঙ্গীর আলম। স্কুল পড়–য়া একমাত্র কন্যা ও ২ ছেলে নিয়ে কিভাবে দিন কাটাবেন তিনি। উধাও হওয়া স্ত্রী কোন অবস্থাতেই যেন বিদেশ যেতে না পারে সে ব্যাপারে প্রশাসনসহ সকলের সার্বিক সহযোগিতার পাশাপাশি ইমিগ্রেশনে যেন আটকে যেতে পারে যাবতীয় প্রস্তুতিও নিচ্ছেন বলে জানান স্বামী জাহাঙ্গীর আলম। অভিযোগ উঠা সিরাজ দালালের সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ইতিপূর্বে ঢাকায় এসে পাসপোর্ট করার চেষ্টা করেছিল ঐ মহিলা আমার কাছ থেকে। বর্তমানেও কহিনুর নামের এ মহিলা বিদেশ যেতে তার কাছে রয়েছে বলে সিরাজ দালাল স্বীকার করেছে।