ইয়াবা পাচারে সীমান্তে নতুন নতুন গোপন রাস্তা ব্যবহার করা হচ্ছে

প্রকাশ:| রবিবার, ৯ নভেম্বর , ২০১৪ সময় ০৬:৩৩ অপরাহ্ণ

বান্দরবান সেক্টরের জায়গা পরিদর্শণকালে চট্টগ্রাম রিজিয়ন কমান্ডারইয়াবা পাচারে সীমান্তে নতুন নতুন গোপন রাস্তা ব্যবহার করা হচ্ছে

বান্দরবান প্রতিনিধি ॥
বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) চট্টগ্রাম আঞ্চলিক কমান্ডার ব্রীগেডিয়ার জেনারেল মো: হাবিবুল করিম বলেছেন, বিজিবির তৎপরতা বৃদ্ধির কারণে ইয়াবা পাচারে মাদক ব্যবসায়ীরা সীমান্তে নতুন নতুন গোপন রাস্তা ব্যবহার করছে। পার্বত্য চট্টগ্রামের সীমান্ত এলাকা অন্যান্য অঞ্চলের মত নয়। এখানে সীমান্তঞ্চল অনেকবেশি অরক্ষিত এবং ঝকিপূর্ণ। তারপরও ইয়াবা আগের চেয়েও অনেকবেশি ধরা হচ্ছে। নিষিদ্ধ ইয়াবা নিয়ে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষও উদ্ধেগ প্রকাশ করেছেন। ইয়াবা মিয়ানমারের যুব সমাজেরও ক্ষতি করছে। একারণে ইয়াবা রোধে বিজিবি’কে সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন। মিয়ানমার-বাংলাদেশ সীমান্তরক্ষী সম্মেলনের পর থেকে সীমান্তে কোনো হতাহত এবং গোলাগুলির ঘটনা ঘটেনি। দু’দেশের সীমান্তরক্ষীরা বন্ধু সুলব আচরণে রয়েছে। তবে সম্পূর্ণ বিশ্বাস-আশ্বাস অর্জনে কিছুটা হয়ত সময় লাগবে। তিনি আরো বলেন, সরকারীভাবে দেয়া নির্ধারিত জমিতেই বিজিবি বান্দরবান সদর দফতরের স্থাপনা নির্মাণ করা হচ্ছে। সরকারী প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই সরকারী কাজ, সরকারী স্থাপনা এদেশের জন্য এবং এই এলাকার নিরাপত্তার জন্য। বাংলাদেশের সঙ্গে ভারত-মিয়ানমারের সীমান্ত সুরক্ষায় বিজিবি সেক্টর হওয়া প্রয়োজন ছিল। দীর্ঘদিন পর বান্দরবান বিজিবি সেক্টর প্রতিষ্ঠিত হতে যাচ্ছে এটি একটি যুগোপযোগী পদক্ষেপ। এখানে সেক্টর প্রতিষ্ঠিত হলে এই অঞ্চল’সহ পার্বত্যাঞ্চলের সার্বিক উন্নয়ন আরো তরান্বিত হবে। নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরো বেশি সুরক্ষিত হবে। রাস্তা-ঘাট, স্কুল-কলেজ এবং স্বাস্থ্য সেবারও মান বাড়বে। সরকারের এই মহৎ উদ্যোগকে স্থানীয়দের স্বাগত জানানো উচিত। আজ রোববার বিকালে জেলার রোয়াংছড়ি উপজেলার খানসামা এলাকায় বিজিবি সেক্টরের জমি এবং উন্নয়ন কাজ পরিদর্শণকালে এসব কথা বলেছেন কমান্ডার। এসময় অন্যান্যদের মধ্যে বান্দরবান সেক্টর কমান্ডার কর্ণেল ওয়ালি উল্লাহ’সহ বিজিবি উর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং স্থানীয় প্রিন্ট ইলেকট্রিক মিডিয়ার গনমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
বিজিবি জানায়, রোয়াংছড়ি উপজেলার ৩৪৮নং হ্লাপাইক্ষ্যং মৌজায় অবসরপ্রাপ্ত সেনাকর্মকর্তা লে: কর্নেল উকানথিনের কাছ থেকে প্রায় নয় একর জমি ক্রয় এবং সরকারী খাস জমি’সহ প্রায় ৩৫ একর জমি নিয়ে বান্দরবান বিজিবি সেক্টর স্থাপন করা হচ্ছে। অধিগ্রহণকৃত জমিতে কোনো পাহাড়ী পাড়া এবং পাহাড়ীদের জুম চাষের জমি ছিলনা। অধিগ্রহণকৃত জমির সীমানার বাইরে পাহাড়ীদের একটি শ্মসান রয়েছে। স্থানীয়দের সুবিধার্থে শ্মসানে চলাচলের জন্য একটি রাস্তা নির্মাণ করে দেয়ারও উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। বিজিবি সেক্টর স্থাপনে স্থানীয়দের কোনো আপত্তি নেই। কিন্তু কিছু স্বার্থন্বেসী মহল নিজেদের স্বার্থস্বিদ্ধির জন্য বিজিবি সেক্টর স্থাপনে বিভিন্নভাবে বাঁধা দিয়ে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছেন।


আরোও সংবাদ