ইসমাইলের চোখের জলে শেষ বিদায়

প্রকাশ:| শনিবার, ৭ মার্চ , ২০১৫ সময় ১০:৩১ অপরাহ্ণ

শফিউল আলম, রাউজান প্রতিনিধিঃ গত ২০ ফেব্র“য়ারী আবুধাবীর শিল্প নগরী মোছাফফা ৭ নং জোনের হুইল ব্যালেন্স গ্যারেজে অগ্নিকান্ডের ঘটনায় মারাতœক দগ্ধ ইসমাইলের চোখের জলে শেষ বিদায়হওয়া রাউজানের ইসমাইলের লাশ দেশে এসেছে। ৭ মার্চ শনিবার বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে সকাল ৭ টার দিকে চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইসমাইলের লাশ এসে পৌঁছায়। বিমানবন্দর থেকে তার স্বজনরা লাশ গ্রহন করে এ্যাম্বুলেন্সে করে সকাল সাড়ে দশটার টার দিকে লাশ তার গ্রামের বাড়ীতে নিয়ে আসলে সেখানে স্বজনদের আহাজারিতে আকাশ বাতাস ভারী হয়ে উঠে। সকাল থেকেই ইসমাইলের লাশটি এক নজর দেখতে তার স্বজনরা রাউজানের নোয়াপাড়া পথেরহাটের অর্ধ কিলোমিটার উত্তরে কর্ত্তার দীঘির পার এলাকার মরহুম দিলা মিয়া সওদাগরের নতুন বাড়ীতে ভিড় করতে থাকে।

গতকাল শনিবার দুপুরে ইসমাইলের বাড়ীতে গিয়ে দেখা গেছে সেখানে লোকে লোকারণ্য। লাশবাহী গাড়ী বাড়ীতে প্রবেশ করতেই কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন ইসমাইলের পরিবার ও স্বজনরা। এ সময় সেখানে এক হৃদয় বিদারক দৃশ্যের অবতাড়না হয়। ইসমাইলের স্ত্রী ও সদ্য বিবাহিত বড় মেয়ে আঁখি (১৯),লাকি (১৩) যমজ দুই কন্যা হাসি/খুশি (৯) আর একমাত্র পুত্র আকিবের (৭) আহাজারি দেখে লাশ দেখতে আসা লোকজন চোখের জল সংবরণ করতে পারেনি। সেখান থেকে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে লাশ নিয়ে যাওয়া হয় ইসমাইলের গ্রামের বাড়ী নোয়াপাড়াস্থ মোবারক আলী সওদাগরের বাড়ীতে। স্থানীয় মাওলা আলী কাদেরীয়া তৈয়বিয়া জামে মসজিদের মাঠে বাদে জোহর ইসমাইলের নামাজে জানাজা অনুষ্টিত হয়। জানাজা শেষে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।
পরিবারের লোকজনের সাথে কথা বলে জানা গেছে ৬ ভাই এক বোনের মধ্যে সবার ছোট ইসমাইল জীবিকার তাগিদে মধ্যপ্রাচ্যে পাড়ি জমান ২০/২২ বছর পূর্বে। সেখানে পার্টনারে অ্যালুমিনিয়ামের কাজ করতেন। মৃত্যুর চারমাস পূর্বেই শ্যালক আব্দুর রহিমের বিয়ের অনুষ্টানে অংশ নিতে দেশে এসেছিলেন ইসমাইল। দেশে আসার পর ২০ ডিসেম্বর বেশ ধুমধাম করে বড় মেয়ের আঁখির বিয়ের আয়োজন সম্পন্ন করেন ইসমাইল। ২৭ ডিসেম্বর শ্যালকের বিয়ে সম্পন্ন হওয়ার পর জানুয়ারীর ২৬ তারিখে প্রবাসের উদ্দেশ্যে দেশের মাঠি ত্যাগ করেন ইসমাইল। নিয়তির কি নির্মম পরিহাস এক মাস দশ দিনের মাথায় এই মানুষটি দেশে ফিরলো কফিনের বক্সবন্ধী হয়ে। গত ২০ ফেব্র“য়ারী আবুধাবীর মোছাফফাহ ৭ নং জোনের হুইল ব্যালেন্স নামক যে ভবনটিতে অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটে ভবনটির উপরের তলায় থাকতেন ইসমাইল। দূর্ঘটনার সময় পার্টনার আজিম জানালা দিয়ে লাফ দিয়ে বেঁচে গেলেও আগুণের লেলিহান শিখা থেকে শরীর বাঁচাতে পারেনি ইসমাইল। ঘটনাস্থলে একই এলাকার এনামুল দগ্ধ হয়ে মারা গেলেও আবুধাবির স্পেশালাইজড হাসপাতাল মাফরকে ডাক্তারদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে ছিলেন। টানা বারদিন মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে গত ১ মার্চ রোববার আবুধাবীর স্থানীয় সময় দুপুর দেড়টার দিকে মাফরক হাসপাতালে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন ইসমাইল ।