ইলেকট্রনিক্স’র দোকানে নির্বিচারে ভাঙচুর চালালো ছাত্রলীগ

প্রকাশ:| রবিবার, ১৫ মার্চ , ২০১৫ সময় ০৯:০৮ অপরাহ্ণ

ননগরীর খুলশী থানার লালখান বাজার এলাকায় একটি ইলেকট্রনিক্স পণ্যের দোকানে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে নির্বিচারে ভাঙচুরে অভিযোগ উঠেছে।
ইলেকট্রনিক্স’র দোকানে নির্বিচারে ভাঙচুর চালালো ছাত্রলীগ
এসময় তারা বেশ কয়েকটি ককটেল ও রকেট ফ্লোয়ারের বিস্ফোরণ ঘটায়। ছাত্রলীগের তাণ্ডবে এসি বাজার নামের ওই প্রতিষ্ঠানের ছয় কর্মী আহত হয়েছেন।

রোববার সন্ধ্যা ৬টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

হামলাকারীরা নগরীর ওমরগণি এমইএস কলেজ ছাত্রসংসদের জিএস আরশাদুল আলম বাচ্চু’র অনুসারী ছাত্রলীগের কর্মী বলে জানিয়েছেন হামলার শিকার হওয়া দোকান কর্মচারিরা। নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক মেয়র এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী ছাত্রলীগের এ গ্রুপটির নিয়ন্ত্রণ করে থাকেন।

প্রত্যক্ষদশীরা জানান, রোববার সন্ধ্যায় লালখান বাজারে অবস্থিত এসি বাজার ইন্ডাস্ট্রিজ নামে একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সামনে একটি ট্রাকে করে এমইএস কলেজের ছাত্রলীগের একদল নেতাকর্মী আসে। এসেই কাউকে কোন কিছু না বলে বেশ কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। এরপর একটি রকেট ফ্লেয়ার নিক্ষেপ করে এসি বাজার নামের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানটিতে ঢুকে ধারালো অস্ত্র ও লাঠি দিয়ে এলোপাতাড়ি ভাংচুর শুরু করে। এসময় তাদের বাধা দিতে আসলে এসি বাজারের ছয় কর্মীকে তারা মারধর করে। এদের মধ্যে তিনজনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে। তাণ্ডব শেষ করে যাওয়ার সময় তারা দোকানের সামনে রাখা একটি প্রাইভেট কার ও পাশের চারটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানও ভাংচুর করেছে।

এসি বাজারের কর্মচারি জুয়েল জানান, গত ১০ মার্চ বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের বিজয় মিছিলে ছাত্রলীগের দাবি অনুযায়ী এসি বাজারের গাড়ীর চালক তাদের অক্সিজেন পর্যন্ত পৌঁছে না দেওয়ায় আজকে এই হামলা করা হয়েছে। ওই দিন কাজীর দেউড়ি থেকে মিছিল শেষ করে ছাত্রলীগের শ’খানেক কর্মী এসি বাজারের একটি পিকআপ ভ্যান খালি পেয়ে সেটিতে উঠে। পিকআপটি লালখান বাজারে আসার পর ছাত্রলীগ কর্মীদের নেমে যেতে বললে তারা চালকের উপর চড়াও হয়ে অক্সিজেন পর্যন্ত পৌঁছে দিতে নির্দেশ দেয়। তবে চালক ও এসি বাজারের মালিক পক্ষ ছাত্রলীগের আবদারে সায় না দেওয়ায় তাদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয় ওই সময়।

এসময় আওয়ামী লীগ সমর্থিত স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর চৌধুরী এফ আই কবির মানিক এসে উভয়পক্ষে সমঝোতা করে দিলে ঝামেলা ওই দিনের মত শেষ হয়।

ওই ঘটনার জের ধরে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা রোববার বিকেলে এসি বাজারের সামনে এসেই নির্বিচারে ভাংচুর শুরু করে। তারা প্রথমে গাড়ি ভাংচুর করে এবং তারপর এসি বাজারের সব গ্লাস ও এসি, ফ্রিজ ভাংচুর করে।

তাদের ছোড়া ককটেল ও ধারালো অস্ত্রের আঘাতে এসি বাজারের কর্মী ইমতিয়াজ আহমেদ ফয়সাল (৩০), বেলায়েত হোসেন আজাদ (৩৮) ও মিঠুন চন্দ্র দাশকে (২৩) চমেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এছাড়া প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন একই ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের কর্মী আমজাদ, ওয়াসিম ও আল আমিন নামের আরো তিনজন।

এসময় ছাত্রলীগের তাণ্ডব থেকে রেহাই মেলেনি পাশের অন্য চার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানও। এসি বাজারের বাম পাশে এসি প্যালেস, এসি বাজারের ডান পাশে এসি সেল সেন্টার এবং পেনাসনিক টিভি’র দু’টি শোরুমেও ভাঙচুর করা হয়েছে।

নগর পুলিশের সিনিয়র সহকারি কমিশনার (পাঁচলাইশ) দীপক জ্যোতি খাসী বলেন, ‘খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। কে করেছে বিষয়টি তদন্ত করে বের করে দোষীদের আইনের আওতায় আনা হবে।’

স্থানীয় কাউন্সিলর ও আওয়ামী লীগ নেতা চৌধুরী এফ আই কবির মানিক এ ঘটনারে সঙ্গে এম ই এস কলেজ ছাত্রলীগের সম্পৃক্ততার কথা জানালেও বিষয়টি সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন এমইএস কলেজ ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক ও নগর ছাত্রলীগের সাবেক দপ্তর সম্পাদক আরশাদুল আলম বাচ্চু।

তিনি বলেন, ‘মানিক ভাই আমাকে ফোন করে বিষয়টি জানিয়েছেন। আমি খোঁজ খবর নিচ্ছি। কলেজ যেহেতু বন্ধ। তাই এমইএস কলেজের ছাত্ররা সেখানে গিয়ে একাজ করতে পারেনা। আর ওদের সাথে আমাদের কোন বিরোধ নেই। যারাই একাজ করেছে তাদের আইনের আওতায় আনার দাবি করছি।’


আরোও সংবাদ