ইনশাল্লাহ জয় আমাদের হবেই -খালেদা জিয়া

প্রকাশ:| সোমবার, ১৬ সেপ্টেম্বর , ২০১৩ সময় ০৭:৩৯ অপরাহ্ণ

রাজশাহী প্রতিনিধি >>khalada-rajshahiসোমবার বিকেল রাজশাহীতে ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠের বিশাল জনসভায় বিরোধদলীয় নেতা বেগম খালেদা জিয়া বলেন, “এখনো সময় আছে আমরা আলোচনা করতে চাই। আপনারা তত্ত্বাবধায়কের বিল পাশ করুন। আমরা দেশে গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত রাখতে চাই।”
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বেগম জিয়া বলেন, “দুর্নীতি করেও আওয়ামী লীগ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে জিততে পারেনি।”
রাজশাহীবাসীর উদ্দেশ্যে খালেদা জিয়া বলেন, “আপনাদের ধন্যবাদ জানাই সিটি কর্পোরেশনে আমাদের প্রার্থীকে জয়যুক্ত করার জন্য। আপনারা আগামী নির্বাচনেও ইনশাআল্লাহ আমাদের ভোট দিয়ে জয়ী করবেন।”
ফেলানী ইস্যু নিয়ে তিনি বলেন, “আওয়ামী লীগ দাবী করে তারা স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি। আমি বলি, আওয়ামী লীগ স্বাধীনতার বিপক্ষের শক্তি। কারণ আপনাদের আমলে কাঁটাতারে ফেলানীর লাশ ঝোলে। ফেলানীরা বিচার পায়না। আসলে এই সরকার সবার মুখ বন্ধ রাখতে চায়।”
তিনি বলেন, “তারা মিথ্যার উপরে ভর দিয়ে চলতে চায়। তারা বলে,আমরা ক্ষমতায় আসলে নাকি সকল অপরাধীদের জেল থেকে ছেড়ে দিবো। আমি বলতে চাই বিএনপি ক্ষমতায় গেলে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ ট্রাইবুন্যাল গঠন করে প্রকৃত যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করা হবে।”
সরকারকে ক্ষমতা থেকে বিদায় নিতেই হবে উল্লেখ করে বেগম জিয়া বলেন, “কেয়ারটেকার ইস্যুতে আপনারাই জামায়াতকে সাথে নিয়ে ১৯৯৪-৯৫ সালে আন্দোলন করে ছিলেন তখন জামায়াত আপনাদের বন্ধু ছিল। আর এখন জামায়াত আপনাদের কাছে খারাপ হয়ে গেছে।”
রানাপ্লাজা প্রসঙ্গে বিরোধী দলীয় নেত্রী বলেন, “সোহেল রানা যুবলীগের নেতা হয়ে এক হিন্দুর জমি দখল করে। খালখন্দের সেই জমি কোনরকম মাটি চাপা দিয়ে বহুতল ভবন নির্মান করেন। গার্মেন্টস বানান। সোহেল রানার এসব ভুলের জন্যই রানা প্লাজা ট্র্যাজেডিতে বহু হতাহতের ঘটনা ঘটেছে।
খালেদা জিয়া বলেন, এই সরকার ঠিকমতো হতাহতদের ক্ষতিপূরণও দেয়নি। আমরা যখন এই ইস্যুগুলো নিয়ে কথা বলেছি তখন তারা লোক দেখানো ক্ষতিপূরন দিয়েছে। আমি সরকারকে বলবো, রানা প্লাজাস্থলে নতুন ইমারত নির্মাণ করে আহত ও পঙ্গুদের মধ্যে বিতরণ করে দিন।”
বেগম জিয়া বলেন, “আমরা যখন ক্ষমতায় থাকি তখন মন্দির ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে না। আওয়ামী লীগের আমলে তারা সংখ্যালঘুদের মূর্তি ভেঙ্গেছে, মন্দির ভেঙ্গেছে এবং নারী নির্যাতন করেছে। আওয়ামী লীগের সময় সাম্প্রদায়িকতা সহিংসতা বৃদ্ধি পায়”
তিনি বিশ্বজিত প্রসঙ্গ টেনে বলেন, “গুন্ডালীগকে সামাল দিন। না হলে এরা কাউকে রেহাই দেবে না।”
নির্বাচন কমিশনকে উদ্দেশ্য করে বেগম জিয়া বলেন, “বিএনএফের নিবন্ধন করার মতো সাংবিধানিক কোন যোগ্যতা নেই। আপনারা জনগনের ভাষা বুঝুন। মেরুদণ্ড সোজা করে হাটুন।”
দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন হতে দেয়া হবে না উল্লেখ করে খালেদা জিয়া বলেন, আমরা আগেও বলেছি, এখনো বলছি- হটাও আওয়ামী লীগ বাঁচাও দেশ। গণতন্ত্রকে বাঁচিয়ে রাখতে আ.লীগকে বিদায় করতে হবে। দলীয় সরকারের অধীনে এ দেশের মানুষ কোন নির্বাচন মানে না, হতেও দেয়া হবে না।”
“আমরা ক্ষমতায় গেলে নতুন ধারার সরকার দেবো। বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক ধরা অব্যাহত রাখতে সকল ধরনের পদক্ষেপ আমরা নিবো। ইনশাল্লাহ জয় আমাদের হবেই।”