ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ আবদুল খালেকের অবদান চির স্মরণীয়

প্রকাশ:| রবিবার, ২০ জুলাই , ২০১৪ সময় ১০:২৪ অপরাহ্ণ

ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ আবদুল খালেকের জন্মদিন উদ্যাপন অনুষ্ঠানে বক্তারা চট্টগ্রাম তথা সারা দেশের অগ্রণী সাংবাদিকদের শীর্ষ তালিকায় অবশ্যই ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ আবদুল খালেকের নাম সংযুক্ত থাকবে
১১৮তম জন্মবার্ষিকীর আলোচনা সভায় বক্তারা বলেছেন, বাংলাদেশে সংবাদপত্রের ইতিহাসে ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ আবদুল খালেকের বিরল অবদানের কথা যেমন স্বীকার্য, তেমনি তাঁর কীর্তিময় জীবন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা বিভাগে পাঠ্য হওয়া জরুরি। ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ আবদুল খালেককে একুশে পদক দেওয়ারও দাবি জানিয়ে বক্তারা আরো বলেন, মরহুম আবদুল খালেকের জীবন ও কর্ম বিশ্লেষণ করলে আমরা দেখতে পাই তাঁর কর্মকীর্তি নিজের জন্য নয়। দেশ ও দেশের মানুষের জন্যে তিনি নিজেকে নিবেদন করেছিলেন। ভাষা আন্দোলনে অগ্রণী ভূমিকা পালন ছাড়াও ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন থেকে পাকিস্তান আমলে বাঙালির জাতীয়তাবাদী আন্দোলনে ভূমিকা পালন করেছেন বুদ্ধিজীবী ও মনীষী হিসাবে। একই সাথে কোহিনূর পত্রিকা থেকে দৈনিক আজাদী প্রকাশনার মাধ্যমে চট্টগ্রাম তথা সারা বাংলাদেশে সংবাদপত্র জগতে অনন্য অসাধারণ দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। তাঁর সম্পাদিত ও প্রকাশিত পত্রিকা সমূহের মাধ্যমে চট্টগ্রাম ও দেশের উন্নয়নের জন্য বলিষ্ট কণ্ঠস্বর হয়েছেন। ব্যক্তি জীবনে তিনি মানব সেবায় অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। একজন মানবিক প্রতিবাদি ও কল্যাণকামী সাংবাদিক সম্পাদক ছিলেন ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ আবদুল খালেক। চট্টগ্রাম তথা সারা দেশের অগ্রণী সাংবাদিকদের শীর্ষ তালিকায় অবশ্যই ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ আবদুল খালেকের নাম সংযুক্ত থাকবে।
সাপ্তাহিক কোহিনূরের সম্পাদক ও স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম দৈনিক এবং দেশের প্রাচীনতম দৈনিক আজাদী’র প্রতিষ্ঠাতা এতদাঞ্চলের প্রথম মুসলমান ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ আবদুল খালেকের ১১৮তম জন্মদিনে নগরীর চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন কে.বি আব্দুস ছাত্তার সম্মেলন কক্ষে ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ আবদুল খালেক ও অধ্যাপক মোহাম্মদ খালেদ স্মৃতি পরিষদ আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তারা উপর্যুক্ত কথাগুলো বলেন।
ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ আবদুল খালেকের অবদান চির স্মরণীয়রবিবার বিকেলে পরিষদের সভাপতি বিশিষ্ট শিল্পপতি মুহাম্মদ ওসমান গণি চৌধুরীর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক লেখক-সাংবাদিক শওকত বাঙালির সঞ্চালনায় আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন মেয়র আলহাজ এম. মনজুর আলম। বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক এম.এ সালাম, সংসদ সদস্য সাবিহা নাহার বেগম (সাবিহা মুসা), প্যানেল মেয়র জোবাইরা নার্গিস খান, মুক্তিযুদ্ধের গবেষণা কেন্দ্র ট্রাস্টের চেয়ারম্যান ডা. মাহফুজুর রহমান, সাউদার্ণ ইউনিভার্সিটির ফ্যাকাল্টি মেম্বার প্রফেসর হাছিনা জাকারিয়া বেলা ইসলাম, চসিক শিক্ষা স্ট্যান্ডিং কমিটির সভাপতি কাউন্সিলর রেখা আলম চৌধুরী, মেজর (অব.) এমদাদ, রাউজান স্কুল প্রাক্তন ছাত্র সমিতির সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ আবু বক্কর সিদ্দিক।
অন্যদের মধ্যে আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন বিশিষ্ট কলামিস্ট সাখাওয়াত হোসেন মজনু, মোহাম্মদ মঈনুদ্দিন খান, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন, পরিষদের কার্যকরী সভাপতি ফোরদৌস খান আলমগীর, সহ-সভাপতি কাজী আবু নঈম, ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ আবদুল খালেক জন্মদিন উদ্যাপন উপ-কমিটি’র আহবায়ক জেলা পিপি অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আবুল হাশেম, সদস্য সচিব মুহাম্মদ হাসান মুরাদ চৌধুরী, শিল্পী শওকত জাহান। সভার শুরুতে কুরআন তেলওয়াত ও সভা শেষে মোনাজাত পরিচালনা করেন অধ্যাপক মুহাম্মদ মাসুম চৌধুরী।
অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন প্রধান শিক্ষা কর্মকর্তা অধ্যাপক মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ,মরহুমের দৌহিত্র স্লোগান সম্পাদক মোহাম্মদ জহির, অধ্যাপক মোহাম্মদ খালেদ তনয় মোহাম্মদ জোবায়ের, রাজনীতিক স্বপন সেন, দীপংকর চৌধুরী কাজল, অধ্যাপক শামসুদ্দিন শিশির, জসিম উদ্দিন চৌধুরী, জহির সিদ্দিকী, রাউজানের সাবেক জনপ্রতিনিধি মেজবাহ উদ্দিন আকবর, চসিক কমিশনার দিদারুল আলম লাবু, কর্মকর্তা সাইফুদ্দিন আহামদ সাকী, মোহাম্মদ আবদুর রহিম, মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম, পরিষদের সহ-সভাপতি অধ্যাপক মুহাম্মদ মাসুম চৌধুরী, অ্যাডভোকেট মিলি চৌধুরী, এসএম মোরশেদ হোসেন, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মো. মনিরুল ইসলাম চৌধুরী ও আসাদুজ্জামান খান, অর্থ সম্পাদক মহসিন চৌধুরী, আইন সম্পাদক অ্যাডভোকেট আসফাক আহমদ, কেন্দ্রীয় যুবলীগ সদস্য জাহেদুর রহমান সোহেল, পরিষদ সদস্য গল্পকার ইফতেখার মারুফ, মঈনুদ্দিন কাদের লাভলু, মির্জা ইমতিয়াজ শাওন, আসহাব রসুল চৌধুরী জাহেদ, সাব্বির হোসাইন, মহিদুল আলম নকিব, সনেট চক্রবর্তী, মাহমুদুল ইসলাম মুন্না, আসাদুজ্জামান জেবিন, নাজমুল হাসান আকাশ, মাউসুফ উদ্দিন মাসুম, নিখিলেশ সরকার রাজ, মইদুল ইসলাম, অভি চৌধুরী, অসিত বরণ বিশ্বাস, মিথুন নাথ রনি, মিথুন ভট্টাচার্য, আকড় দে পিনাক, মনিরুল ইসলাম সৌরভ, কামাল উদ্দিন চৌহানী, রাসেল দে, বাবুল আচার্য শ্রাবণ, বেলাল নূরী, চৌধুরী আহছান খুররম, উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের শিক্ষা ও মানবসম্পদ সম্পাদক বেদারুল আলম চৌধুরী, সংগঠক নাজিম উদ্দিন এ্যানেল, শিরোনাম সম্পাদক দিদার আশরাফী, নবযাত্রা সম্পাদক মুহাম্মদ আবু মনছুর, ভাস্কর ডি.কে দাশ মামুন, সোহেল মো. ফখরুদ্দিন, কবি আসিফ ইকবাল প্রমুখ।
প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এম. মনজুর আলম ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ আবদুল খালেককে একুশে পদক প্রদানের দাবির সাথে একাত্মতা ঘোষণা করে বলেন, একুশে পদকের পাশাপাশি ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ আবদুল খালেক ও অধ্যাপক মোহাম্মদ খালেদের জীবনী পাঠ্যপুস্তকে অর্š—ভুক্ত করার উদ্যোগ নিতে হবে। এ বিষয়ে সাংবাদিক ও গণমাধ্যমের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি। পরিষদের সাধারণ সম্পাদক শওকত বাঙালির দাবির সাথে ঐক্যমত পোষণ করে মেয়র বলেন, ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ আবদুল খালেক স্কোয়ারকে আরো সৌন্দর্যমণ্ডিত করতে চসিক উদ্যোগ গ্রহণ করবে এবং এটি বাস্তবায়নে তিনি আন্দরকিল্লার জনসাধারণ, ব্যবসায়ীসহ চট্টগ্রামবাসীর সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন।
জেলা পরিষদের প্রশাসক এম.এ সালাম বলেন, ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ আবদুল খালেক ও অধ্যাপক মোহাম্মদ খালেদ চট্টগ্রামের বাতিঘর। যুগ যুগ ধরে তাঁদের বিতরণকৃত আলো গ্রহণের মধ্য দিয়ে এ সমাজকে আমাদের বাসযোগ্য করে যেতে হবে। তবেই তাঁদের যোগ্যসুহৃদ হিসেবে আমরা দাবি করতে পারবো।
সংসদ সদস্য সাবিহা মুসা বলেন, আগামীতে ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ আবদুল খালেক ও অধ্যাপক মোহাম্মদ খালেদকে একুশে ও স্বাধীনতা পদক প্রদানের ব্যাপারে তিনি সংসদে বিষয়টি উত্থাপন করবেন এবং লজ্জার হাত থেকে চট্টগ্রামবাসীকে রক্ষা করবেন।
ইঞ্জিনিয়ার আবদুল খালেক তনয় দৈনিক আজাদী সম্পাদক এম.এ মালেক পরিষদের প্রতি বিনম্র কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, আজাদীকে জাতীয় পত্রিকা করার মতো সকল কিছু বিদ্যমান থাকার পরও আমার বাবা মরহুম ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ আবদুল খালেকের স্বপ্ন অনুযায়ী আমরা এটিকে চট্টগ্রামের আঞ্চলিক পত্রিকা হিসেবেই চট্টগ্রামবাসীর সেবায় নিয়োজিত রেখেছি এবং রাখবো। চট্টগ্রামবাসীর সুখে-দুঃখে আমরা আজাদী’কে চট্টগ্রামবাসীর মুখপত্র হিসেবেই জনমনে স্থায়ী করতে চাই।
এদিকে, ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ আবদুল খালেকের ১১৮তম জন্মদিনে নগরীর ষোলশহরস্থ জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া মাদ্রাসা সংলগ্ন কবরস্থানে মরহুমের কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেছেন ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ আবদুল খালেক ও অধ্যাপক মোহাম্মদ খালেদ স্মৃতি পরিষদ নেতৃবৃন্দ।
গতকাল ২০ জুলাই রবিবার সকাল ১০টায় দৈনিক আজাদী প্রাঙ্গণ থেকে রওনা হয়ে মরহুমের কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণের পর কবর জেয়ারত ও মোনাজাতে অংশগ্রহণ করেন- রাউজান স্কুল প্রাক্তন ছাত্র সমিতির সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ আবু বক্কর সিদ্দিক, পরিষদের সভাপতি বিশিষ্ট শিল্পপতি মুহাম্মদ ওসমান গণি চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক লেখক-সাংবাদিক শওকত বাঙালি, ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ আবদুল খালেক জন্মদিন উদ্যাপন উপ-কমিটির সদস্য সচিব মুহাম্মদ হাসান মুরাদ চৌধুরী, পরিষদের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মো. মনিরুল ইসলাম চৌধুরী, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মঈনুদ্দীন কাদের লাভলু, মরহুমের দৌহিত্র স্লোগান সম্পাদক মোহাম্মদ জহির। মোনাজাত পরিচালনা করেন পরিষদের সহ-সভাপতি অধ্যাপক মুহাম্মদ মাসুম চৌধুরী।