ইছহাক মিয়া বৈরী দুঃশাসন উত্তরনে সাহসী রাজনীতিক

প্রকাশ:| শুক্রবার, ২৮ জুলাই , ২০১৭ সময় ০৯:৫৬ অপরাহ্ণ

স্বাধীনতা উৎসব উদযাপন পরিষদের শোক সভায় প্রফেসর ড. অনুপম সেন

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামন্ডলীর সদস্য, একুশ পদকপ্রাপ্ত, আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন সমাজবিজ্ঞানী, প্রফেসর ড. অনুপম সেন বলেছেন, রাজনীতিকদের উত্থান-পতন আছেন এবং তাঁর দলের সুসময়-দুঃসময়েই থাকবেই। বৈরী দুঃসময় যিনি মোকাবেলা করে জয়ী হন তিনিই প্রকৃত রাজনীতিক। প্রয়াত মোহাম্মদ ইছহাক মিয়া সেই ধরনেরই একজন সাহসী রাজনীতিক ছিলেন।
জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঘনিষ্ট রাজনৈতিক সহচর, মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ও সাবেক গণ পরিষদ ও সংসদ সদস্য জননেতা মরহুম মোহাম্মদ ইছহাক মিয়ার স্মরণে স্বাধীণতা উৎসব উদযাপন পরিষদ চট্টগ্রামের উদ্যোগে গতকাল শুক্রবার বিকেলে নগরীর জেলা শিশু একাডেমী মিলনায়তনে আজ অনুষ্ঠিত শোক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। ড. অনুপম সেন আরো বলেন, বঙ্গবন্ধু জানতেন স্বাধীনতা ছাড়া বাঙালির পরিপূর্ণ মুক্তি অর্জন অসম্ভব। তাই ১৯৪৮ সাল থেকেই তিনি প্রস্তুতি শুরু করেছিলেন। কোন বিচ্ছিন্নবাহী হটকারিতায় নয়। তিনি এই লক্ষ্য অর্জনে গণতান্ত্রিক পথকেই বেছে নিয়ে ছিলেন। গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াইকে উজ্জীবিত করেই ৬ দফা ঘোষণার মধ্য দিয়েই বাঙালির মুক্তির রূপরেখা তৈরী করেন। এই ৬ দফাকে যারা এক দফায় রূপান্তরে বঙ্গবন্ধুর বিশ্বস্থ সহচরের মধ্যে প্রয়াত মোহাম্মদ ইছহাক মিয়া অন্যতম ছিলেন। বিশেষ অতিথির ভাষণে চট্গ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা নঈম উদ্দিন চৌধুরী বলেন ইছহাক মিয়া দীর্ঘজীবন পেয়েছিলেন। এই জীবনে কোন কালিমা নেই। শিশুর মতই সহজ ও সারল্যে ভরা মানুষটির মাঝে কোন অহমিকা ও আত্মম্ভরিকা ছিলো না। বড় মাপের নেতা হয়েও কর্মীদের সাথে মিশে থাকতেন। তাঁর এই গুণ রাজনীতিকদের ধারণ করতে হবে। জাতীয় শ্রমিক লীগ কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব শফর আলী বলেন, মোহাম্মদ ইছহাক মিয়া কালের স্বাক্ষী। বাঙালির মুক্তির লড়াই-সংগ্রামদের ইতিহাসের সাথে নিবিড়ভাবে যুক্ত ছিলেন। তিনি নতুন প্রজন্মের মাঝে ইতিহাসের সেতুবন্ধ ঘটিয়েছিলেন। তিনি ইতিহাসের নানান অধ্যায় ও ঘটনার অনর্গল কথক হিসেবে স্বীকৃতির দাবী রাখেন। সভাপতির ভাষণে স্বাধীনতা উৎসব উদযাপন পরিষদ চট্টগ্রামের মহাসচিব প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম মানিক বলেন, মরহুম ইছহাক মিয়া স্বাধীনতা উৎসব উদযাপন পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন। তাঁর মধ্যে তারুণ্যের র্স্পধা দেখেছি। তিনি তারুন্যের সকল শুভ কর্মের প্রেরণা ছিলেন। স্বাধীনতা উৎসব উদযাপন পরিষদ চট্টগ্রামের প্রধান সমন্বয়কারী ও বঙ্গবন্ধু সাংষ্কৃতিক জোট চট্টগ্রাম জেলার সাধারণ সম্পাদক খোরশেদ আলমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত শোক সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন নগর আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামন্ডলীর সদস্য শেখ মাহমুদ ইছহাক, সাংগঠনিক সম্পাদক ও চসিক প্যানেল মেয়র চৌধুরী হাসান মাহমুদ হাসনী, শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক মাহবুবুল হক মিয়া, চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সহ সভাপতি মঞ্জুর কাদের মঞ্জু, জেলা শিশু একাডেমীর শিশু সংগঠক নাার্গিস সুলতানা, বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট চট্টগ্রাম জেলার সভাপতি অনুপ বিশ্বাস, চট্টগ্রাম মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সুমন দেবনাথ, শ্রমিক নেতা আবদুল মতিন মাস্টার, মো: কামাল উদ্দিন, সংস্কৃতিকর্মী সঙ্গীতা সানজিদা আক্তার সাজু, মোঃ ফয়সাল, মোঃ ইসমাইল প্রমুখ। শোক সভা শেষে সদ্য প্রয়াত মোহাম্মদ ইছহাক মিয়ার স্মরণে শিশু-কিশোর চিত্রাংকন প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার তুলে দেন প্রধান অতিথি প্রফেসর ড. অনুপম সেন সহ আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ।