ইংলাক সিনাওয়াত্রা আটক

প্রকাশ:| শুক্রবার, ২৩ মে , ২০১৪ সময় ০৮:৩৬ অপরাহ্ণ

থাইল্যান্ডের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইংলাক সিনাওয়াত্রাকে আটক করেছে দেশটির সেনাবাহিনী। একইসঙ্গে আটক করা হয়েছে তার পরিবারের কয়েকজন সদস্যকে। এ খবর দিয়েছে বিবিসি। শুক্রবার নিজেকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ঘোষণা দেন সেনাপ্রধান প্রায়ুথ চান-ওচা। এরপর ইংলাক সহ শতাধিক রাজনীতিবিদকে ব্যাংকক সেনা ঘাটিঁতে ডেকে পাঠানো হয়। সেনা ঘাটিঁতে পৌছানোর পর ইংলাককে কয়েক ঘন্টা সেখানে রাখা হয়। পরে তাকে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। সেনাপ্রধান গতকাল গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তাদের সঙ্গে সাক্ষাত করেন। কোন নির্বাচনের আগে সংস্কার বাঞ্ছনীয় বলে তাদেরকে জানিয়েছেন। সেনাবাহিনীর অনুমতি ছাড়া ১৫৫ জন বিশিষ্ট রাজনৈতিক ব্যক্তিকে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। সেনা কার্যালয়ে যাদের ডেকে পাঠানো হয়েছে তারা উপস্থিত না হলে গ্রেপ্তারের হুশিয়ারি দিয়েছে সেনাবাহিনী। রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গকে ঠিক কি কারণে ডেকে পাঠানো হয়েছে সে বিষয়ে ব্যাখ্যা দেয়নি তারা।
১৯৩২ সালে থাইল্যান্ডে রাজপ্রথার পূর্ণ অবসান হবার পর এ পর্যন্ত কমপক্ষে ১২ বার সামরিক অভ্যুত্থান হয়েছে। ২০০৬ সালে সামরিক অভ্যূত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হন থাকসিন সিনাওয়াত্রা। গত বছর তার বোন ইংলাক সিনাওয়াত্রার সরকারের বিরুদ্ধে বিরোধীরা বিক্ষোভ শুরু হলে থাইল্যান্ডের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ক্রমেই অস্থিতিশীল হয়ে পড়ে। বিরোধীদের পদত্যাগের দাবি প্রত্যাখ্যান করেন ইংলাক। অবশেষে এ মাসের শুরুতে সাংবিধানিক আদালতের রায়ে ৯ মন্ত্রী সহ ইংলাক সিনাওয়াত্রাকে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়। এর পর বিরোধীদের প্রতিবাদ নতুন করে মাথাচাড়া দেয়। তারা ইংলাক মন্ত্রিপরিষদের বাকিদের পদত্যাগ দাবি করেন। এমতবস্থায় সেনাপ্রধান প্রায়ুথ চান-ওচা সামরিক আইন জারি করেন। অতপর উভয় রাজনৈতিক পক্ষের মধ্যে সমঝোতা করানোর চেষ্টা ব্যর্থ হলে দুদিন পর টেলিভিশনে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখলের ঘোষণা দেন।