ফুল ভাসিয়ে খাগড়াছেিত বৈসাবি উৎসব শুরু

প্রকাশ:| বুধবার, ১২ এপ্রিল , ২০১৭ সময় ০৯:৫৬ অপরাহ্ণ

পুরানো দু:খ গ্লানি মুছে সুখ শান্তি ও সমৃদ্ধির লক্ষ্য 

শংকর চৌধুরী,খাগড়াছড়ি:
পুরানো দু:খ গ্লানি মুছে সুখ শান্তি ও সমৃদ্ধির লক্ষ্যে জলদেবতা’র উদ্দেশে ফুল ভাসিয়ে
খাগড়াছেিত বৈসাবি উৎসব শুরু। পাহাড়ে বসবাসরত চাকমা ভাষায় বিঝু, মারমাদের সাংগ্রাই আর ত্রিপুরারা বলে বৈসু সব মিলে হয় (বৈসাবি)।

বিঝু, জলদেবতাকে পূজা করার উদ্দ্যেশে পূর্বাকাশে সূর্যোদয়ের পূর্বে চেঙ্গী নদীতে ফুল ভাসানোর মধ্য দিয়ে চাকমা সম্প্রদায়ের বিঝু উৎসব শুরু।

আর তায়, বুধবার ভোরে চেঙ্গী, ফেনী ও মাইনী নদীতে জলদেবতা’র উদ্দেশে প্রার্থনা শেষে পুরানো দু:খ গ্লানি মুছে যেতে ও নববর্ষ যেন সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি বয়ে আনে সে লক্ষ্যে ফুল ভাসিয়ে বিঝুর আনুষ্ঠানিকতা শুরু করেছেন। নদীতে ফুল ভাসানোকে স্থানীয় চাকমা সম্প্রদায় ফুলবিঝু বলে।

মূল বিঝু, সেদিন বাড়িতে বাড়িতে চলে অতিথি অ্যাপায়নের ধুম। হরেকরকম শাক সবজি ও শুটকি দিয়ে রান্না করা পাঁজন। পাঁজনের পাশাপাশি পিঠাপুলি, মিষ্টান্ন ও পানীয় দিয়ে চলে অতিথি অ্যাপায়ন। মূল বিঝুর পরের দিন গজ্জ্যাপজ্জ্যা (ঘোরাঘুরি) হিসেবে পালন করে।

সাংগ্রাই, মারমা সম্প্রদায় বাংলা নবর্বষের দ্বিতীয় দিনকে মঘাব্দ বর্ষের প্রথম দিন হিসেবে পালন করে। মঘাব্দ বর্ষের প্রথম দিন মারমারা সাগ্রাই উৎসব হিসেবে পালন করে। সাগ্রাইয়ে ঘোরাঘুরির চেয়ে বেশী প্রাধান্য দেওয়া হয় মারমা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানকে । পাড়ায় পাড়ায় চলে জলকেলী উৎসব। পছন্দের জুটি করে তরুণ তরুণীরা জলকেলী উৎসবে মেতে উঠে। জলকেলী ছাড়াও চলে ঘিলা খেলা, রশি খেলাসহ গ্রামীণ নানা খেলাধূলা।

বৈসু, ত্রিপুরা সম্প্রদায় ত্রিপুরা বর্ষপঞ্জি (ত্রিপুরাব্দ) অনুসারে বাংলা নবর্বষের প্রথম দিনকে চৈত্র সংক্রান্তি হিসেবে পালন করে। সে দিন তারা বয়ো:জ্যেষ্ঠদের গোসল করিয়ে দিয়ে আর্শীবাদ নেয়। ঘরবাড়ি পরিস্কার পরিচ্ছন্ন শেষে চলে অতিথি অ্যাপায়নের প্রস্তুতি।

পরে দিন ত্রিপুরারা বৈসুর মূল দিন হিসেবে পালন করে। ঘোরাঘুরির পাশাপাশি পাড়ায় পাড়ায় চলে গড়িয়া দেবতার উদ্দেশে করা বিশেষ প্রার্থনা ”গড়িয়া নৃত্য”।

বাংলা নববর্ষ ১৪২৪ বরণেও কমতি নেই পাহাড়ে। জেলা প্রশাসনসহ নানা সামাজিক সংগঠনের উদ্যোগে পহেলা বৈশাখ উদযাপনে গ্রহণ করে নানা কর্মসূচি। পহেলা বৈশাখের দিন জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সার্বজনীন ভাবে হবে মঙ্গল শোভাযাত্রা। থাকছে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসহ গ্রামীণ মেলা।

এদিকে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে যেন বৈসাবি ও বৈশাখীর সব অনুষ্ঠান উদযাপন করা যায় সে লক্ষ্যে কঠোর অবস্থানে রয়েছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। বিভিন্ন পয়েন্টে পোষাকধারী পুলিশের পাশাপাশি গোয়ান্দা নজরধারী বাড়ানোর কথা জানিয়েছেন জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে।


আরোও সংবাদ