আ.লীগ নেতা লাঞ্চিত করার ঘটনায় চবির ৫ ছাত্রকে বিভিন্ন মেয়াদে বহিষ্কার

প্রকাশ:| সোমবার, ২৬ মে , ২০১৪ সময় ০৭:০৭ অপরাহ্ণ

শহিদুল সুমন, চবি>>নাসির হায়দার করিম বাবুল
আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সহ সম্পাদক ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়(চবি) ছাত্রলীগের সাবেক সাধারন সম্পাদক নাছির হায়দার বাবুলকে শারীরিক লাঞ্চনা ও গলায় জুতার মালা দেওয়ার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ৫ ছাত্রকে বিভিন্ন মেয়াদে বহিষ্কার করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
সোমবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর আনোয়ারুল আজিম আরিফ এর সভাপতিত্বে বোর্ড অব রেসিডেন্স হেলথ এন্ড ডিসিপ্লিন এর এক জরুরী সভায় এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
সভায় উপস্থিত ছিলেন উপ উপাচায্র্ ড.ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী,প্রক্টর মো.সিরাজ উদ দৌলাহ,ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের ডিন ড.শংকর লাল সাহা,শাহ আমানত হলের প্রভোষ্ট প্রফেসর ড.আবুল মনছুর,প্রীতিলতা হলের প্রভোষ্ট ড.মাহবুবুল আলম।
সূত্রে জানা গেছে,আওয়ামী লীগ নেতাকে লাঞ্চিত করার ঘটনায় গত ১৪ মে জীব বিজ্ঞান অনুষদের ডিন ড.খান তৌহিদ ওসমানকে সভাপতি করে তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন সহকারী প্রক্টর মো.অহিদুল আলম ও প্রানীবিদ্যা বিভাগের শিক্ষক আবদুল ওয়াহিদ চৌধুরী। কমিটিকে ১০ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেয়ার জন্য বলা হয়েছিল।
তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের উপর পর্যানলোচনা করে বোর্ড এ সিদ্ধান্ত গ্রহন করেছে বলে জানান বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর।
চবি প্রক্টর বলেন,ঘটনার সাথে জড়িত থাকায় দুই ছাত্রকে ছয় মাস এবং তিন ছাত্রকে তিন মাসের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তাছাড়া তাদেরকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কেন স্থায়ী বহিষ্কার করা হবে না তা জানতে চেয়ে কারন দর্শানোর নোটিশ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। ইংরেজি বিভাগের(১০-১১) শিক্ষার্থী রুবেল দে ও শাহরিদ শুভকে ছয় মাসের এবং ইসলামের ইতিহাস ও সংষ্কৃতি বিভাগের(১০-১১) আসিফুজ্জামান আসিফ,ইংরেজি বিভাগের(১০-১১) সোহেল খান এবং কম্পিউটার সাইন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের(১০-১১) মেহেরাজ হোসেনকে তিন মাসের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করা হয়। তাছাড়া প্রত্যেককে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কেন স্থায়ী বহিষ্কার করা হবে না তা জানতে চেয়ে কারন দর্শানোর নোটিশ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।
ছাত্রলীগের যুগ্ন সম্পাদক সুমন মামুন বলেণ, এটি একটি প্রহসন মূলক সিদ্ধন্ত। প্রশাসন একটি পক্ষকে বাঁচানোর জন্য জড়িতদের বিরুদ্ধে এ রকম ব্যবস্থা গ্রহন করেছে। আমরা এ সিদ্ধান্তে সন্তুষ্ট না। আবার অবরোধের দেওয়া হবে কিনা জানতে চাইলে মামুন বলেন,সকলের মিলে আলোচনা করে পরবর্তী কর্মসূচী ঘোষণা দেওয়া হবে।
প্রসঙ্গত গত ৫ এপ্রিল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য প্রফেসর ড.আবু ইউচুফ আলমের স্মরন সভায় নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক মেয়র এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর উপস্থিতিতে ছাত্রলীগ কর্মীদের হাতে লাঞ্চিত হন আওয়ামী লীগ নেতা নাছির হায়দার বাবুল।এরপরে ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ পাঁচজনকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করে। পরবর্তীতে ঘটনার সাথে জড়িতদের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের জন্য ৭ মে থেকে অবরোধের ডাক দেন বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের যুগ্ন সম্পাদক সুমন মামুনের নেতৃত্বে ছাত্রলীগের একটি অংশ। প্রশাসনের আশ্বাসে গত ১৩ মে দু’ সপ্তহের জন্য অবরোধ স্থগিত করে অবরোধকারীরা।