আ. লীগ নেতা অপহৃত, খাগড়াছড়িতে অবরোধ

প্রকাশ:| মঙ্গলবার, ১৮ জুন , ২০১৩ সময় ১২:০৯ পূর্বাহ্ণ

খাগড়াছড়ির গুইমারা থানা আওয়ামী লীগ সভাপতি মো. জাহাঙ্গীর আলমকে (৫০) অপহরণ করেছে সন্ত্রাসীরা।আ. লীগ নেতা অপহৃত, খাগড়াছড়িতে অবরোধ
matiranga_07_5376_0সোমবার গুইমারা বাজারে টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধ করে এলাকাবাসী।

তার পরিবারের সদস্যরা জানান, রোববার দুপুর ২টায় খাগড়াছড়ি থেকে মোটরসাইকেলে গুইমারা ফেরার পথে বাইল্যাছড়ি এলাকা থেকে তিনি অপহৃত হন। এরপর থেকে জাহাঙ্গীর আলম ও চালক হারুনের মোবাইল ফোন বন্ধ রয়েছে।

নিরাপত্তা বাহিনী এবং জেলা আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অপহৃত জাহাঙ্গীর আলমকে মুক্তির বিনিময়ে মোটা অংকের অর্থ দাবি করেছে দৃর্বৃত্তরা।

জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. জাহেদুল আলম এই ঘটনার জন্য শান্তিচুক্তি বিরোধী একটি দলের চিহ্নিত সন্ত্রাসী-চাঁদাবাজদের দায়ী করেছেন।

তিনি জানান, সোমবার রাতের মধ্যে জাহাঙ্গীর আলমকে মুক্তি দেয়া না হলে সাংগঠনিকভাবে কঠিন পদক্ষেপ নেয়া হবে।

তবে ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ)-কেন্দ্রীয় কমিটির মুখপাত্র নিরন চাকমা দাবি করেছেন, এই ঘটনার সাথে তাদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।

এদিকে সোমবার ঘটনাটি জানাজানি হলে দলমত নির্বিশেষে স্থানীয় পাহাড়ি ও বাঙালিরা এর প্রতিবাদে সকাল ৯টা থেকে গুইমারা বাজারে গাছ ফেলে এবং টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধ করে।

পরে খাগড়াছড়ি জেলা আওয়ামী লীগ সহসভাপতি কংজরী চৌধুরীর নেতৃত্বে বিক্ষোভ সমাবেশ হয়। এতে বিকেল ৫টার মধ্যে জাহাঙ্গীর আলমের নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করা হয়। অন্যথায় লাগাতার হরতাল কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দেয়া হয়।

বিকেলে প্রশাসন ও সেনাবাহিনীর উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল গুইমারা বাজারে গিয়ে পাহাড়ি- বাঙালি নেতাদের সাথে আলাপ-আলোচনার পর বিকেল সাড়ে ৩টায় অবরোধ তুলে নেয়া হয়।

পুলিশ সুপার শেখ মিজানুর রহমান জানিয়েছেন, অপহৃত ব্যক্তিকে উদ্ধারে রোববার রাত ৮টা থেকে পুলিশের পাশাপাশি সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় অভিযান অব্যাহত রয়েছে। নাশকতা এড়াতে ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে অতিরিক্ত সেনা সদস্য ও পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।