আড়াই কোটি টাকার ফেব্রিক্স দাতার পরিচয় চায় কাস্টমস

প্রকাশ:| সোমবার, ২৩ জানুয়ারি , ২০১৭ সময় ১১:০৯ অপরাহ্ণ

শতভাগ পলিস্টার ঘোষণা দিয়ে ৭৮ মেট্রিক টন কাপড় আমদানি করে ঢাকার বাড্ডা এলাকার বন্ড প্রতিষ্ঠান স্টেপ-থ্রি অ্যাপারেলস লিমিটেড। ২ লাখ ৭২ হাজার ৬৯৭ ইউএস ডলার মূল্যের ফ্রেব্রিক্স চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছার পর আমদানিকারকের পক্ষে গত বছরের ৭ ডিসেম্বর চালানটি খালাসে বিলঅফ এন্ট্রি দাখিল করে সিএন্ডএফ প্রতিষ্ঠান আমেনা এন্টারপ্রাইজ।

 কাস্টমস কর্তৃপক্ষের দাবি শতভাগ পলিস্টার আমদানির ঘোষণা দেওয়া হলেও আনা হয়েছে মিক্স ফেব্রিক্স। এতে সরকারি রাজস্ব ঝুঁকি রয়েছে ১ কোটি ৮৫ লাখ ৯৭ হাজার ৪১০ টাকার। রাজস্ব ঝুঁকির চেয়েও কাস্টমসের দৃষ্টি এখন আমদানিকৃত কাপড়ের বিপরীতে রফতানিকারক প্রতিষ্ঠানকে কে টাকা দিয়েছে তা নিয়ে। কারণ আমদানিকারক বলছে কাপড়গুলো ফ্রি-তে আনা হয়েছে। এতে কাস্টমস কর্তৃপক্ষের সন্দেহ আরও ঘনিভূত হয়েছে।

কাস্টমস কর্মকর্তাদের ধারণা বিদেশে মুদ্রা পাচারের অভিনব কৌশল হতে পারে এটি। তাই চালানটি খালাস পর্যায়ে আটক করেছে কাস্টমসের এআইআর শাখা। তথ্য যাচাইয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে বন্ড কমিশনারকে।

চট্টগ্রাম কাস্টমস কমিশনার এ এফ এম আবদুল্লাহ বলেন, শতভাগ পলিস্টার কাপড় আমদানির ঘোষণা দিলেও ল্যাব টেস্টে মিক্স ফেব্রিক্স পাওয়া গেছে। তাই চালানটি আটক করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ঘোষণা বহির্ভূত পণ্য থাকলে আমরা ছাড়তে পারবো না। এরপরও বন্ড কশিনারের মতামত চেয়েছি। তাদের মতামতের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কাস্টমস সূত্রে জানা গেছে, গত ৭ ডিসেম্বর সিএন্ডএফ প্রতিষ্ঠান আমদানিকারকের পক্ষে বিলঅফএন্ট্রি (সি-১৪২৯৭৭২) দাখিল করে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সন্দেহ হলে আমদানি কাপড়ের ল্যাব টেস্ট করা হয়। সেখানে মিক্স ফেব্রিক্স নিয়ে আসার বিষয়টি ধরা পড়ে। এরপর নথি যাচাই করতে গিয়ে দেখা যায় চালানটির মূল্য ২ লাখ ৭২ হাজার ৬৯৭ ইউএস ডলার। অন্যদিকে টেলিগ্রাম ট্রান্সফার (টিটি) সিস্টেমে কেবল ১৮ হাজার ইউএস ডলার রাজস্ব আদায় করছে। এতে চালানটির বিপরীতে ১ কোটি ৮৫ লাখ ৯৭ হাজার ৪১০ টাকা সরকারি রাজস্ব ঝুঁকি রয়েছে।

সরকারি রাজস্ব অনাদায়ের বিষয়ে সিএন্ডএফ কর্তৃপক্ষের কাছে ব্যাখ্যা চাইলে তারা জানায় ফেব্রিক্সগুলো সম্পূর্ণ ফ্রি-তে দিয়েছে রফতানিকারক। তবে ওই রফতানিকারকের পরিচয় গোপন করছে আমদানিকারক। তারা বলছে এটি ব্যবসায়ীক গোপনীয়তার বিষয়। এতে কাস্টমস কর্তৃপক্ষের সন্দেহ আরও ঘনিভূত হয়েছে।

সূত্র জানায়, চালানটি চট্টগ্রাম বন্দর থেকে সংশ্লিষ্ট বন্ড প্রতিষ্ঠানের গুদামে যাবে। সেখান থেকে ভারতের কলকাতায় রফতানি করা হবে। ফেব্রিক্সগুলো সেলাই করতে কলকাতায় রফতানির কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এভাবে চালানটি ছাড় নিলে সরকারের রাজস্ব হানি হবে প্রায় ২ কোটি টাকা।

পণ্য চালানটি সম্পূর্ণ ফ্রি-তে আমদানি করা হয়েছে দাবি করে সিএন্ডএফ প্রতিষ্ঠান আমেনা এন্টারপ্রাইজের কর্মকর্তা মো.জামাল বাংলানিউজকে বলেন, চালানটি খালাসের আগে কাস্টমসের এআইআর শাখা আটক করে। তারা বলছে চালানের পণ্য রফতানি না করে স্থানীয় বাজারে বিক্রি করবে। কিন্তু রফতানির পক্ষে প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত উপস্থাপন করেছি। কিন্তু কাস্টমস কর্তৃপক্ষ তা বুঝতে চাচ্ছে না।

চালানটি টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যাবে টেস্ট করানো হযেছে জানিয়ে তিনি বলেন, আমদানিকারকের পক্ষে চালানটি আন্ডারটেকিং এর মাধ্যমে খালাস নিতে কাস্টমস কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়েছি।


আরোও সংবাদ