আস্থা অর্জনে পুলিশ কাজ করে যাচ্ছে

প্রকাশ:| রবিবার, ৯ জুন , ২০১৩ সময় ০৫:৫৩ অপরাহ্ণ

অতিরিক্ত মহাপুলিশ পরিদর্শক মোখলেছুর রহমান (বিপিএম) বলেছেন ‘পুলিশ জনগণের বন্ধু’ এই ধারণা যতদিন সমাজে প্রতিষ্ঠিত হবে না, ততদিন পুলিশকে সফল বলা যাবে না। নির্যাতিত নারীদের সেবার লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠিত ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারের মাধ্যমে পুলিশ ও জনগণের মধ্যে দুরত্ব অনেকটাই কমে যাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, আমরা চাই মানবিক মুখের পুলিশ উপহার দিতে।
তিনি বলেন আইন শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে রাখার পূর্বশর্ত হলো পুলিশের প্রতি জনগণের আস্থা। আমরা যে কোনো মূল্যে জনগণের আস্থা অর্জনে কাজ করে যাচ্ছি। আমরা এ দেশে অংশিদারিত্বমুলক পুলিশিং ব্যবস্থা চালু করতে চাই।
এডিশনাল আইজিপি (সিআইডি) মোখলেছুর রহমান আজ বিকেলে রাঙ্গামাটিতে ‘পুলিশ রিফর্ম প্রকল্পের এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন। ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারের সুফল ও সফলতা বিষয়ে সামাজিক প্রতিক্রিয়া জানতে “কমিউনিটি কনসাল্টেশন” শীর্ষক এই সেমিনার রাঙ্গামাটি কোতয়ালী থানা মাঠে অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারের গত দু’বছরের কার্যক্রম ও সাফল্য তুলে ধরে পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশনের পর অতিথিবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।  প্রতিবেদনে জানানো হয়, রাঙ্গামাটির ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারটি দেশের মধ্যে দ্বিতীয় সাপোর্ট সেন্টার। দুই বছরে এই সেন্টার থেকে ৮০ জন নির্যাতিন ও বিপদাপন্ন নারী সেবা গ্রহণ করেন। অনগ্রসর পার্বত্য এলাকায় নির্যাতিত নারীদের সহায়তায় এই সেন্টার ইতোমধ্যে অভূতপূর্ব সাড়া জাগাতে সম হয়েছে বলে দাবি করে এই সেন্টার প্রতিষ্ঠায় সহায়তার জন্য ইউএনডিপির প্রতি কৃতজ্ঞতা জানানো হয়।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন রাঙ্গামাটির পুলিশ সুপার আমেনা বেগম। এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন অতিরিক্ত ডিআইজি (প্রশিণ ও ক্রীড়া) ফিরোজ আল মোজাহিদ খান, পুলিশ রিফর্ম প্রকল্পের (পিআরপি) ব্যবস্থাপক হ্যাঙ্ক হেন জিল ও রাঙামাটির জেলাপ্রশাসক মোঃ মোস্তফা কামাল।o p
নির্যাতিত ও অসহায় নারীদের চিকিৎসা সহায়তাসহ আইনী সেবা ও আশ্রায়নের লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠিত দেশের দ্বিতীয় ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টার রাঙ্গামাটিতে প্রতিষ্ঠা করায় এ সময় অনুষ্ঠানে উপস্থিত জনপ্রতিনিধি ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা সরকারকে সাধুবাদ জানায়। সামাজিক বৈষম্য দুরীকরণ, নারীর সমতা প্রতিষ্ঠা এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠায় এই সেন্টার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে বলে উল্লেখ করেন তারা। একই সাথে সেন্টারকে আরো কার্যকর করার লক্ষ্যে ভিকটিমদের সেন্টারে আশ্রায়ন সময় বৃদ্ধি, প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ, সাপোর্ট সেন্টারের জন্য স্বতন্ত্র গাড়ির ব্যবস্থা এবং এর সুফল নিয়ে ব্যাপক প্রচারনার উপর গুরুত্বারোপ করেন আগত সুধী সমাজ।
অতিরিক্ত আইজিপি প্রধান অতিথির বক্তব্যে শীঘ্রই এই সেন্টারের জন্য আলাদা জনবল নিয়োগ ও স্বতন্ত্র গাড়ির ব্যবস্থা গ্রহণে তার প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে বলে আশ্বাস দিয়ে বলেন, সরকার ইতোমধ্যে ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারের জন্য আলাদা অর্থনৈতিক কোড অনুমোদন করায় ভবিষ্যতে এই সেন্টা পরিচালনা আরো সাবলীল ও গতিময় হবে। তিনি যে সকল বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারের সাথে কাজ করছেন তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন একসাথে কাজ করতে পারলে যে কোনো লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব।