আসামি পক্ষে শুনানির ঘটনায় পিপির অপসারণ দাবি

প্রকাশ:| সোমবার, ১২ ডিসেম্বর , ২০১৬ সময় ১১:৩৭ অপরাহ্ণ

প্রেসক্লাব ও কর্মরত সাংবাদিকদের ওপর সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টাকারী পুলিশ কর্মকর্তাদের অপসারণ এবং সরকারি আইনজীবী হয়ে আসামি পক্ষে শুনানির ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে যৌথসভা করেছে চট্টগ্রামের সাংবাদিক সমাজ।

সোমবার (১২ ডিসেম্বর) দুপুরে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব ও চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের (সিইউজে) যৌথসভা সাংবাদিকদের ওপর হামলা পরবর্তী মামলা ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার ঘটনা পর্যবেক্ষণ এবং পরবর্তী করণীয় নির্ধারণে ২১ সদস্যের একটি কমিটিও করা হয়েছে।

যৌথসভা থেকে ‘ঐক্যবদ্ধ সনাতন সমাজ’র ব্যানারে কিছু উচ্ছৃঙ্খল যুবকের হামলার প্রতিবাদ ও তীব্র নিন্দা জানানো হয়। একইসাথে হামলার ঘটনায় সাংবাদিকদের করা মামলা ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার জন্য দায়ী পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়। এছাড়া আসামি পক্ষে অতিরিক্ত এক পিপি শুনানিতে অংশ নেওয়ার নিন্দা জানিয়ে তার অপসারণ ও শাস্তি দাবি করা হয়।

সভায় প্রেসক্লাব ও সাংবাদিকদের ওপর হামলার প্রতিবাদ, অভিযুক্তদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং এ ঘটনায় করা মামলা ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার জন্য দায়ী পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে আগামী বুধবার (১৪ ডিসেম্বর) বেলা ১২টায় চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব চত্বরে সাংবাদিক ও পেশাজীবী সমাবেশ করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

এ ঘটনায় পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ এবং মামলা পরিচালনার জন্য বাংরঅদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) সহ-সভাপতি শহীদ উল আলমকে আহবায়ক, সিইউজের সাবেক সভাপতি অঞ্জন কুমার সেনকে যুগ্ম আহবায়ক করে ২১ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এতে প্রেসক্লাব ও সিইউজে’র সভাপতি সাধারণ সম্পাদকদের সদস্য রাখা হয়েছে।

যৌথসভায় সাংবাদিক ও প্রেসক্লাবের ওপর হামলার ঘটনা তদন্তে ধীরগতি এবং মামলার ধারা পবির্তনে ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের তৎপরতায় হতাশা প্রকাশ করা হয়।

সাংবাদিক নেতারা এ ঘটনার দ্রুত বিচার দাবি করে প্রকৃত দোষীদের খুঁজে বের করার দাবি জানান।

সভায় বক্তব্য দেন বিএফইউজের সহ-সভাপতি শহীদ উল আলম, সিইউজের সভাপতি রিয়াজ হায়দার চৌধুরী, চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সভাপতি কলিম সরওয়ার, সিইউজে সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলী, প্রেসক্লাব সাধারণ সম্পাদক মহসিন চৌধুরী, সিইউজের সাবেক সভাপতি এম নাসিরুল হক, অঞ্জন কুমার সেন, মোস্তাক আহমদ, চট্টগ্রাম সাংবাদিক হাউজিং কোপারেটিভ সোসাইটির সভাপতি মঈনুদ্দিন কাদেরী শওকত, বিএফইউজের যুগ্ম মহাসচিব তপন চক্রবর্তী, প্রেসক্লাবের যুগ্ম সম্পাদক চৌধুরী ফরিদ, সিইউজের সহ-সভাপতি নিরুপম দাশগুপ্ত প্রমুখ।

গত ৬ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় নগরীর জামালখানে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে ঐক্যবদ্ধ সনাতনী সমাজের ব্যানারে কিছু উচ্ছৃঙ্খল যুবক হামলা চালায়। এসময় বেশ কয়েকজন কর্মরত সাংবাদিক আহত হন। এ ঘটনায় প্রেসক্লাবের যুগ্ম সম্পাদক চৌধুরী ফরিদ ও স্থায়ী সদস্য রমেন দাশগুপ্ত বাদি হয়ে কোতোয়ালী থানায় দুটি মামলা করেন।

সাংবাদিকদের করা মামলায় দ্রুত বিচার আইনের পরিবর্তে ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তার নির্দেশে ধারা পরিবর্তন করে নথিভুক্ত করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে চট্টগ্রামের সাংবাদিক সমাজ ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছে।


আরোও সংবাদ