আসামি পক্ষকে আগামী ১০ অক্টোবর সাক্ষ্য শেষ করার নির্দেশ

প্রকাশ:| বৃহস্পতিবার, ৩ অক্টোবর , ২০১৩ সময় ০৮:৫০ অপরাহ্ণ

দশ ট্রাক অস্ত্র মামলাদশ ট্রাক অস্ত্র মামলা
অবশেষে শেষ হতে চলছে চাঞ্চল্যকর দশ ট্রাক অস্ত্র মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষ্যগ্রহণ। রাষ্ট্রপক্ষ এ মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ করার আবেদন জমা দিলে আদালত আসামি পক্ষকে আগামী ১০ অক্টোবর পরবর্তী শুনানীর দিন সাক্ষ্য শেষ করার নির্দেশ দেন। চাঞ্চল্যকর এ মামলায় এই প্রথম কোনো আসামির আইনজীবীকে জেরার জন্য সময় বেঁধে দিলেন আদালত।

চট্টগ্রামের স্পেশাল ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক মহানগর দায়রা জজ এসএম মুজিবুর রহমানের আদালতে এ মামলার কার্যক্রম চলছে।

চট্টগ্রাম মহানগর পিপি অ্যাডভোকেট কামাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘আসামিপক্ষ বারবার অপ্রাসঙ্গিক জেরা করে বিচার বিলম্বিত করছেন। তাই আমরা বলেছি আমাদের আর কোনো সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণের প্রয়াজন নেই।’

পিপি তদন্ত কর্মকর্তার জেরা শেষ করার যুক্তি দিয়ে বলেন, ‘তদন্তকারী কর্মকর্তা ৩২ কার্যদিবস আদালতে এসেছেন। ১১ কার্যদিবস হরতালের কারণে কোর্ট বসেনি। ২০১১ সালের নভেম্বরে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়েছে। দুই বছর ধরে বিচার চলছে। এভাবে আর সম্ভব না। আজকেই (বৃহস্পতিবার) সাক্ষ্যগ্রহণ সমাপ্ত ঘোষণা করা হোক।’

এরপর আদালত রাষ্ট্রপক্ষের আবেদন আমলে নিয়ে আগামী ১০ অক্টোবর পরবর্তী শুনানীর দিন সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফরজামান বাবরের আইনজীবীর এক ঘণ্টা জেরার পর সাক্ষ্যগ্রহণ সমাপ্ত করার নির্দেশ দেন। রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হওয়া পর সাফাই সাক্ষ্য থাকলে সেগুলো গ্রহণ করা হবে এবং যুক্তিতর্ক অনুষ্ঠিত হবে বলে পিপি জানান।

বৃহস্পতিবার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির এএসপি মো. মনিরুজ্জামান চৌধুরীকে তৃতীয় দিনের মতো জেরা করেন বাবরের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আব্দুস সোবাহান তরফদার।

বাবরের আইনজীবীর বক্তব্যের এক পর্যায়ে বাবর আদালতের সামনে হাজির হয়ে বলেন, ‘আমি অসুস্থ। আমার জন্য আটটি মেডিকেল বোর্ড হয়েছে। আমার হসপিটালে থাকার কথা। তারপরও মামলা যাতে দ্রুত শেষ হয় সেজন্য আমি আদালতে আসি।’

এসময় বিচারক বলেন, ‘আপনার সময় নষ্ট করেছেন আপনার আইনজীবী।’ পরে বিচারক আগামী ১০ অক্টোবর এক ঘণ্টার মধ্যে জেরা শেষ করার শর্ত দিলে বাবরের আইনজীবী তা মেনে নেন। আদালত রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ করার আবেদন শুনানির জন্যও ওইদিন সময় নির্ধারণ করেন। এছাড়া ১০ অক্টোবর বাবরকে হাজির করতে হবে না বলেও আদেশ দেন।

আদালতের উদ্দেশ্যে বাবর বলেন, ‘এসব ঘটনার কিছু আমি জানিও না। অথচ আমাকে ৭২ দিন রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। আমার উপর অন্যায় হয়েছে, জুলুম হয়েছে। আল্লাহর ঘরে একদিন এর বিচার হবে। এর নাম রাজনীতি নয়, রাজনীতি এতো কঠিন নয়।’

এসময় মহানগর পিপি বাবরের বক্তব্য খণ্ডন করে বলেন, ‘আপনি এসব ঘটনার কিছু জানতেন না। কিন্তু একুশে আগস্টেও গ্রেনেড হামলার পর জজ মিয়া নাটক সাজানোর কথা তো জানতেন। দশ ট্রাক অস্ত্র মামলায় গরীব মজুর, শ্রমিকদের জড়ানো হয়েছিল কেন?’

উল্লেখ্য, ২০০৪ সালের ১ এপ্রিল রাষ্ট্রায়ত্ত সার কারখানা চিটাগং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেড (সিইউএফএল) জেটিঘাটে দশ ট্রাক অস্ত্রের চালানটি ধরা পড়ে। এ ঘটনায় কর্ণফুলী থানায় অস্ত্র আইনে ও চোরাচালানের অভিযোগে দু’টি মামলা দায়ের হয়।

সম্পূরক অভিযোগপত্র দাখিলের পর থেকে এ মামলায় অধিকতর তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান চৌধুরীসহ ৩০ জন সাক্ষ্য দিয়েছেন। জেরার সময় এ মামলায় বর্তমানে কারাগারে থাকা ১১ আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়।