আসাদ সরকার জিতে যাচ্ছে

প্রকাশ:| সোমবার, ২ ডিসেম্বর , ২০১৩ সময় ১১:২৬ অপরাহ্ণ

আসাদসিরিয়ার বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে জিততে যাচ্ছে আসাদ সরকার। দেশটিতে একজন বিদ্রোহী যোদ্ধাও বেঁচে থাকতে সিরিয়ার সরকারি বাহিনী যুদ্ধে থামবে না। শনিবার ইরান সফরে এসব কথা বলেন সিরিয়ার প্রধানমন্ত্রী ওয়ায়েল হালকি। তিনি আরও বলেন, সিরিয়ায় প্রায় তিন বছর ধরে চলমান গৃহযুদ্ধ অবসানের জন্য প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদকে সরে দাঁড়াতে বলে পশ্চিমা বিশ্ব। কিন্তু এ ব্যাপারে অনমনীয় মনোভাব দেখিয়েছেন প্রেসিডেন্ট আসাদ। হুমকি ও ভীতি প্রদর্শনের যুগ শেষ হয়ে গেছে, এটা আর কখনও ফিরে আসবে না। সিরিয়ার মাটিতে জয় ও সম্মানের যুগ শুরু হয়েছে বলেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী হালকি। সিরিয়ার গৃহযুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে জাতিসংঘের উদ্যোগে এবং যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার সহযোগিতায় ২২ জানুয়ারি জেনেভা-২ সম্মেলন শুরু হচ্ছে। সোমবার যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, শান্তি আলোচনার জন্য সিরিয়ার সরকারি এবং বিরোধী উভয় দলই এ সম্মেলনে যোগ দেয়ার কথা জানিয়েছে। তবে যুদ্ধক্ষেত্রে বিদ্রোহী যোদ্ধারা এ আলোচনা বয়কট করেছে। সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা এসএএনএ জানায়, ইরানের প্রথম ভাইস প্রেসিডেন্ট ইসাক জাহাঙ্গিরির সঙ্গে সাক্ষাতের সময় হালকি বলেন, সিরিয়া সরকার ওই অঞ্চলে একজন সন্ত্রাসীকেও থাকতে দেবে না। জবাবে জাহাঙ্গিরি বলেন, ইরানও সিরিয়ার সঙ্গে একই পক্ষে। শত্রুদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের সব পর্যায়ে ইরান সিরিয়াকে সমর্থন করবে। যুদ্ধে আসাদ বাহিনীকে সাহায্য করার জন্য ইরান সিরিয়ায় সৈন্য পাঠিয়েছে। সেই সঙ্গে লেবাননের হিজবুল্লাহ বাহিনী এবং ইরাকের শিয়া যোদ্ধারাও আসাদের পক্ষে যুদ্ধ করছে।

রাসায়নিক অস্ত্র ধ্বংসে মার্কিন সাহায্যের প্রস্তাব : যুক্তরাষ্ট্র্রে সিরিয়ার প্রাণঘাতী রাসায়নিক অস্ত্র ধ্বংসের প্রস্তাব দিয়েছে ওয়াশিংটন। দেশটি বলেছে, অগ্রাধিকার ভিত্তিতে মারাত্মক ৫০০ টন রাসায়নিক অস্ত্র ধ্বংস করে দিতে রাজি তারা। মার্কিন কোনো এক উপকূলে এটি ধ্বংস করা হতে পারে। সিরিয়ার রাসায়নিক অস্ত্র যে প্রক্রিয়ায় ধ্বংস করা হবে তার নাম হাইড্রোলসিস। এ প্রক্রিয়ায় রাসায়নিক অস্ত্রের মধ্যে পানি এবং অন্য একটি রাসায়নিকের মিশ্রণ ঢুকিয়ে দিয়ে বিনষ্ট করা হয়।

যুক্তরাষ্ট্র রাসায়নিক অস্ত্র ধ্বংসের কাজে যে অর্থ লাগবে, সেটাও দিতে রাজি হয়েছে। এ বছরের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে সিরিয়ার প্রধান রাসায়নিক অস্ত্র সম্ভার ধ্বংস সেখান থেকে সরিয়ে নেয়ার কথা। এর মানে হচ্ছে ওপিসিডব্লিউর কাছে আর মাত্র এক মাস সময় আছে এ কাজের জন্য। রাসায়নিক অস্ত্র ধ্বংসের পর বর্জ্য কোথায় ফেলা হবে তা নিয়ে অবশ্য বিতর্ক চলছে। সাগরতলে এ বর্জ্য পুঁতে ফেলার যে কথা বলা হচ্ছে, সে ব্যাপারে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে পরিবেশবাদী সংস্থাগুলো। বিবিসি, রয়টার্স আলজাজিরা।