কোরবানী ঈদের পূর্বে রাস্তা সংস্কার অনেকাংশে সমাপ্ত হবে

প্রকাশ:| রবিবার, ২০ আগস্ট , ২০১৭ সময় ০৫:৪৭ অপরাহ্ণ

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের ২৫ তম সাধারণ সভায় মেয়র

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচিত ৫ম পরিষদের ২৫ তম সাধারণ সভা ২০ আগস্ট রোববার, দুপুরে কে বি আবদুচ ছত্তার মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আলহাজ্ব আ জ ম নাছির উদ্দীন। সভায় নির্বাচিত পরিষদের সাধারণ ওয়ার্ড ও সংরক্ষিত ওয়ার্ড কাউন্সিলর, অফিসিয়্যাল কাউন্সিলর সহ সিটি কর্পোরেশনের বিভাগীয় প্রধানগণ উপস্থিত ছিলেন। চসিক এর ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিব এবং প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা ড. মুহম্মদ মুস্তাফিজুর রহমান এর উপস্থাপনায় অনুষ্ঠিত ২৫ তম সাধারণ সভার শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলোয়াত ও মোনাজাত করা হয়। সভায় সম্প্রতি বন্যায় নিহত এবং বিগত সাধারণ সভার পর থেকে ২৫ তম সাধারণ সভা পর্যন্ত সময়ে নগরীতে মৃত্যুবরণকারীদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করা হয়। এ ছাড়াও মোনাজাতে বন্যা, পাহাড় ধস ও প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতি সমবেদনা জানানো হয় এবং চট্টগ্রামসহ দেশ ও জাতির উন্নতি এবং সমৃদ্ধি কামনা করা হয়। সভায় বিগত ২৩ জুলাই অনুষ্ঠিত ২৪ তম সাধারণ সভার কার্যবিবরনী অনুমোদন, স্থায়ী কমিটি সমূহের কার্যবিবরনী আলোচনান্তে অনুমোদন করা হয়। ২৫তম সভার সভাপতি সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেন, নগরীর ৪১টি ওয়ার্ড এলাকার অলিগলি উপ গলি আলোকিত করার লক্ষ্যে ১ হাজার ১শত কিলোমিটার রাস্তা আলোকিত করার লক্ষ্যে প্রায় ৪৫৮ কোটি টাকার প্রকল্প মন্ত্রণালয়ে প্রেরণের বিষয়টি উল্লেখ করে বলেন, ১১২ কিলোমিটার সড়ক আলোকিত করার লক্ষ্যে ১১৬ কোটি টাকার একটি প্রকল্প একনেকে চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে। এ ছাড়াও ৬৬ কিলোমিটার সড়ক প্রায় সাড়ে ৫৩ কোটি টাকা ব্যয়ে আলোকায়নের কার্যাদেশ প্রদান করা হয়েছে। মেয়র বলেন, নগরী শতভাগ এলইডি লাইটিং এর আওতায় নিয়ে আসা হবে। রাস্তা সংস্কার প্রসঙ্গে মেয়র বলেন, আসন্ন কোরবানী ঈদের পূর্বে সংস্কার কাজ অনেকাংশে সমাপ্ত হয়ে যাবে। বাকী সংস্কার উন্নয়ন কাজ তরান্বিত করার জন্য তিনি সংশ্লিষ্টদের আন্তরিকতার সাথে কাজ করার আহ্বান জানান। মেয়র বলেন, ৭১৬ কোটি টাকার উন্নয়ন কাজের মধ্যে দরপত্র আহবান ও কার্যাদেশ প্রদানসহ পক্রিয়াধীন রয়েছে। তিনি বলেন, এ টাকার অধীনে সেকেন্ডারী পর্যায়ে সড়কের উন্নয়ন কাজ চলছে। প্রধান প্রধান সড়ক উন্নয়নে ৮৮৪ কোটি টাকার প্রকল্প একনেকে অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে। মেয়র বলেন, রাস্তাঘাট সংস্কার, রাস্তা পাকা করন এবং অর্ধপাকা রাস্তা পূর্ণাঙ্গ পাকা করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এছাড়াও ৪ টি পশু জবাই খানা নির্মাণ, আবর্জনা সংরক্ষনে আন্ডার গ্রাউন্ড কন্টেইনার ইয়ার্ড নির্মাণের লক্ষে প্রকল্প প্রণয়ন করা হয়েছে। মেয়র আসন্ন পবিত্র ঈদুল আযহার পশুর বর্জ্য বিকেল ৫ টার মধ্যে অপসারনের লক্ষে যাবতীয় কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে বলে সভাকে অবহিত করেন। প্রসঙ্গক্রমে মেয়র বলেন, স্থায়ী জলাবদ্ধতা নিরসনে সম্প্রতি একনেকে অনুমোদিত প্রকল্পের সমন্বয়ে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করবে। কাঁচা এছাড়াও স্থানীয় সরকার মন্ত্রনালয়, পানি উন্নয়ন মন্ত্রনালয় ও পূর্ত মন্ত্রনালয়, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন, সিডিএ ও চট্টগ্রাম ওয়াসা সম্মিলিত সিদ্ধান্তে চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা নিরসনে পাইলট প্রকল্প বাস্তবায়িত হবে। মেয়র চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন পরিচালিত পশু বাজার প্রসঙ্গে বলেন,সিটি কর্পোরেশনের সাগরিকা ও বিবির হাট এর স্থায়ী পশু বাজার ছাড়াও ঈদুল আযহা উপলক্ষে অস্থায়ীভাবে কর্ণফুলী, ষ্টীল মিল, কাটগড় , সল্টগোলা রেল ক্রসিং, কমল মহাজন হাট ও পোস্তারপাড় স্কুল মাঠে পশুর বাজার বসবে। মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন পরিচালিত পঞ্চ বার্ষিকী কর পূনঃমুল্যায়নে সার্বিক চিত্র তুলে ধরে বলেন, ৪ জন নাগরিক পঞ্চ বার্ষিকী কর পূনঃমূল্যায়ন বিষয়ে দায়েরকৃত মামলা উচ্চ আদালতে খারিজ হয়ে যাওয়ায় পূর্বের নির্ধারিত হার অনুযায়ী চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের কর পুনঃমূল্যায়নে দেখা যায় আবাসিক শ্রেনীতে ১ লক্ষ ৬৯ হাজার ৬ শত ৩৭ টি হোল্ডিং রয়েছে তন্মোধ্যে কাঁচা ঘরের হোল্ডিং সংখ্যা ৩০ হাজার ২৯ টি, কাঁচা ঘরের সংখ্যা ৩৪ হাজার ২ শত ৯২ টি, সেমিপাকা ঘরে হোল্ডিং সংখ্যা ৫৮ হাজার ৭ শত ১৬ টি, সেমিপাকা ঘরের সংখ্যা ১৭ হাজার ৯ শত ১৭, পাকা ঘরের হোল্ডিং সংখ্যা ৮০ হাজার ৮ শত ৯২ টি এবং পাকা ঘরের সংখ্যা ৮২ হাজার ৩ শত ২০ টি এছাড়াও বাণিজ্যিক হোল্ডিং সংখ্যা ৮ হাজার ৭ শত ৫০ টি , শিল্প কারখানার সংখ্যা ৮ শত ২৯ টি, মসজিদ ও মাদ্রাসার সংখ্যা ১ হাজার ২ শ ত ৭ টি, মন্দির, বিহার, পেগুড়া,গীর্জা ২২৯ টি, মুক্তিযোদ্ধা হোল্ডিং সংখ্যা ৩৩৭ টি এবং ইতোপূর্বে মওকুফ হোল্ডিং সংখ্যা ৪ হাজার ২ শত ২৭ টি সর্বমোট হোল্ডিং সংখ্যা ১ লক্ষ ৮৫ হাজার ২ শত ৪৮ টি। মেয়র বলেন, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন এলাকায় জাইকা, বিশ্ব ব্যাংক, চায়না সহ অনেক দাতা সংস্থা বিভিন্ন প্রকল্পে সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছে। সভায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪২ তম শাহাদাত বার্ষির্কী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন, জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসন যৌথভাবে শোকোর শক্তিতে রুখবো মাদক,দূর্ণীতি ও সন্ত্রাস শিরোনামে মানব প্রাচীর অনুষ্ঠানে নগরীর সকল শিক্ষার্থী, শিক্ষক এবং উল্লেখিত প্রশাসনের কর্মকর্তাবৃন্দ অংশগ্রহণ করে মানব প্রাচীর সফল করায় সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ জানান মেয়র। মেয়র আশা করেন নগরবাসীর সহযোগিতায় কোরবানীর বর্জ্য অপসারন, পরিবেশ বান্ধব নগরী এবং সবুজ নগরী গড়ার সকল কার্যক্রমে নগরবাসী তাদের সহযোগিতা ও সমর্থন অব্যাহত রাখবে। সভায় গৃহিত প্রস্তাবে সম্প্রতি ৪১ টি ওয়ার্ডে পঞ্চবার্ষিকী কর পূনঃমূল্যায়ন অনুমোদন, চসিক এর দোকান বরাদ্দের ক্ষেত্রে মূল্য নির্ধারন করে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রচার এবং লটারীর মাধ্যমে দোকান বরাদ্দ দেয়া, পবিত্র ঈদ উল আযহা উপলক্ষে নগরীর ৪১ টি ওয়ার্ডকে ৪ টি জোনে বিভক্ত করন, বর্জ্য অপসারনের কাজে নিয়োজিতদের ঈদের দিন খাদ্য সরবরাহ করা, খেলাধুলার উন্নয়ন, সৌন্দর্য বর্ধন কার্যক্রম জোরদার করা, ওয়ার্ড পর্য্যায়ে সিটি কর্পোরেশনের খালি জায়গায় উদ্যান স্থাপন, ওয়ার্ড পর্যায়ে কাচা ও অর্ধপাকা রাস্তা,ব্রিজ, কালভার্ট, ড্রেইন চিহ্নিত করে পাকা করার পরিকল্পনা প্রণয়ন ও পবিত্র ঈদ উল আযহা উপলক্ষে অবৈধভাবে গড়ে উঠা পশু বাজার উচ্ছেদ, মাদব ও জঙ্গী সংক্রান্ত বিষয়ে সচেতনতা মূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখা সহ নানা বিষয়ে সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়।