আসছে বৈশাখ সেজেছে চবি

প্রকাশ:| রবিবার, ১২ এপ্রিল , ২০১৫ সময় ০৯:২৭ অপরাহ্ণ

ctg2 (1)ক্যাম্পাসের চারিদিকে সবুজের সমারোহ। ছোট বড় সব বৃক্ষ নব পত্রপল্ল¬বে সেজেছে নবযৌবনে। আর কোকিলের মিষ্টি কুহু কুহু ডাক কিছু সময় পর পর মনে করিয়ে দিচ্ছে এখন বসন্ত। আর চারদিকে সাজ সাজ রব মনে করিয়ে দিচ্ছে আসছে বৈশাখ।

বসন্তকে বিদায় দিয়ে রাতের আঁধার কেটে ভোরের আলো ফুটবে, হয়তো গাছে গাছে শোনা যাবে পাখির কলতান। হয়তো বা না। তবুও মানুষ আনন্দে উদ্বেলিত হবে বৈশাখে। কারণ ঐ দিন খুশির দিন, নববর্ষের প্রথম দিন।

আনন্দ আয়োজনে, বৈশাখের রঙিন দিনে নিজেকে একটু রাঙিয়ে নিতে সবাই এখন প্রস্তুতি নিচ্ছে। সকালের খৈ-মুড়ি-মুড়কির সঙ্গে পান্তা-ইলিশ দিয়ে অতিথি আপ্যায়নের মধ্য দিয়েই হবে দিনের শুরু। পরনে থাকবে বর্ণিল নতুন পোশাক, চোখে মুখে আঁকিবুকি কিংবা মুখোশ। এবার কেন যেন এই বৈশাখের আবেদনটা একটু আলাদা।

একুশ শতকের যান্ত্রিকতার এই যুগে অনেকে কড়া রোদে ঘরের বাইরে যেতে সাহস দেখান না, এই বৈশাখ থেকে তাদেরও বাদ যাওয়ার সুযোগ নেই, সারাদিন চোখ থাকবে তাদের টেলিভিশনের পর্দায় বর্ণিল সাজের সব বৈশাখী আয়োজনের দিকে। ভিন্ন স্বাদ গন্ধ আর নতুন আয়োজনের অনেকে হয়তো খুঁজে পেতে চাইবেন নিজের ছেলেবেলার সেই সব প্রাণোচ্ছল দিনকে। সারা দিন ঘুরে ফিরে তারা বৈশাখী আয়োজনে একটু নজর দিতে ভুলবেন না।

বাংলা নববর্ষ উদযাপনে বহুমাত্রিক আয়োজন হয় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে। এরমধ্যে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে আয়োজিত বৈশাখী অনুষ্ঠানে রয়েছে বিশেষ সব আয়োজন।

নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে বরাবরের মতো এবারও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে দিনব্যাপী বর্ণাঢ়্য সব আয়োজন। পহেলা বৈশাখ উদযাপনের মূল আয়োজন থাকবে বিশ্ববিদ্যালয়ের জারুলতলায়। এ উপলক্ষ্যে পুরো ক্যাম্পাসকেই সাজানো হচ্ছে বর্ণিল সব সাজে।

ctg17চবির প্রক্টর ও মেলা কমিটির সদস্য সচিব সিরাজ উদ দৌলাহ বলেন, ‘এবারের বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, আদিবাসী ঐতিহ্য উপস্থাপন, ফ্যাশন শো ও মূকাভিনয়সহ ঐতিহ্যবাহী সব সংস্কৃতি উপস্থাপন করা হবে। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিল্পীদের পরিবেশনায় থাকবে মনোজ্ঞ সব সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।’

বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী পারিকা চাকমা বলেন, ‘সারা বছর পড়ালেখায় ব্যস্ত থাকি যার ফলে কোথাও বেড়ানো হয়না। ক্যাম্পাসে সব রঙিন আয়োজনে রং মেখে সং সেজে নিজেকে চেনাবো আর নতুন বাংলা বর্ষকে স্বাগত জানাবো।’

এদিকে চবির নববর্ষ উদযাপন উপলক্ষে শিক্ষার্থীদের মাঝে বিরাজ করছে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনা। এই নিয়ে চারুকলা ও বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থীরা কাটাচ্ছেন ব্যস্ত সময়। চারুকলা বিভাগের শিক্ষার্থীরা দিনরাত পরিশ্রম করে তৈরি করছেন রং-বেরং এর মুখোশ, বাঁশি, প্লেকার্ড, বাঘ, হাতি, মাছ ও ফেস্টুন।

বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থীরাও নববর্ষকে স্বাগত জানাতে হাতে নিয়েছে বিভিন্ন সব আয়োজন। থাকছে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের সাথে নিয়ে মঙ্গল শোভাযাত্রা।

বাংলা বিভাগের শিক্ষক মাখন চন্দ্র রায় বলেন, ‘প্রতিবারের মত এবারও রয়েছে বাংলা বিভাগের পক্ষ থেকে নানান সব আয়োজন। এরমধ্যে থাকছে সকালে শিক্ষার্থীদের নিয়ে প্রথম মঙ্গল শোভাযাত্রা। আরও থাকবে পান্থা ইলিশের ব্যবস্থা।’

আয়োজনের প্রধান সমন্বয়ক বিশ্ববিদ্যলয় উপাচার্য অধ্যাপক আনোয়ারুল আজিম আরিফ বলেন, ‘বাঙালী সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে টিকিয়ে রাখতে অতীতের ধারাবাহিকতায় এবারও আমরা পহেলা বৈশাখ উদযাপনের উদ্যোগ নিয়েছি। তাই বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে আয়োজন করা হয়েছে দিনব্যাপী বর্ণিল সব অনুষ্ঠানমালার।’

ctg3 (2)এদিকে পহেলা বৈশাখকে সামনে রেখে চবি প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা। এ ব্যাপারে হাটহাজারী থানার ওসি মোহাম্মদ ইসমাইল হোসেন বলেন, ‘পহেলা বৈশাখের আগে থেকেই ক্যাম্পাসে বাড়ানো হয়েছে বিভিন্ন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য। অনুষ্ঠানে যে কোন ধরণের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তৎপর রয়েছে।’

পহেলা বৈশাখের কর্মসূচিতে রয়েছে- সকাল নয়টায় বিশ্ববিদ্যালয় রেল স্টেশন ১নং গেইট চত্ত্বর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, ছাত্র-ছাত্রী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ অন্যান্যদের অংশগ্রহণে আনন্দ শোভাযাত্রা ও সকাল ১০টায় জারুল তলায় আলোচনা সভা ।

আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব ও কর্মসূচি উদ্বোধন করবেন অনুষ্ঠান আয়োজক কমিটির সভাপতি ও উপাচার্য অধ্যাপক আনোয়ারুল আজিম আরিফ। বক্তব্য রাখবেন- উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী ও রেজিস্ট্রার প্রকৌশলী আলমগীর চৌধুরীসহ শিক্ষক নেতারা।


আরোও সংবাদ