আশ্রয়শিবিরে রোহিঙ্গাদের পরিস্থিতিকে বেদনাদায়ক বললেন সিমন হেনশ

প্রকাশ:| বৃহস্পতিবার, ৯ নভেম্বর , ২০১৭ সময় ১০:৩০ অপরাহ্ণ

বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের পরিস্থিতিকে বেদনাদায়ক বলে অভিহিত করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের জনসংখ্যা, শরণার্থী ও অভিবাসন বিষয়ক ভারপ্রাপ্ত সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী সিমন হেনশ। তিনি সবেমাত্র মিয়ানমার ও বাংলাদেশে এক সপ্তাহের সফর শেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরেছেন। সেখানে ফিরে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের পরিস্থিতি সম্পর্কে ওই মন্তব্য করেন। উল্লেখ্য, সিমন হেনশ সম্প্রতি বাংলাদেশ ও মিয়ানমার সফরে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন একটি প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন। তার সঙ্গে ছিলেন ব্যুরো অব্ ডেমোক্রেসি, হিউম্যান রাইটস অ্যাল্ড লেবার’-এর উপ সহকারী মন্ত্রী স্কট বুশবি, ব্যুরো অব সাউথ অ্যান্ড সেন্ট্রাল এশিয়ান অ্যাফেয়ার্স-এর ভারপ্রাপ্ত ডেপুটি সহকারী মন্ত্রী টম ভাজদা ও ব্যুরো অব ইস্ট এশিয়ান অ্যান্ড প্যাসিফিক অ্যাফেয়ার্স বিষয়ক অফিস ডিরেক্টর প্যাট্রিসিয়ান মাহানি। সিমন হেনশ দেশে ফিরে গিয়ে বলেছেন, আশ্রয় শিবিরগুলোতে আমরা বেদনাদায়ক এক পরিস্থিতি প্রত্যক্ষ করেছি।

সেখানে শরণার্থী সঙ্কট সীমাহীন। ২৫ শে আগস্ট থেকে নৃশংসতার শিকার ও বাস্তুচ্যুত হয়ে কমপক্ষে ৬ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নিয়েছেন। তাদের অবস্থা অবর্ণনীয়। মানুষগুলো দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। সিমন হ্যানশয়ের ভাষায়, কাঁদতে কাঁদতে অনেক শরণার্থী আমাদেরকে বলেছেন, তাদের চোখের সামনে গ্রামের পর গ্রাম জ্বালিয়ে দিতে দেখেছেন। তাদের সামনে আত্মীয়দের হত্যা করতে দেখেছেন। কেউ কেউ বলেছেন, তারা যখন পালাচ্ছিলেন তখন পিছন থেকে তাদের ওপর গুলি করা হয়েছে। এসব বর্ণনা ধারণ করা ছিল কঠিন। এই মানসিক আঘাত সত্ত্বেও তাদের অনেকেই বার্মায় নিজেদের বাড়িঘরে ফিরতে চান। এক্ষেত্রে তাদের নিরাপত্তা, সুরক্ষা ও মানবাধিকার সুরক্ষা সুনিশ্চিত থাকতে হবে। এখানে উল্লেখ্য, মিয়ানমারের পুরনো নাম বার্মা। নামের পরিবর্তন হলেও যুক্তরাষ্ট্র দেশটিকে তিরস্কারার্থে বার্মা বলেই আখ্যায়িত করে। প্রতিনিধি দল প্রথমে মিয়ানমার সফরে যান। এরপর তারা আসেন বাংলাদেশে। সিমন হেনশ ও তার প্রতিনিধিরা মিয়ানমার সরকারের কর্মকর্তা ও রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সাক্ষাত করেন। এ সময়ে তারা মিয়ানমারের ভিতরেই বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের শিবির পরিদর্শন করেন। এ প্রসঙ্গে সিমন হেনশ বলেন, আমরা মিয়ানমার সরকারকে আইন শৃংখলা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করার আহ্বান জানিয়েছি। আহ্বান জানিয়েছি স্থানীয় মানুষগুলোকে সুরক্ষা দিতে। সব মানবাধিকার লঙ্ঘন ও নৃশংস নির্যাতনের অভিযোগ তদন্তের আহ্বান জানিয়েছি। এতে যারা দায়ী তাদের বিচার করার দাবি জানিয়েছি। সিমন হেনশ বলেন, রোহিঙ্গাদের ফেরত নিতে মিয়ানমার সরকার যে পরিকল্পনা নিয়েছে আমরা তাকে স্বাগত জানাই। যত দ্রুত সম্ভব এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়নে আমরা তাদেরকে উৎসাহ দিয়েছি। নিরাপদ পরিবেশ সৃষ্টির আহ্বান জানানো হয়েছে, যাতে বাস্তুচ্যুত, দেশত্যাগ করা এসব মানুষ স্বেচ্ছায় তাদের গ্রামে, দেশে ফিরতে পারেন। মিয়ানমার সফর শেষে সিমন হেনশ-এর প্রতিনিধিরা বাংলাদেশ সফর করেন। এ সময়ে বাংলাদেশ সরকারের কর্মকর্তা, আন্তর্জাতিক সংগঠন, এনজিও প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেন তারা। পরে কক্সবাজারে শরণার্থী শিবির পরিদর্শন করেন। এখানে বাংলাদেশ সরকার, বাংলাদেশের জনসাধারণ, শরণার্থী বিষয়ক জাতিসংঘের হাই কমিশনার, রেডক্রস, অর্গানাইজেশন ফর মাইগ্রেসন, বিশ্ব খাদ্য কমংসূচি, জাতিসংঘের শিশু তহবিলসহ মানবাধিকার বিষয়ক সব অংশীদারের প্রশংসা করেন তিনি। সিমন হেনশ বলেন, এ পরিস্থিতিতে আরো অনেক কাজ করতে হবে। এক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র এ সঙ্কটে আন্তর্জাতিক সহায়তা দিয়েছে। অন্য দাতাদেরও এগিয়ে আসা উচিত। তিনি বলেন, ‘যেসব রোহিঙ্গা  দেশে ফিরতে চায় তাদের প্রত্যাবর্তন কর্মসূচি শুরু করতে দৃশ্যত প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বার্মিজ সরকার। তবে তা এখন করলে তা হবে খুব আগেভাগে’। এক্ষেত্রে রোহিঙ্গাদের ফিরে যাওয়ার ক্ষেত্রে তিনি নিরাপদ পরিবেশ সৃষ্টির ওপর গুরুত্ব দেন। বলেন, শুধু এটা করলেই হবে না। একই সঙ্গে শরণার্থীদেরকে তাদের গ্রামে, দেশে, নিজেদের জমিতে ফিরতে দিতে হবে। গ্রামে তাদের যেসব বাড়ি পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে তা নির্মাণ করে দিতে হবে। আর সর্বোপরি প্রয়োজন হলো রাজনৈতিক পুনরেকত্রীকরণ। জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব কফি আনান কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছেন সিমন হেনশ। তিনি বলেছেন, রোহিঙ্গাদেরকে পূর্ণাঙ্গ নাগরিক অধিকার দিতে হবে। সমস্যা সমাধানে আসিয়ানভুক্ত দেশগুলোর সহযোগিতাও চান সিমন। তিনি মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসন মিয়ানমার সফর করবেন। এ সময় আরও অগ্রগতি হবে।