আল্লামা শফীর চিঠি ও তার সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সামরিক সচিবের গোপন বৈঠক

প্রকাশ:| শনিবার, ২৮ ডিসেম্বর , ২০১৩ সময় ১০:৩৮ অপরাহ্ণ

বিরোধী দলের ঢাকামুখী মার্চ ফর ডেমোক্রেসিকে সামনে রেখে হঠাৎ দেশবাসীর উদ্দেশে একটি খোলা চিঠি দিয়েছেন হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা শাহ আহমদ শফী।

চিঠিটি পাঠকদের জন্য হুবহু তুলে ধরা হলো-

প্রিয় দেশবাসী!

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ!

দেশ ও জাতির ভয়াবহ সঙ্কট উত্তরণ ও ঈমান ও ইসলামের হেফাজতের জন্য যার যার অবস্থানে থেকে দায়িত্বশীল ও কার্যকর ভূমিকা পালনের আকুতি নিয়ে আপনাদের উদ্দেশে আজ আমার এই খোলা চিঠি।

একদিকে রাজনীতিবিদদের একগুঁয়েমী, জেদ, রেষারেষি, প্রতিহিংসাপরায়ণ মনোভাবের কারণে দেশ আজ ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে, অন্যদিকে ইসলামবিদ্বেষী শক্তির সুপরিকল্পিত চক্রান্তের কবলে পড়ে দেশের অধিকাংশ মানুষের ইমান-আকিদাই শুধু আক্রান্ত নয়, দেশকে ইসলামশূন্য করার জন্য নানা ষড়যন্ত্রমূলক পদক্ষেপ একের পর এক বাস্তবায়ন চলছেই।

দেশ, জাতি ও ইসলামের এই চরম দুঃসময়ে দেশের আলেম-ওলামা থেকে শুরু করে কারোরই চুপ করে বসে থাকার সুযোগ নেই। এই অবস্থায় দেশপ্রেমিক ইমানদার জনতাসহ দেশের সর্বস্তরের মানুষ এগিয়ে আসতে হবে। বিরাজমান রাজনৈতিক ভয়াবহ সঙ্কটের শান্তিপূর্ণ সমাধান করতে না পারলে দেশ ও জাতির সর্বনাশ হয়ে যেতে পারে। মানুষের জানমালের আরো ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ছাড়াও দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বও হুমকির মুখে পড়তে পারে। অন্যদিকে ইসলামবিদ্বেষী শক্তির অপতৎপরতা রোধ, সংবিধানে আল্লাহর ওপর আস্থা ও বিশ্বাসের নীতি পুনঃস্থাপন, রাসূল (সা.) ও ইসলামের প্রতি কটূক্তিকারী নাস্তিক মুরতাদদের সর্বোচ্চ শাস্তির আইন পাসসহ হেফাজতের ১৩ দফা দাবি বাস্তবায়ন করতে পারলে এদেশে ইমান ইসলাম নিয়ে বেঁচে থাকাই কষ্টকর হয়ে দাঁড়াবে।

দেশে এক ভয়াবহ পরিস্থিতি বিরাজ করছে সচেতন দেশবাসী!
নিশ্চয় আপনারা অবগত আছেন, আজ দেশে চরম অশান্তি ও অস্বস্তিকর পরিস্থিতি বিরাজ করছে। দেশের মানুষের জানমালের সামান্যতম নিরাপত্তা নেই। রাস্তায় বের হয়ে মানুষ লাশ হয়ে বাড়ি ফিরছে। রাজপথে বোমা, পেট্রোল বোমায় পুড়ছে মানুষ। নির্বিচারে গাড়ি ভাঙচুর এবং জাতীয় সম্পদের ক্ষতিসাধন করা হচ্ছে। নাশকতা প্রতিরোধের নামে পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি নির্বিচারে গুলি করে পাখির মতো মানুষ মারছে। ১০ দিনে ১০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হওয়ার মতো ভয়াবহ নজিরবিহীন ঘটনা ঘটেছে।

যৌথবাহিনীর অভিযানের নামে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রতিবাদী লোকদের শুধু গণহারে গ্রপ্তার করেই ক্ষ্যান্ত হচ্ছে না; তাদের বাড়িঘরে পর্যন্ত ধবংসযজ্ঞ চালাচ্ছে। যৌথ বাহিনীর সাথে সরকারদলীয় লোকজনও অংশ নিয়ে প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দলের বাড়িঘরে হামলা, অগ্নিসংযোগ এমনকি বুলডোজার দিয়ে বাড়ি গুঁড়িয়ে দিচ্ছে।

মা-বোনদের ওপর পাশবিক নির্যাতনের অভিযোগও আসছে। দেশে সরকারি দল ছাড়া আর কেউ স্বাভাবিক কোনো কর্মসূচি পালন করতে পারছে না। রাজনৈতিক কর্মসূচি পালনে বিরোধীপক্ষকে এমনকি হেফাজতে ইসলামের নেতৃত্বে শান্তিপ্রিয় আলেম সমাজকে পর্যন্ত কোনো কর্মসূচিই পালন করতে দেয়া হচ্ছে না। বিরোধীদলের লাগাতার কর্মসূচি এবং সংঘাত-সংঘর্ষ ও ভীতিকর পরিস্থিতির কারণে দেশ দীর্ঘদিন ধরে প্রায় অচল। খেটে খাওয়া মানুষের আয়-রোজগার বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তারা না খেয়ে দিন কাটাচ্ছে। ব্যবসা বাণিজ্য বন্ধ হওয়ার পথে। অর্থনীতি ধবংসপ্রায়। আইন শৃঙ্খলার চরম অবনতি ঘটেছে। মানুষের দম বন্ধ হওয়ার মতো অবস্থা। এক কথায় দেশে এক ভয়াবহ পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

পরিস্থিতির জন্য দায়ী কে?
দেশের এই ভয়াবহ পরিস্থিতির জন্য মূলত আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকারই দায়ী। নির্বাচনকালীন সরকার নিয়েই দেশের এই সঙ্কট। আওয়ামী লীগ সরকার জনমত উপেক্ষা করে একতরফাভাবে সংবিধান সংশোধন করে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাদ দেয়ার কারণেই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। সরকার সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতার সুযোগ নিয়ে সংবিধানকে নিজেদের ইচ্ছামত পরিবর্তন করেছে। এখন সংবিধান রক্ষার দোহাই দিয়ে একদলীয় একটি প্রহসনের নির্বাচনের আয়োজন করতে যাচ্ছে। যাতে নির্বাচনের আগেই ১৫৪ জন সদস্য বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়ে গেছে।

দেশে বিদেশে কেউই এই নির্বাচনকে নির্বাচন হিসেবেই স্বীকৃতি দিচ্ছে না। সবাই একে তামাশার নির্বাচন বলছে। সবাই আলোচনার মাধ্যমে নির্বাচনকালীন সরকার প্রশ্নে সমাধান বের করে সবার অংশগ্রহণে নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য আহ্বান জানাচ্ছে। এই নিয়ে সংলাপ প্রশ্নে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করতেও আমরা দেখেছি। তারপরও শেষ পর্যন্ত জাতিসংঘ দূতের মধ্যস্থতায় আলোচনার সূত্রপাত হয়েছিল। কিন্তু সেই আলোচনাও ভেস্তে গেছে।

সরকার যেকোনো ভাবেই এই নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে বিরোধী দল নির্বাচনকে প্রতিহত করার ঘোষণা দিয়ে একের পর এক কর্মসূচি পালন করে যাচ্ছে। তফসিল অনুযায়ী ঘোষিত নির্বাচনের আর মাত্র কয়েক দিন বাকি। এদিকে সঙ্কট নিরসনে এখন আর কোনো উদ্যোগই আমরা দেখতে পাচ্ছি না। আমরা রাজনীতিবিদদের মধ্যে একগুঁয়েমী, জেদ, প্রতিহিংসা ও উসকানিমূলক বক্তব্য প্রদান করতে দেখছি। সরকার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারি বাহিনীর মাধ্যমে বিরোধীপক্ষের ওপর বল প্রয়োগের নীতি অবলম্বন করে পরিস্থিতিকে আরো জটিল করে তুলছে। এই অবস্থায় দেশের মানুষ চরম আতঙ্কিত এবং দেশের ভবিষ্যৎ নিয়েও শঙ্কিত।

ইসলামশূন্য করার চক্রান্তও একই সাথে চলছে
এই চরম অস্থিতিশীল অবস্থার পাশাপাশি দেশকে ইসলামশূন্য করা এবং দেশের মানুষের ইমান আকিদা ধ্বংস করার দেশি-বিদেশি অপতৎরতাও চলছে। মূলত আওয়ামী লীগ সরকারই তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পরিবর্তনের পাশাপাশি দেশের সংবিধান থেকে আল্লাহর ওপর আস্থা বাদ দিয়ে তদস্থলে ধর্মনিরপেক্ষতার নীতি যুক্ত করে দেশকে ধর্মহীন রাষ্ট্রে পরিণত করার পথ তৈরি করেছে। এর মধ্য দিয়ে দেশের ৯০ ভাগ মানুষের জন্য ইমানি সঙ্কট তৈরি করেছে। যার ফলে দেশে নাস্তিক-মুরতাদদের তৎপরতা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে গেছে। তারা দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের ইমান-আকিদার ওপর আঘাত হানছে। প্রিয় রাসূল (সা.) ও কুরআন-হাদীস সম্পর্কে অব্যাহতভাবে কটূক্তি করছে। নাস্তিকদের নেতৃত্বে শাহবাগে গড়ে ওঠা কথিত ‘গণজাগরণ মঞ্চ’ থেকে ইসলামবিদ্বেষী নানা দাবি ছাড়াও হিংসা বিদ্বেষ ছড়িয়ে সমাজকে কলুষিত করার অপচেষ্টা অব্যাহত আছে। আমরা শাহবাগে ইসলামের প্রতীক দাড়ি-টুপি, পাঞ্জাবীর প্রতি অবমাননা করতে দেখেছি। নারী-পুরুষের অবাধ মেলামেশার মতো অনৈতিক ও ইসলামবিরোধী কার্যকলাপ চলতে দেখেছি। আমরা বর্তমান সরকারকে এই ইসলামবিদ্বেষীদের কাজে সহায়তা করতে দেখেছি।

এখানেই শেষ নয়, ১৩ দফা ইমানি দাবিতে হেফাজতে ইসলামের নেতৃত্বে যখন রাজধানীর শাপলাচত্বরে অবস্থান কর্মসূচি চলছিল, তখন সরকার রাতের আঁধারে ঘুমন্ত আলেম-ওলামাদের ওপর ইতিহাসের বর্বরতম এক গণহত্যা চালিয়েছে। সরকার তারপর থেকে মূলত হেফাজতের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে হেফাজতকেও স্বাভাবিক কর্মসূচি পালন করতে দিচ্ছে না।

আলেম-ওলামাদের গ্রেপ্তার হয়রানি করা ছাড়াও তাদের বিরুদ্ধে কুৎসা রটনার মতো কাজও করা হচ্ছে। আমরা দেখতে পাচ্ছি, সরকার আগের মতোই শাহবাগী নাস্তিকদের মদদ দিয়ে যাচ্ছে। কোনো রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা মাঠে নামতে না পারলেও শাহবাগী হিসেবে পরিচিত গণজাগরণীদেরকে শাহবাগের রাস্তা বন্ধ করে দিয়ে অবস্থান করতে দেয়া হচ্ছে। তারা কূটনীতিকপাড়ায় গিয়ে পর্যন্ত মিছিল সমাবেশ করে আসছে। অন্যদিকে হেফাজতে ইসলাম দেশ জাতির সঙ্কট উত্তরণে এবং ১৩ দফা দাবিতে শাপলাচত্বরে গত ২৪ ডিসেম্বর মহাসমাবেশ করতে চাইলে সরকার করতে দেয়নি। সরকার ওলামা-মাশায়েখদের বিরুদ্ধে অপপ্রচারও চালাচ্ছে।

ওলামা-মাশায়েখের সাথে তথাকথিত জঙ্গিবাদকে সম্পর্কিত করে অপপ্রচার চালাতে আমরা দেখেছি। সরকার ঐতিহ্যবাহী কওমি শিক্ষাকে ধবংস করার জন্য ‘কওমি কর্তৃপক্ষ আইন’ নামে একটি আইন পাসেরও উদ্যোগ নিয়েছিল। তার উদ্দেশ্য ছিল কওমি মাদরাসাসমূহকে সরকারি নিয়ন্ত্রণে নেয়া। আমাদের প্রতিবাদের মুখে সেটা থেকে কিছুটা পিছু হটলেও সরকার সেটা থেকে সরে আসেনি। আমরা দেখতে পাচ্ছি, এদেশের আলেম-ওলামা ইসলামপন্থিদের ওপর সরকার নানাভাবে জুলুম-নির্যাতন চালাচ্ছে। ইসলামি রাজনীতি নিষিদ্ধ করার জন্যও সরকার নানা তৎপরতা চালাচ্ছে। সব মিলিয়ে আমরা ইসলামের বিরুদ্ধে সরকারের সুস্পষ্ট অবস্থান দেখতে পাচ্ছি যা একটি মুসলিম দেশের সরকারের কাছ থেকে মোটেও কাম্য ছিল না।

দেশের এই অবস্থা মেনে নেয়া যায় না
দেশে বর্তমানে যে অবস্থা বিরাজ করছে তা দেশের কোনো মানুষই মেনে নিতে পারে না। সাধারণ নাগরিক হিসেবে এদেশের আলেম ওলামারাও দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে ভীষণভাবে উদ্বিগ্ন ও আতঙ্কিত। সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা বিধান করা সরকারের দায়িত্ব। সরকার সেই নিরাপত্তা বিধানে সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ। বরং উল্টো সরকারের কারণেই মানুষের জানমালের ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটতে দেখছি আমরা। এটা দেশের প্রতিটি মানুষকে আতঙ্কিত করছে। বিরোধী পক্ষও অববরোধসহ নানা কর্মসূচির মাধ্যমে ধবংসাত্মক কার্যক্রমে লিপ্ত হচ্ছে বলে প্রতীয়মান হচ্ছে। তাদেরকে স্বাভাবিকভাবে সভা-সমাবেশ, রাস্তায় কর্মসূচি পালন করতে না দেয়ার কারণেই চোরাগোপ্তা মিছিল সমাবেশ ও ধ্বংসাত্মক কাজের দিকে সরকারই ঠেলে দিচ্ছে বলে আমরা মনে করি।

স্বাধীন দেশের নাগরিক হিসেবে এখানে সবাই নাগরিকঅধিকার ভোগ করবে এবং নিয়মতান্ত্রিক পন্থায় দেশ চলবে- এমনটাই হওয়ার কথা ছিল। এখানে ক্ষমতা আঁকড়ে থাকা বা ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে রাখার এই পরিস্থিতি আমরা বরদাশত করতে পারি না। আমরা দেশের এই অবস্থার দ্রুত পরিবর্তন চাই।

সরকার ও বিরোধী দলের প্রতি আহ্বান
আমরা সরকার ও বিরোধী দলকে অতি দ্রুত সমস্যার সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ নেয়ার অনুরোধ করছি। সময় দ্রুত পার হয়ে যাচ্ছে। যে নির্বাচন সরকার করতে যাচ্ছে সেটা নির্বাচন বলে কেউ স্বীকারই করছে না। ফলে নির্বাচনের নামে তামাশা বন্ধ করুন। এই নির্বাচনের তফসিল স্থগিত করুন। যেহেতু সংসদ বহাল আছে, আইন সংশোধন করতে হলে সংসদ ডেকে সংশোধন করুন। তারপর সেই সংসদ ভেঙে দিয়ে সব দলের অংশগ্রহণে গ্রহণযোগ্য ব্যবস্থার অধীনে নির্বাচন করুন। দেশ ও জাতিকে মুক্তি দিন। যদি তা না করেন, দেশের মানুষ আর এভাবে বসে বসে তামাশা দেখবে না। দেশের নাগরিক হিসেবে হেফাজতে ইসলামও বসে থাকবে না। সাধারণ মানুষকে সাথে নিয়ে হেফাজতে ইসলামও রাস্তায় নামতে বাধ্য হবে। তখন রাজনীতিবিদদের হয়তো কিছুই করার থাকবে না। সময় থাকতে আপনারা রাজনৈতিক সমস্যার সমাধান করুন, জাতিকে মুক্তি দিন।

ইসলাম বিদ্বেষ ও ১৩ দফা দাবি
হেফাজতে ইসলাম সংবিধানে আল্লাহর ওপর আস্থা ও বিশ্বাস সংবিধানে পুনঃস্থাপনসহ যে ১৩ দফা দাবি পেশ করেছে তা ইমানি দাবি। এই দাবি এদেশের ৯০ ভাগ মানুষের দাবি। এই দাবিতে আলেমরা রক্ত দিয়েছেন, শহীদ হয়েছেন, জুলুম নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এই দাবি মেনে নেয়ার জন্য আমরা আবারো অনুরোধ করছি। যে সরকারই ক্ষমতায় আসুক, আমাদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।

আমরা আলেম-ওলামা ও তৌহিদী জনতার ওপর জুলুম-নির্যাতন, গ্রেপ্তার-হয়রানি বন্ধ করার দাবি জানাচ্ছি। আমরা ইসলামবিদ্বেষী সকল তৎপরতা বিশেষ করে নাস্তিকরা যে ইসলাম, কোরআন, নবী-রাসূল সম্পর্কে কটূক্তি করছে তা বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া এবং কটূক্তিকারিদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির আইন পাস করার দাবি জানাচ্ছি।

চুপ করে বসে থাকার সুযোগ নেই
দেশে বর্তমানে যে অবস্থা বিরাজ করছে তাতে দেশের কোনো নাগরিকই চুপ করে বসে থাকতে পারে না। দেশের যে কোনো চরম মুহূর্তে অতীতেও আলেম সমাজ দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করেছে। এখনো আলেম সমাজ দেশের পরিস্থিতিতে ভীষণভাবে উদ্বিগ্ন। দেশ এক অনিবার্য মহাবিপদের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। সঙ্কট নিরসনে দেশি-বিদেশিদের আহ্বান অনুরোধে এখন পর্যন্ত কোনো ফলাফল বয়ে আনেনি। আমরা সরকার ও বিরোধী পক্ষের অনড় মনোভাব দেখতে পেয়েছি। মানুষের জানমালের ক্ষতি অব্যাহতভাবে চলছে।

সরকার তার ইচ্ছা অনুযায়ী নির্বাচন করতে গিয়ে শক্তি প্রয়োগ করছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে ব্যবহার করছে। সরকারের এমন মনোভাব সমস্যা সমাধানের চেয়ে সমস্যাকে আরো জটিল করে দেশকে আরো ভয়াবহ সংঘাতের দিকে নিয়ে যাবে বলেই আমরা আশঙ্কা করছি। যেহেতেু সরকার ক্ষমতায় সঙ্কট নিরসনে তাদের ভূমিকাই প্রধান। তারা এগিয়ে এলে এবং ছাড় দেয়ার মানসিকতা পোষণ করলে বিরোধীদলও ছাড় দেয়ার মানসিকতা নিয়ে সঙ্কট নিরসনে উদ্যোগী হবে বলে আমাদের বিশ্বাস। কিন্তু এখন আমরা সমস্যা সমাধানের কার্যকর উদ্যোগ দেখছি না।

আমরা ওলামা-মাশায়েখসহ দেশের সকল নাগরিককে দেশের বিদ্যমান সমস্যা সমাধানে এবং এদেশের ৯০ ভাগ মানুষের ইমান-আকিদা রক্ষায় যার যার অবস্থানে থেকে এগিয়ে এসে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহবান জানাচ্ছি। তৌহিদী জনতাকে ইমান, ইসলাম রক্ষার আন্দোলনকে আরো বলিষ্ঠভাবে এগিয়ে নেয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।

আল্লাহ সকলের সহায় হোন এবং সঠিক বুঝ দান করুন। আমিন।

শফীর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সামরিক সচিবের গোপন বৈঠক
হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির মাওলানা শাহ আহমদ শফীর সঙ্গে আজ শনিবার প্রধানমন্ত্রীর সামরিক সচিব বৈঠক করেছেন। হেফাজতের কেন্দ্রীয় কার্যালয় চট্টগ্রামের হাটহাজারীর দারুল উলুম মঈনুল ইসলাম মাদ্রাসায় এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

হেফাজত সূত্র জানায়, বেলা ১১টায় প্রধানমন্ত্রীর সামরিক সচিব মেজর জেনারেল জয়নাল আবেদীন হাটহাজারী মাদ্রাসায় আসেন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক এম এ সালাম। তাঁরা দুজন শাহ শফীর সঙ্গে তাঁর দপ্তরে প্রায় দুই ঘণ্টা বৈঠক করেন।
বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন হেফাজতের মহাসচিব জুনায়েদ বাবুনগরী, কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক আনাছ মাদানী, প্রেস সচিব মাওলানা মুনির আহমদ, হেফাজতের আমিরের একান্ত সচিব মাওলানা শফী। বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর সামরিক সচিব হাটহাজারী মাদ্রাসার নির্মাণাধীন জামে মসজিদের কাজ পরিদর্শন করেন।

বৈঠকে উপস্থিত থাকা হেফাজতের যুগ্মমহাসচিব মাওলানা মঈনউদ্দীন রুহী উল্লেখিত হেফাজত নেতাদের উপস্থিতির কথা নিশ্চিত করেছেন। আল্লামা শফীর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সামরিক সচিব ও চট্টগ্রাম জেলা পরিষদ প্রশাসকের সাক্ষাৎ করার কথাও তিনি স্বীকার করেন।

বৈঠকে আলোচনার বিষয় সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘মার্চ ফর ডেমোক্রেসি বা ঢাকা অভিমুখী যাত্রায় হেফাজতের সঙ্গে সম্পৃক্ত ইসলামি দলগুলো যাতে অংশগ্রহণ না করে সে জন্য তাদেরকে নিরুৎসাহিত করতে আমিরকে অনুরোধ জানিয়েছেন তারা। তাদের অনুরোধের জবাবে আমির সাহেব বলেছেন, হেফাজত সমর্থিত ইসলামি দল অংশগ্রহণ করা না করা তাদের নিজস্ব ব্যাপার। বৈঠক শেষে প্রতিনিধি দলটি হাটহাজারী মাদরাসার নির্মাণাধীন জামে মসজিদের কাজ পরিদর্শন করেন।’

এ ব্যাপারে উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জেলা পরিষদ প্রশাসক এমএ সালামের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি।


আরোও সংবাদ