আলোচনার মাধ্যমে নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টির আহ্বান খালেদার

প্রকাশ:| বুধবার, ১৬ অক্টোবর , ২০১৩ সময় ০৩:৫৯ অপরাহ্ণ

আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টির জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির চেয়ারপারসন ও বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়া। তিনি আবারও বলেন, একদলীয় সরকারের অধীনে একতরফা নির্বাচন হতে দেওয়া হবে না।

রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আজ বুধবার বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক, রাজনীতিবিদ, সুশীল সমাজসহ বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন খালেদা জিয়া। এ সময় তিনি সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।

সরকারের উদ্দেশে খালেদা জিয়া বলেন, ‘আমরা শান্তি চাই। অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন চাই। এখনো সময় আছে, আসুন, আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টি করি।’

একতরফা নির্বাচন প্রতিহত করার ঘোষণা দিয়ে খালেদা জিয়া জানান, একতরফা নির্বাচন প্রতিহত করার লক্ষ্যে কেন্দ্রে কেন্দ্রে সংগ্রাম কমিটি গঠনের কাজ শুরু হয়েছে।

সাংবাদিকেরা জানতে চান, ২৪ অক্টোবরের পর বিএনপির অবস্থান কী হবে? জবাবে খালেদা জিয়া জানান, পরদিন বিএনপির সমাবেশ রয়েছে। আরেক প্রশ্নের জবাবে খালেদা জিয়া বলেন, দেশ কারও একার নয়। সমাবেশ করতে দিতে হবে।

খালেদা জিয়া বলেন, ঈদ আনন্দের দিন। কিন্তু মানুষের মধ্যে আনন্দের ছাপ নেই। কারণ দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, মানুষের অর্থনীতির অবস্থা ভালো নয়। মানুষ উদ্বিগ্ন। কী হবে, কী হতে যাচ্ছে। তিনি বলেন, ‘আমরা চাই, অবাধ, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচন। এর জন্য প্রয়োজন নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন। নাম যা-ই হোক, এর রূপরেখা হতে হবে নির্দলীয়।’
খালেদা
সরকার একতরফা নির্বাচন করতে একতরফাভাবে সংবিধান সংশোধন করেছে দাবি করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ক্ষমতায় থাকতে গায়ের জোরে, জেদের বশে সরকার একতরফা নির্বাচন করতে চায়। একতরফা নির্বাচন দেশে-বিদেশে গ্রহণযোগ্য হবে না। সে নির্বাচনে ১৮ দল অংশ নেবে না। সরকার ভালো কাজ করলে নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন দিয়ে নিজেদের জনপ্রিয়তা যাচাইয়ের আহ্বান জানান তিনি।

বিরোধীদলীয় নেতা অভিযোগ করেন, প্রধানমন্ত্রী জনপ্রতিনিধত্ব আদেশ-আরপিও লঙ্ঘন করে, রাষ্ট্রীয়যন্ত্র ব্যবহার করে নির্বাচনী প্রচার চালাচ্ছেন। সংসদ বহাল রেখে নির্বাচন করলে সমান সুযোগ নিশ্চিত হবে না। তিনি বলেন, সরকারের কথার ঠিক নেই। তারা একেক বার একেক কথা বলে। আগে বলেছে, ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত সংসদ চলবে। এখন বলছে, এর পরও চলবে।

ছাত্রলীগ-যুবলীগ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে অভিযোগ করে বিএনপির চেয়ারপারসন বলেন, এবারের কোরবানিতেও গরু ব্যবসায়ীদের গরু আনতে পথে পথে চাঁদা দিতে হয়েছে।

আওয়ামী লীগ সরকার অর্থনীতি, পোশাকশিল্প ধ্বংস করেছে অভিযোগ করে খালেদা জিয়া বলেন, দেশ দুর্নীতিতে ছেয়ে গেছে। বিএনপি ক্ষমতায় গেলে শক্ত পদক্ষেপের মাধ্যমে দেশকে ‘ট্র্যাকে’ ফিরিয়ে আনা হবে।

এর আগে ৪২টি দেশের কূটনীতিক খালেদা জিয়ার সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। এ ছাড়া প্রবীণ আইনজীবী রফিক-উল হক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য মনিরুজ্জামান মিয়া, এমাজউদ্দিন আহমদ, সাবেক সহ-উপাচার্য আ ফ ম ইউসুফ হায়দার প্রমুখ তাঁর সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।

শুভেচ্ছা বিনিময়কালে খালেদা জিয়ার সঙ্গে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মাহবুবুর রহমান, আ স ম হান্নান শাহ, এম কে আনোয়ার, জমির উদ্দিন সরকার, রফিকুল ইসলাম মিয়া, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।