আলোচনার বিকল্প দেখছেন না সাবেক উপাচার্যরা

প্রকাশ:| শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি , ২০১৫ সময় ১১:১৭ অপরাহ্ণ

চলমান রাজনৈতিক সঙ্কট নিরসনে আলোচনা ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের বিকল্প দেখছেন না পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্যরা। মানবাধিকার ও উন্নয়ন সংস্থা ও জাতিসংঘসহ বিশ্বের বিভিন্ন রাষ্ট্রের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করে শনিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এমন মত প্রকাশ করেছেন তারা।

বিবৃতিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্যরা বলেন, ‘দেশে গুম, খুন, অপহরণ, সহিংসতা, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, নির্বিচারে গণগ্রেপ্তারসহ অন্যায় অত্যাচারে দেশ ছেয়ে গেছে। ৫ জানুয়ারি কথিত নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশে অরাজক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। অবৈধ নির্বাচনকে বর্তমান সরকারের পক্ষ থেকে নিয়মরক্ষার নির্বাচন বলা হলেও তারা সে কথা ভুলে গেছে। এখন তারা আরো পাঁচ বছর ক্ষমতায় থাকার চক্রান্ত করছে।’

দেশ এখন পুলিশি রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে মন্তব্য করে তারা বলেন, ‘আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর কিছু উচ্চাভিলাসী, সুবিধাভোগী, দুর্নীতিপরায়ন ও দলবাজ কর্মকর্তাদের দিয়ে আইন শৃঙ্খলা রক্ষার কথা বলে সাধারণ জনগণকে গুম, খুন, অপহরণ, সহিংসতা, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড চালানো হচ্ছে। হাজার হাজার মানুষকে গুলি করে পঙ্গু করা হয়েছে। গণপিটুনির নামে গুলি করে মানুষ হত্যা আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর এখন নতুন কৌশল।’

বিবৃতিতে আরো বলা হয়, ‘গাড়িতে পেট্রোলবোমা মেরে বিভিন্ন জায়গায় পুলিশের হাতে ধরা পড়ছে সরকার দলীয় ক্যাডাররা। অথচ এসব ঘটনায় গ্রেপ্তার করা হচ্ছে ২০ দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ জনগণকে। বাসা থেকে ধরে নিয়ে যাওয়ার দুই দিন পর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি জাকির হোসেন ও সহ-সাধারণ সম্পাদককে পেট্রোলবোমাসহ আটকের সাজানো সাংবাদিক সম্মেলন করেছে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী।’

আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে দেশের কোনো মানুষ এখন নিরাপদ নয় উল্লেখ করে‍ উপাচার্যরা ওই বিবৃতিতে বলেন, ‘মাহমুদুর রহমান মান্নাকে গভীর রাতে আত্মীয়ের বাসা থেকে ধরে নিয়ে যাওয়ার পর ডিএমপি প্রেস ব্রিফিং করে জানায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। কিন্তু এক দিন পর আবারো সংবাদ সম্মেলন করে মান্নার গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।’

এমন কি বর্তমান পরিস্থিতিতে সরকার দিশেহারা হয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে গ্রেপ্তারে হীন চক্রান্তে লিপ্ত হয়েছে বলেও বিবৃতিতে মন্তব্য করা হয়।

বিবৃতিতে তারা বলেন, ‘অবৈধ সরকারকে জনগণ আর ক্ষমতায় দেখতে চায় না। দেশের মানুষ তাদের ভোটাধিকার ফিরে পেতে চায়। জনগণ এখন একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন চায়।’

বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আনোয়ারউল্লাহ চৌধুরী, অধ্যাপক ড. খন্দকার মোস্তাহিদুর রহমান (জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়), অধ্যাপক ড. খলিলুর রহমান (মওলানা ভাসানী বিশ্ববিদ্যালয়), অধ্যাপক ড. শাহ মো. ফারুক (বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়), অধ্যাপক ড. উমর ফারুক (শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়) অধ্যাপক ড. এ এস এম ফায়েজ (ঢাবি), অধ্যাপক ডা. তাহির (বিএসএমএমইউ), অধ্যাপক ড. আবদুল লতিফ মাসুম (বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়), অধ্যাপক ড. মোস্তাফিজুর রহমান (হাজী দানেশ বিশ্ববিদ্যালয়), অধ্যাপক ড. আ ফ ম ইউসুফ হায়দার (উপ-উপচিার্য-ঢাবি), অধ্যাপক ডা. আব্দুল মান্নান মিয়া (উপ-উপাচার্য-বিএসএমএমইউ)।