আলুর দাম মারাত্মকভাবে কমে যাওয়ায় কৃষকেরা ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন

প্রকাশ:| মঙ্গলবার, ১১ ফেব্রুয়ারি , ২০১৪ সময় ১১:৩৭ অপরাহ্ণ

আলুর দাম মারাত্মকভাবে কমে যাওয়ায় কৃষকেরা ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন।

পাইকারি বাজারে কৃষকেরা গড়ে প্রতিকেজি আলু বিক্রি করছেন মাত্র ১ থেকে ২ টাকা দরে, যেখানে তাদের উৎপাদন খরচই রয়েছে ৫ থেকে ৬ টাকা।ব্যবসায়ীরা বলছেন, অতিরিক্ত সরবরাহের কারণেই আলুর বাজারদর এতটা কমে গেছে, যার ফলে তারাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

জয়পুরহাটের আলুচাষী খায়রুল ইসলাম এ মৌসুমে প্রতি বিঘায় ১০,০০০ টাকারও বেশী খরচ করে আলুচাষ করেছেন। কিন্তু বিক্রি করতে গিয়ে তিনি পরিবহণ খরচ বাদ দিয়ে মনপ্রতি দাম পেয়েছেন মাত্র ৪২ টাকা। অর্থাৎ, কেজিপ্রতি ১ টাকার চেয়ে সামান্য বেশী।

মি. ইসলাম বলেন, কেজিপ্রতি প্রায় ৪ থেকে ৫ টাকা খরচ করে এবছর বড় ধরণের ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়েছে তাকে।”এই এলাকায় যারা আলু আবাদ করছে, সবার এখন মাথায় হাত। আলু বাজার পর্যন্ত নেয়ার খরচ করে আর কিছুই থাকে না।”

মি. ইসলামের মতো সারা বাংলাদেশে আলুচাষীদেরই একই অবস্থা।

মুন্সীগঞ্জ, জয়পুরহাটসহ বাংলাদেশের বেশ কয়েকটি জেলায় প্রচুর পরিমাণে আলুর চাষ হয়। আর কৃষি বিভাগের হিসেবে, প্রতিবছর আলু চাষ করেন প্রায় ৮০ লাখ কৃষক। যাদের প্রায় সবাই এবার ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

কৃষকদের মতো পাইকারি ব্যবসায়ীরাও বলছেন, এত কম দামে আলু কিনে তারাও লোকসানে পড়ছেন।

প্রতিমণ আলু ৭০ থেকে ৮০ টাকা দামে কিনে ঢাকার পাইকারী ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করছেন ৩০০ থেকে ৩৫০ দামে। পরিবহণ খরচসহ তাদের মোট যে খরচ হচ্ছে, তাতে বিপুল পরিমাণ লোকসান গুনতে হচ্ছে তাদেরও।
হরতাল-অবরোধ

জয়পুরহাটের জামালগঞ্জ বাজারের একজন ব্যবসায়ী হেলাল উদ্দিন বলছিলেন, গতবছর গড়ে প্রায় একহাজার টাকা মণে আলু কিনেছিলেন তিনি এবং লাভও হয়েছিল।

কিন্তু এবছর সরবরাহ বেশী থাকায় নূন্যতম দামে আলু কিনেও তারা লোকসানে পড়ছেন।

“মাঝখানে দুই মাস হরতাল-অবরোধের কারণে অনেক কৃষক ফসল ওঠায়নি। এখন সরবরাহ হয়ে গেছে বেশী আর দাম হয়ে গেছে কম।”

“এখন আমাদের কৃষি অনেক ভালো অবস্থায় রয়েছে, এটা ধরে রাখতে চাইলে প্রতিটি জিনিসে একটি নিয়ম-শৃঙ্খলা আসা দরকার।”

শাইখ সিরাজ

আলুর দামের এ বেহাল অবস্থার কারণে ক্ষুব্দ্ধ কৃষকেরা প্রতিবাদও করেছেন। দিনাজপুরে রাস্তায় আলু ফেলে রাস্তা অবরোধও করেছেন তারা।

তবে সরকার যেহেতু আলু মজুদ করে না, সেহেতু আলুর দাম নিয়ন্ত্রণে সরকারের সরাসরি ভূমিকাও নেই।সংসদে কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরীও এমু্হুর্তে আলুতে ভর্তুকি দেবার সম্ভাবনাও নাকচ করে দিয়েছেন।

কৃষক মি. ইসলাম বলছিলেন, ক্ষতি পুষিয়ে নেবার জন্য পরবর্তী ইরির মৌসুমে যদি তাদের সার এবং বীজ কম দামে দেয়া হয়, তবে তারা হয়তো ক্ষতি কিছুটা পুষিয়ে উঠতে পারেন।

তবে কৃষি গবেষক এবং গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব শাইখ সিরাজ বলছিলেন, সরকারীভাবে আলু উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ঠিক না থাকায় এ সমস্যাটা বেশী দেখা দিচ্ছে।

“প্রথমেই লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করা প্রয়োজন যে, আমাদের কি পরিমাণ আলু লাগবে। এখন আমাদের কৃষি অনেক ভালো অবস্থায় রয়েছে। এ অবস্থাটা ধরে রাখতে চাইলে প্রতিটি জিনিসে একটি নিয়ম-শৃঙ্খলা আসা দরকার। নতুবা এধরণের ঘটনা হতেই থাকবে।”

আলুর লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করার পাশাপাশি কোল্ড স্টোরেজ বা হিমাগারের সংখ্যা বৃদ্ধির উদ্যোগও নেয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন শাইখ সিরাজ।
সূত্র-বিবিসি


আরোও সংবাদ