আলীকদমে স্কুলছাত্রী ধর্ষনে গ্রীন হিলের সংবাদ সম্মেলন

প্রকাশ:| রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর , ২০১৫ সময় ০৯:০৬ অপরাহ্ণ

গ্রীন হিল
বি,এম হাবিব উল্লাহ, চকরিয়া প্রতিনিধি-
বান্দরবানের আলীকদমে ধর্ষিত একস্কুল ছাত্রীকে আইনি ও মানবিক সাহায্যার্থে সংবাদ সম্মেলন করা হয়েছে। রবিবার বিকেলে গ্রীন হিল কার্যালয়ে ধর্ষিতার পক্ষে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য দেন গ্রীন হিলের ‘শিখা’ প্রকল্প ব্যবস্থাপক এডভোকেট আহমেদ তাসনিম আলম। এ সময় ধর্ষিতার মা, ধর্ষিতা তার সন্তানসহ উপস্থিত ছিলেন। লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, বান্দরবানের আলীকদমে নয়াপাড়ায় মৃত আহামদ হোসেনের কিশোরী কন্যা স্থানীয় একটি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্রী ছিল। এ ছাত্রীটির একমাত্র অভিভাবক ছিলেন বিধবা মা ছিরলোক বেগম (৪২)। দিনমজুর ছিরলোক বেগমের একই গ্রামে একটি বসত ভিটা ছিল। স্থানীয় মোঃ আনোয়ারের ছেলে শামশুল আলম (৩৫) বিধবা ছিরলোক বেগমকে প্রলোভন দিয়ে তার বসতভিটাটি ১৫ হাজার টাকায় বিক্রি করায়। বসত ভিটা বিক্রিলব্ধ ১৫ হাজার টাকা শামশুল হাতিয়ে নেয়। বাড়ি ভিটা হারা ছিরলোক বেগম ও তার স্কুলপড়ুয়া মেয়ের অসহায়ত্বের সুযোগে শামশুল আলম মা-মেয়েকে তার বাড়িতেই রাখে। ছাত্রীর দিনমজুর মা কাজের সন্ধানে বাইরে গেলে লম্পট শামশুল আলম সুযোগ নিয়ে ২০১৩ সালের ডিসেম্বর মাসে কয়েকদফা ধর্ষণ করে।

সংবাদ সম্মেলনের ধর্ষিতা মা জানান, ‘শামশুল আলম আমার ভাতিজা। সে বিয়ের প্রলোভন দিয়ে আমার মেয়েকে ধর্ষণ করে। গতবছরের ২৫ আগস্টে আমার মেয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একটি ছেলে সন্তানের জন্ম দেয়।’ বক্তব্যে এডভোটেক আহমেদ তাসনিম আলম আরো জানান, এ ঘটনায় আলীকদম থানায় মামলা নং- ৮, তারিখ- ২৫/০৪/২০১৪ ইং রুজু হয়। পরে পুলিশ বিজ্ঞ আদালতে চার্জশীটও প্রদান করেন। এ পর্যন্ত অভিযুক্ত আসামী গ্রেফতার হয়নি। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ধর্ষণের পর ছাত্রীটি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে ধর্ষক শামশুল আলম মা-মেয়েকে তার ঘর থেকে বের করে দেয়। পরে জনৈক ব্যক্তি গোয়াল ঘরে মা-মেয়ে মানবেতর জীবন-যাপন করতে বাধ্য হয়। তাদের থাকার জন্য কোন নিজস্ব ঘর নেই। বর্তমানে তারা নয়াপাড়া গ্রামের দিনমজুর রফিকুল ইসলামের বাড়িতে আশ্রিতা হিসেবে আছেন। অন্তঃস্বত্ত্বা ও সন্তান প্রসবের পর স্কুল ছাত্রীটির পড়ালেখারও ইতি ঘটেছে। মা-মেয়ে ও ভূমিষ্ট সন্তানের খোরপোষ ও দেখভাল করার উপযুক্ত কোন অভিভাবক নেই এ পরিবারটির। মামলা হলেও পরবর্তী আইনি কার্যক্রম চালাতে তারা অক্ষম। এ অবস্থায় গ্রীন হিল-শিখা প্রকল্প স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তিদের অবহেলিত ও আইনি সেবা বঞ্চিত এ স্কুলছাত্রীটিকে সহায়তার হাত বাড়াতে আহ্বান জানান।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ‘গ্রীন হিল-শিখা প্রকল্প সমাজের হত-দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে বিনামূল্যে আইনি সহায়তা প্রদান, প্রথাগত ও প্রাতিষ্ঠানিক বিচার ব্যবস্থার মাধ্যমে ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা করতে কাজ করে যাচ্ছে।