আলহাজ্ব সুফি মিজানুর রহমান

প্রকাশ:| শনিবার, ১২ মার্চ , ২০১৬ সময় ১০:২৮ অপরাহ্ণ

শুভ জন্মদিন
আলহাজ্ব সুফি মিজানুর রহমান

সুফি মিজানুর রহমানআজ ১২ মার্চ দেশের অন্যতম শিল্প গ্রুপ পি এইচ পি পরিবারের প্রতিষ্ঠাতা ও বর্তমান চেয়ারম্যান আলহাজ্ব সুফি মিজানুর রহমান এর জন্মদিন। তাঁর জন্মদিনে নিউজচিটাগাং পরিবারের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন।

১০০ টাকা বেতনে জুট মিলে চাকরি করতেন তিনি। আর এখন একশ’ শত লোকের চাকরিদাতা। অর্থাৎ ১০ হাজার লোক কাজ করছেন তার প্রতিষ্ঠানে। এরমধ্যে পেরিয়ে গেছে অনেক বছর। আজ দেশের শীর্ষ শিল্প মালিকদের একজন তিনি। তিনি মোহাম্মদ মিজানুর রহমান। সবাই তাকে সুফী মিজান বলেই চিনেন। পিএইচপি গ্রুপের চেয়ারম্যন। ইংরেজী পি মানে পিস, এইচ মানে হ্যাপিনেস, আর পি মানে প্রসপারিটি। যার বাংলা অর্থ শান্তি, সুখ ও সমৃদ্ধির ছায়া। সত্যিই তার জীবনে এখন সুখ আর সুখ। কিন্তু একদিন এ সুখ ছিল না। ছিল অজানা অন্ধকার। এই অন্ধকার ঠেলেই তিনি আজ আলোর দিশারি। তার ধ্যানে জ্ঞানে শুধু কাজ আর কাজ। আর তাই দেখা মাত্রই গড়গড়িয়ে বললেন, শুধু চাই কাজ করে যেতে। মানুষের উপকার করতে। দেশের জন্য কিছু করতে পারলে ভাল লাগে। বহু লোক এখন আমার প্রতিষ্ঠানে কাজ করে। তাদের দেখে পুরনো স্মৃতি মনে পড়ে। একদিন আমিও তাদের কাতারে ছিলাম।
একটু থামলেন তিনি। তারপর দেয়ালে টাঙানো একটি ছবির দিকে তাকিয়ে থাকেন মিনিট কয়েক। পরে আবার বলেন, ‘কাজের প্রতি নিষ্ঠা থাকলে যেকোন মানুষ একদিন নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারবে। অন্তত আমি তাই মনে করি। পরিশ্রম করলে আজ না হোক, কাল ঠিকই সাফল্য ধরা দেবে। আমার সন্তানদেরও আমি এসব কথা বলি। হয়তো তারা সেই কারণে আমাকে অনুসরণ করছে। প্রতিষ্ঠা পাওয়ার চেষ্টা করে যাচ্ছে নিরলসভাবে।’
শূণ্য থেকে অন্যতম ব্যবসায়ী হওয়ার গল্প বলছিলেন দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্প প্রতিষ্ঠান পিএইচপি গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মিজানুর রহমান। যাকে লোকজন সুফী মিজান নামেই চেনেন সর্বত্র। অক্লান্ত পরিশ্রম, সততা ও আর মেধার সমন্বয় ঘটিয়ে কিভাবে সমাজে প্রতিষ্ঠিত হওয়া যায় তার চমৎকার নজির এই ব্যক্তিটি সিনেমার কাহিনীর মতো।
আপনার বয়স এখন কত চলছে? প্রশ্ন করতেই হাসি দিলেন তিনি। বললেন, ‘কেন বয়সের ভারে বেঁধে ফেলতে চাও নাকি আমাকে। ১৯৬৪ সালে ইন্টারমিডিয়েটে পড়তাম। হিসেবে করে নাও। প্রতিষ্ঠানটি ছিল নারায়ণগঞ্জ তোলারাম কলেজ। ওই শহরের রূপগঞ্জ উপজেলার কাঞ্চন গ্রামে আমার জন্ম, বেড়ে ওঠা, শৈশব, কৈশোর।
কথা বলতে শুরু করার পর এক ঢোক পানি পান করলেন সুফী মিজানুর রহমান। তারপর বললেন, ‘জীবনে উন্নতি করতে হলে অধ্যাবসায়ের বিকল্প নেই। কখনো হাল ছেড়ে দেয়া যাবে না। ৩০-৪০ বছর আগে অনেক ছোট কাজও আমি করেছি। কোন কাজকেই অবহেলার চোখে দেখিনি। আজ আমার অনেক প্রতিষ্ঠান। সেখানে ১০,০০০ লোক কাজ করে। সবাইকে এক কথা বলি। কাজকে ছোট করে দেখো না।’
এই বিষয়ে তিনি আরও বলেন, ‘কলেজে পড়া অবস্থায় কাজ নিয়েছিলাম নারায়ণগঞ্জের জালাল জুট ভ্যালি কোম্পানিতে। তখন মাইনে পেতাম মাত্র ১০০ টাকা। কলেজে পড়া অবস্থায় আমার মধ্যে একটা জেদ কাজ করতো। ভাবতাম আর কতদিন গেলে আমার একটা প্রতিষ্ঠান হবে। ছোট্ট একটা অফিস থাকবে। তবে দিন-রাত পরিশ্রম করেছি। মাঝেমধ্যে পরিবারের বউ, ছেলে-মেয়েদেরও সময় দিতে পারিনি।’
বহু জায়গায় কাজ করার অভিজ্ঞতা হয়েছে সুফী মিজানের। আসলে কাজের সন্ধানে তিনি ছুটে গেছেন অনেক প্রতিষ্ঠানে। সেই কারণেই হয়তো অভিজ্ঞতার মাঝে ডুবে আছেন সবসময়। জানালেন, বি কম পড়ার সময় কাজ পান ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তানের (সোনালী ব্যাংক) চট্টগ্রামের লালদীঘি শাখায়। মাইনে ১৬৭ টাকা।
পদটি ছিল জুনিয়র ক্লার্কের। তবে সরকারি চাকরি। তার দুই বছর ১৯৬৭ সালে চলে তৎকালীন ইস্টার্ন মার্কেন্টাইল ব্যাংকে। বর্তমানে যেটি পূবালী ব্যাংক। তখনকার চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জ শাখায় যোগ দেন জুনিয়র অফিসার হিসেবে। বেতন কিছু বেড়ে ৮০০ টাকা। মন্দ না! এরপর একসময় ভাবনা এলো এভাবে চাকরি-বাকরি করে নিজের পায়ে দাঁড়ানো যাবে না। ব্যবসায় জড়াতে হবে। হিসাব বুঝতে হবে। টুকটাক হিসাব করতে গিয়ে কখন যে এভাবে ব্যবসায়ী হয়ে যাবেন তা টেরই পেলেন না বর্ষীয়ান এই ব্যক্তি।
জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ব্যবসা করতে গেলে টাকা লাগে। কারণ টাকায় টাকা আনে। কিন্তু আমার তো হাত খালি। অতো টাকা পাবো কোথায়। ছোটখাটো একটা প্রতিষ্ঠান দাঁড় করাতেও বহু অর্থের দরকার। আমাকে টাকা দেয়ার কোন মানুষ নেই। চাকরি করার সময় পরিচয় হয়েছিল বেশ কিছু বড় আমদানি-রপ্তানিকারকের সঙ্গে। একদিন তাদেরই কয়েকজনের সঙ্গে পরিচয় হলো আবার। তারা আমাকে বাকিতে পণ্য দিতে রাজি হলেন। আমি পণ্য নিয়ে পরে সময়মতো টাকা শোধ করতাম। এতে ব্যাংকের সঙ্গেও আমার একটি ভাল সর্ম্পক তৈরি হয়ে যায়।’
সুফী মিজান এই প্রসঙ্গে আরও বলেন, ‘চট্টগ্রামের অনেক পুরনো কিছু প্রতিষ্ঠান আছে। এসব প্রতিষ্ঠানের অবশ্য এখন রমরমা আগের মতো ব্যবসা নেই। দু-একটি কোম্পানির কথা না বললেই নয়। ইলিয়াছ ব্রাদার্স, জাকারিয়া ব্রাদার্স, মেসার্স ইমাম শরীফ, ডায়মন্ড করপোরেশন ছিল তার অন্যতম। তারা সহজ শর্তে চাল, ডাল, তেল, চিনি, লবণ, গম ট্রাকে করে বিক্রির সুযোগ দেয়। আমি সেইসব পণ্য ঢাকার পাইকারি বাজারে নিয়ে গিয়ে বিক্রি করতাম। বিক্রি শেষে নিজের লাভের টাকা রেখে দিতাম। বাকিটা দিয়ে পণ্যের দাম পরিশোধ করতাম।’
পুরোদস্তুর ব্যবসায়ী হওয়ার বিষয়টি জানতে চাইলে হেসে উঠেন সুফী মিজানুর রহমান। বলেন, ব্যবসা হচ্ছে এমন এক জিনিস যেখানে ধৈর্য্যের কোন বিকল্প নেই। এই ক্ষেত্রে আল্লাহ পাকের কাছে শোকরিয়া আদায় করছি। তার কৃপা ছাড়া কিছুই করতে পারতাম না। জীবনে আমদানি করা প্রথম জিনিসটি ছিল ব্রিজস্টোন টায়ার। সালটা ছিলো ১৯৭২। বিনিয়োগ হয়েছিল চার হাজার ডলার। প্রতি ডলারের মান ছিল ১১ টাকা। বর্তমান বাজার দর অনুসারে যার দাম ৪৪ হাজার টাকা। লাভ করেছিলাম এক লাখ টাকা। ব্যস। শুরু হলো প্রতিযোগিতার বাজারে নাম লেখানো। সাহস করে এগিয়ে যেতে থাকলাম।’
তিনি বলেন, ‘দিন-রাত পরিশ্রম করার পর একসময় দেখলাম আমার হাতে কয়েক কোটি টাকা জমে গেছে। টাকাগুলো কাজে লাগানোর জন্য ভেতরে চিন্তা ঘুরপাক খাচ্ছিল। কারণ, সবাই যেখানে টাকা জমায় সেখানে আমি তা ব্যয় করার চিন্তা-ভাবনা করছি। একসময় সীতাকুণ্ডের বঙ্গোপসাগর উপকূলে শিপইয়ার্ড দিলাম। সেখানে পুরনো জাহাজ কেটে আসবাবপত্র বিক্রি করতাম। বিক্রির টাকা দিয়ে প্রতিষ্ঠা করলাম রি-রোলিং মিল। তারপর আসলো ১৯৮৪ সাল। মংলা ইঞ্জিনিয়ার্স ওয়ার্কস নামে বিলেট তৈরির কারখানা দিয়ে লাভ পেতে শুরু করলাম। সম্ভবত ওটিই ছিল দেশের প্রথম বিলেট কারখানা। এভাবে লাভ পাওয়ায় আমাকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি।’
সুফী মিজানকে নিয়ে ব্যবসায়ী মহলে প্রচলিত একটি প্রবাদ আছে। তিনি যেখানে হাত দেন তা সোনা হয়ে যায়। লাইনটি মনে করিয়ে দিতেই হো হো করে হেসে উঠলেন তিনি। বললেন, ‘না না বিষয়টি আসলে তেমন কিছু নয়। যারা এমন বলেন হয়তো শ্রদ্ধা থেকেই বলেন। তবে এই কথা সত্যি ব্যবসার সবকটি শাখাতেই বিচরণ করার নেশা আমার।
বলতে পারেন লাভ লোকসানের দিকে না তাকিয়ে ব্যবসার ভেতরটা আমার জানা চাই। একজীবনে বহু ব্যবসায় জড়িয়েছি। যেখানে গেছি সবখানেই সফল হওয়ার চেষ্টা করেছি। ১৯৮৬ সালে ঢাকায় ঢেউটিনের কারখানা দিলাম। বলতে পারেন এখনও আমার প্রতিষ্ঠানের ঢেউটিন শীর্ষে। এরপর সীতাকুণ্ডের কুমিরায় দিলাম সিআর কয়েল কারখানা।
তারপর আরও নানা ব্যবসায় জড়িয়েছি। এসব ব্যবসা করতে গিয়ে টাকা পয়সা নিয়ে অনেক ঝামেলা হজম করতে হয়েছে। কোথাও কোথাও সরলতার সুযোগ নিয়ে আমাকে খাটো করে রাখা হয়েছে। সেইসব কথা অবশ্য বাড়ি ফেরার পথে ভুলে যেতাম। আজ কি হলো তা না ভেবে ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে আগামীকালের জন্য চিন্তা করা উচিত।’
নিজের স্ত্রীকে ভীষণ ভালবাসেন সুফী মিজানুর রহমান। আর তাই স্ত্রী তাহমিনা রহমানের ইচ্ছা পূরণ করতে গিয়ে কখন যে পিএইচপি গ্রুপ প্রতিষ্ঠা পেলো তা টেরই পেলেন না তিনি। এই বিষয়ে তিনি বলেন, ‘মানুষের কাছে পিএইচপি এখন একটি আস্থার নাম। ভাবতে ভাল লাগে। তবে একদিনে হয়নি এই গ্রুপ। এর বয়স চলছে ২২ বছর। অনেক প্রতিষ্ঠান হয়েছে এখান থেকে। বলতে পারেন ডালপালা বেড়েছে। অনেক মানুষ এসব প্রতিষ্ঠানের ওপর জীবন নির্বাহ করছেন।
১৯৯৭ সালে আমার স্ত্রী আমাকে চট্টগ্রামে কিছু করার জন্য উৎসাহ দিতে শুরু করলেন। সেই সময় কয়েল কারখানা তৈরি করতে গিয়ে একা হয়ে পড়লাম। ওই বছরের ২২শে জুলাই জন্ম নিলো পিএইচপি। এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সারা দেশে পিএইচপির ২৫০ জন ডিলার আছেন। কেবল মাত্র আমাদের পণ্য বিক্রি করেই বলতে পারেন তাদের বেশির ভাগ এখন কোটিপতি। পিএইচপির সঙ্গে জড়ানোর আগে তাদের অনেকের পকেটে টাকা ছিল না। কাজ পাওয়ার পর পরিশ্রম করে তারা সাবলম্বী হয়েছেন। এই বিষয়টিকে আমি খুব পছন্দ করি। কারণ মানুষই নিজের ভাগ্য বদলাতে পারে।’
ব্যবসায়ী হতে গিয়ে নানা পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে আজকের সুফী মিজানকে। এসব পরিস্থিতি তিনি হজম করেছেন কাজের অংশ হিসেবে। যার কোনটি সুখকর। কোনটি আবার আফসোসের। তবে একটি ঘটনা তিনি কখনও ভুলেন না। কথা প্রসঙ্গে বলেন, ‘চট্টগ্রামে আরএম গ্রুপ নামে আমার অংশীদারিত্ব ব্যবসায় লাভ ছিল প্রায় ২০০ কোটি টাকা। এক হাজার ৫০০ বিঘা জমি ছিল এই গ্রুপের। কয়েক হাজার টাকায় কেনা প্রতি বিঘা জমির দাম এখন অনেক। নিজের মতাদর্শের সঙ্গে না মেলায় অভিমান করে নিজের লাভের ভাগ না নিয়েই সেখান থেকে চলে এসেছি। এই নিয়ে অবশ্য আফসোস নেই। কারণ সেখান থেকে চলে আসার পর ব্যবসায় উন্নতি করার জন্য ভেতরে ভেতরে আরও মনোবল জমা হচ্ছিল।’
তবে মজার অভিজ্ঞতা বলতে গিয়ে ২০০৩ সালের একটি ঘটনা তিনি মনে করিয়ে দেন। বেস্ট বিজনেস অ্যাওয়ার্ডের পুরস্কার নিতে গিয়ে তৎকালীন সময়ে প্রয়াত অর্থমন্ত্রী সাইফুর রহমান সবার উদ্দেশ্যে বলেছিলেন, ‘দেখুন ১০০ টাকা বেতনে চাকরি করে কত বড় অ্যাওয়ার্ড নিয়ে যাচ্ছে।’
ভব্যিষৎ স্বপ্নের কথা উঠতেই পিএইচপি গ্রুপের এই কর্ণধার বলেন, ‘যতদিন বাঁচি মানুষের জন্য, দেশের জন্য সেবা করে যেতে চাই। যদি কখনও শুনি সুফী মিজানের জন্য আমার ভাগ্য বদল হয়েছে সেদিন আমার অনেক আনন্দ হবে। আমি খোদাভক্ত একজন মানুষ। বিশ্বাসটাকে পুঁজি করে সামনে এগিয়ে যাওয়াই আমার কাজ।’
ব্যক্তি জীবনে সাত ছেলে এক মেয়ের গর্বিত পিতা সুফী মিজানুর রহমান। বাংলা ভাষা ছাড়াও একাধারে হিন্দি, উর্দু, ফার্সি, আরবি, ইংরেজিসহ বিশ্বের অনেক ভাষায় কথা বলতে পারেন তিনি। বাবার এমন সাফল্যে গর্বিত তার সন্তানরাও। বড় সন্তান মো. মোহসিন পিতার মতোই দেশসেরা একজন শিল্পোদ্যোক্তা। তার অন্য ভাইবোনেরা হলেন ইকবাল হোসেন, আনোয়ারুল হক, আলী হোসেন, আমির হোসেন, জহিরুল ইসলাম ও আক্তার পারভেজ হিরু ও ফাতেমা তুজ-জোহররা। তাদের মা তাহমিনা রহমান।
বাবার প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বড় সন্তান মো. মোহসিন বলেন, ‘জানিনা তার মতো হতে পারব কি না। তবে বাবা সবসময় একটি কথা বলেন যখন যে কাজই করিনা কেন তা যেন সম্মানের সঙ্গে করি। কোন কাজকে অবহেলা বা খাটো করে দেখতে চাই না। বাবার স্বপ্ন আছে অনেক। তিনি মুখে না বললেও আমরা অনেক কিছু বুঝতে পারি। পারিবারিকভাবে ঢাকার কাঞ্চননগর গ্রামে ৫০ শয্যার একটি হাসপাতাল গড়ে উঠেছে আজ থেকে ২৫ বছর আগে।
মাত্র পাঁচ টাকায় সেখানে রোগীদের দেয়া হচ্ছে চিকিৎসা সেবা। চট্টগ্রাম শহরের আসকারদীঘি পাড়ে মাউন্ট হাসপাতালসহ শিক্ষার্থীদের স্বল্পমূল্যে উচ্চশিক্ষার জন্য ‘ইউআইটিএস’ গড়ে তুলেছেন তিনি। কেবল তাই নয়, সুন্নিয়া মাদরাসাসহ বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত আর্থিক অনুদান দিচ্ছেন। তার আরেকটি স্বপ্ন আছে দেশের ভেতর একটি আন্তর্জাতিক মানের ক্যানসার হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করার। পাশাপাশি নতুন উদ্যোক্তাদের ব্যবসায় প্রতিষ্ঠার জন্য ‘জাপান বাংলাদেশ চেম্বার অ্যান্ডস কমার্স’ গড়ে তোলার ইচ্ছে আছে।
সুফী মিজানের পিএইচপি দেশে ২৩টির বেশি খাতে বিনিয়োগ করছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে কোল্ড, স্টিল, ফিশারিজ, স্টকস অ্যান্ড সিকিউরিটিজ, পাওয়ার জেনারেশন প্লান্ট, কন্টিনিউয়াস গ্যালভানাইজিং মিলস, শিপিং এজেন্সি, ফ্লাট গ্লাস, লেটেক্স অ্যান্ড রাবার প্রোডাক্টশন, টার্মিনাল অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন, প্রপার্টিজ, রোটারি ক্লাব, পেট্রো রিফাইনারি, এগ্রা প্রোডাক্ট, ইউনিভার্সিটি অব ইনফরমেশন টেকনোলজি অ্যান্ড সায়েন্স, কোল্ডস্টোরেজ, শিপ ব্রেকিং অ্যান্ড রিসাইক্লিং, ওভারসিজ, হাসপাতাল, এয়ারলাইন্স ও ইলেক্ট্রিক খাত। সফল ব্যবসায়ী হওয়ার পর সুফী মিজান লাভ করেছেন ২০০৩ সালের ‘দ্য ডেইলি স্টার অ্যান্ড ডিএইচএল বেস্ট বিজনেস অ্যাওয়ার্ড, ২০০৭ সালে ব্যাংক বীমা অ্যাওয়ার্ড, ২০০৯ ও ২০১১ সালের ব্যাংক বীমা অর্থনীতি অ্যাওয়ার্ড।