‘আর নয় হয়রানি, ঘরে বসেই সংগ্রহ করুন খতিয়ান’

প্রকাশ:| সোমবার, ৩০ নভেম্বর , ২০১৫ সময় ১০:৩১ অপরাহ্ণ

খতিয়ানডিজিটাল পদ্বতিতে ভূমি জরিপ, রেকর্ড প্রণয়ন এবং সংরক্ষণ বিষয়ে দুইদিন ব্যাপী কর্মশালা শুরু হয়েছে।

সোমবার চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার মো.খলিলুর রহমান।

এসময় তিনি বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশ এখন আর নতুন কিছু নয়। প্রশাসনসহ রাষ্ট্রযন্ত্রের সর্বত্র ডিজিটালাইজেশনের ছোয়া লেগেছে।ফলে একদিকে দ্রুত দেশের উন্নয়ন ঘটছে অন্যদিকে বাড়ছে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা।

কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মেজবাহ উদ্দিন। তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের ধারণা ভূমি সংক্রান্ত কাজে হয়রানির শিকার হতে হয়।

অনেক ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষ দালালদের দ্বারা হয়রানি হতে পারে।কিছু সুবিধাভোগী মানুষ সাধারণ মানুষের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে থাকে।কিন্তু রেকর্ডরুম ডিজিটালাইজড হয়ে গেলে এ ধরনের কোন ঝামেলা থাকবেনা।

জেলা প্রশাসক বলেন, চট্টগ্রাম জেলার মোট ১ হাজার ৬৪টি মৌজার খতিয়ানের সংখ্যা প্রায় ৪০ লাখ। এ সকল রেকর্ড শতবর্ষী।ব্রিটিশ পিরিয়ড, পাকিস্তান আমলের এসব রেকর্ড এখন অনেকটাই ভঙ্গুর।

তাই সংরক্ষণের ব্যাবস্থা করা জুরুরি উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ কারণে একটি সফটওয়ারের আওতায় ডাটা এন্ট্রির মাধ্যমে খতিয়ানগুলো সংরক্ষণ করা হবে।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক রাজস্ব ইলিয়াস হোসেন বলেন, চট্টগ্রাম জেলার ১৪ টি উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে কর্মরত ১৪ জন টেকনিশিয়ান এবং প্রতি উপজেলার ১ টি ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারের একজন উদ্যোক্তাকে (মোট ১৪ জন) এবং রেকর্ডরমে কর্মরত ১৮ জন স্টাফকে এ প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, প্রাথমিকভা বে আমরা কাজ শুরু করবো এবং পরবর্তীতে উপজেলা পর্যায়ে সকল উদ্যোক্তাকে এ প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।মানুষ ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারে খতিয়ানের জন্য আবেদন করে তা সংগ্রহ করতে পারবে।

রেকর্ড রুমের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ রাজীব উল আহসান বলেন, রেকর্ড রুম ডিজিটালাইজেশনের অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে ৫ এমবিপিএস ইন্টারনেট সংযোগ (ওয়াইফাই ৪টি) স্থাপন করা হয়েছে।প্রয়োজনীয় সংখ্যক কম্পিউটার (২১ টি) স্থাপন করা হয়েছে।

এছাড়াও জেলা প্রশাসনের ৫ জন কর্মকর্তা ও রেকর্ডরুমে কর্মরত ৫ জন কর্মচারী প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ৪ দিন ইএলআরএস এর প্রশিক্ষণ নিয়েছেন।সার্বিক দিক দিয়ে চট্টগ্রাম জেলার খতিয়ান সমুহের ডাটা এন্ট্রির জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

কর্মশালায় প্রশিক্ষণ দিয়েছেন ভূমি মন্ত্রণালয়ের কম্পিউটারাইজেশন প্রকল্পের উপ প্রকল্প পরিচালক আকমল হোসেন, সিনিয়র সহকারী প্রধান মো. ফজলুর রহমান, প্রোগ্রামার মো.ইলিয়াস।

ইউনিয়ন পর্যায়ে ঘরে বসে খতিযান সংগ্রহে খরচ হবে ২০০ টাকা। চলতি বছরের ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে ডাটা এন্ট্রির আনুষ্ঠানিক কাজ শুরু হবে।


আরোও সংবাদ