আর্থারকে কোচ বানানোর সিদ্ধান্তটাই ছিল ভুল!

প্রকাশ:| বৃহস্পতিবার, ১৩ ফেব্রুয়ারি , ২০১৪ সময় ০৬:৫৬ অপরাহ্ণ

মিকি আর্থারমিকি আর্থারের নিয়োগটাই ছিল হইচই ফেলে দেওয়ার মতো ঘটনা। ২০১১ সালে এই দক্ষিণ আফ্রিকানকে যখন অস্ট্রেলীয় ক্রিকেট দলের কোচ হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়, তখন তিনি ছিলেন অস্ট্রেলিয়ার প্রথম বিদেশি কোচ। কিন্তু আর্থারের সময়টা ভালো ছিল না অস্ট্রেলিয়ার জন্য। একের পর এক হার, দলের ভেতরে সমস্যা বিষিয়ে তুলেছিল অস্ট্রেলীয় ড্রেসিং রুমের পরিবেশ। পুরো ব্যাপারটিকেই বোধগম্য মনে করেন অস্ট্রেলীয় সাবেক অধিনায়ক রিকি পন্টিং। তাঁর মতে, অস্ট্রেলিয়ার মতো একটি দলকে অভিভাবকত্ব দেওয়ার মতো ব্যক্তিত্ব নাকি এই প্রোটিয়া কোচের ছিল না। তাঁকে কোচ বানানোর সিদ্ধান্তটাই ছিল ভুল।

অ্যাশেজ সিরিজের ১৬ দিন আগে আর্থারকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করে নিয়োগ দেওয়া হয় ড্যারেন লেম্যানকে। এর পরের ইতিহাস তো সবারই জানা, অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে অনেক দিন খেলার অভিজ্ঞতা-সম্পন্ন লেম্যান কোচ হয়ে দলের চেহারাটাই দিয়েছেন পাল্টে। হারতে হারতে ক্লান্ত অস্ট্রেলিয়া যেন ঘুরে দাঁড়িয়ে সম্পূর্ণ পাল্টে যাওয়া এক দল।

আর্থার যে অস্ট্রেলীয় ক্রিকেট দলের জন্য আদর্শ কোচ ছিলেন না, সেটা এক সাক্ষাত্কারে জানিয়ে দিয়েছেন পন্টিং, ‘মিকি বিশ্বের সেরা কোচদের একজন হতে পারেন, কিন্তু অস্ট্রেলিয়ার মতো একটি দলকে অভিভাবকত্ব দেওয়ার জন্য যথেষ্ট ব্যক্তিত্ববান তিনি ছিলেন না।’

আর্থারের অধীনে খেলেছেন সেই অভিজ্ঞতা থেকে পন্টিং বলেছেন, ‘অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটে একটা চরিত্র আছে। আমরা লড়িয়ে আর শক্ত মানসিকতার ক্রিকেট খেলি। আর্থারের সময় দলের মধ্যে ওই ব্যাপারটিই অনুপস্থিত ছিল। এর মূল কারণ, আর্থার ওই ধরনের কিছু আমাদের মধ্যে ঢুকিয়ে দিতে সম্পূর্ণ ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছেন।’

রোববার একটি অস্ট্রেলীয় টেলিভিশন চ্যানেলে পন্টিংয়ের এই সাক্ষাত্কারটি প্রচারিত হয়। এই সাক্ষাত্কারে এ কথা-সে কথার মধ্যে পন্টিং উত্তর দিয়েছেন, ২০০৮ সালের সেই কুখ্যাত ‘মাঙ্কিগেট কেলেঙ্কারি’ নিয়েও। সেখানে তিনি এই কেলেঙ্কারির বিষয়ে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসিআই) ভূমিকারও কড়া সমালোচনা করেছেন। একই সঙ্গে তিনি সমালোচনার তিরে বিদ্ধ করেছেন নিজের দেশের ক্রিকেট বোর্ডকেও।

২০০৮ সালে ভারত-অস্ট্রেলিয়া সিডনি টেস্টে অস্ট্রেলীয় অলরাউন্ডার অ্যান্ড্রু সাইমন্ডসকে ‘বানর’ বলে গালি দিয়ে বর্ণবাদী আচরণ করেছিলেন ভারতীয় অফস্পিনার হরভজন সিং। কিন্তু ওই ঘটনার জের ধরে সাইমন্ডসের টেস্ট ক্যারিয়ারের দুঃখজনক অপমৃত্যু ঘটে। আইসিসি হরভজন সিংকে ৩ ম্যাচের জন্য বহিষ্কৃত করলেও বিসিসিআইয়ের আপিলে সেই শাস্তি মওকুফ করা হয়। অথচ, এর উল্টোপিঠে অস্ট্রেলীয় ক্রিকেট বোর্ড সাইমন্ডসের ব্যাপারে ছিল খুব কড়া। পুরো বিষয়টিই পন্টিংয়ের কাছে মনে হয়েছে, ভারতীয় বোর্ডের কাছে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার অসহায় আত্মসমর্পণই, ‘আমরা জানি, ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড খুব শক্তিশালী। কিন্তু সাইমন্ডস-হরভজনের ব্যাপারটিতে বিসিসিআই ক্ষমতার অপব্যবহারই করেছিল। আর এ ব্যাপারে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার ভূমিকাও ছিল হতাশাজনক। তাদের অসহায় আত্মসমর্পণই সাইমন্ডসের মধ্যে হতাশার জন্ম দেয়, যা তাঁর ক্রিকেট ক্যারিয়ার আগেভাগেই শেষ করে দেওয়ার জন্য অনেকাংশে দায়ী।’ এএফপি।