আরাকানকে করা হচ্ছে অর্থনৈতিক অঞ্চল

প্রকাশ:| বুধবার, ২০ সেপ্টেম্বর , ২০১৭ সময় ১০:০২ অপরাহ্ণ

শামসু উদ্দিন, টেকনাফ প্রতিনিধি:
বাংলাদেশে সর্ব দক্ষিণ সীমান্ত উপজেলার টেকনাফে সরকার অর্থনৈতিক অঞ্চল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অনুরূপ ভাবে এশিয়া মহাদেশের দক্ষিণ পূর্বাঞ্চলীয় মিয়ানমারের আরাকান রোহিঙ্গা সংখ্যালষ্ঠি মুসলিম অধ্যুশিত ও সহিংসতাপ্রবণ প্রদেশ। মংডুসহ গোটা আরাকানকে নতুন অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার লক্ষ্যে এখন থেকে জেরেশোরে কাজ এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে মিয়ানমার সামরিক সরকার। গত ১৮ সেপ্টম্বর একটি জাতীয় পত্রিকার আন্তজার্তিক কলামে প্রকাশিত সংবাদে এ তথ্য জানা গেছে। তথ্য অনুযায়ী চলতি সেপ্টম্বরের শেষ নাগাদ নতুন অর্থনৈতিক অঞ্চল বরাদ্ধের জন্য স্থানীয় বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক সই করার পরিকল্পনা ও চুড়ান্ত করেছে রাখাইন মিয়ানমার সরকার। রাখাইন রাজ্য সরকারের অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী ইউকে আইথিন সম্প্রতি গণমাধ্যম ফ্রান্টয়ারকে বলেন, নাফ রিভার গ্যালাকিস ইনফ্রাস্টাকচার ডেভেলপমেন্ট গ্রুপ নামে একটি কোম্পানীর সাথে আরাকান মংডু অর্থনৈতিক অঞ্চল নিয়ে একটি স্মারক চুক্তি স্বাক্ষর করতে যাচ্ছে। আগামী ২৯ সেপ্টম্বর এ চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে। এমন আশংখা করছেন অনেকেই। অর্থনৈতিক জোনের জন্য নির্ধারিত এলাকায় নাফ নদীর তীরবর্তী আরাকান রোহিঙ্গা মুসলিম অধ্যষিত গ্রাম কানইয়েন চংয়ে সরকার ও বিনয়োগকারীদের মধ্যে এই স্মারক চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে। কানইয়ে নচং গ্রামটি চোরাচালানের পথ ও ভয়ানক অপরাধ প্রবণ এলাকা হিসাবে এতটাই কুখ্যাত যে, এখানে দিনের বেলায় ও আইন শৃংখলা বাহিনীর সদস্যরা পর্যক্ত প্রবেশ করতে ও টহল দিতে অনীহা প্রকাশ করেন। গত ২৫ আগষ্ট নতুন করে সহিংসতা শুরুর পর পরিস্থিতির আরো অবনতি ঘটেছে। প্রায় দুই ডজন সীমান্ত রক্ষী (বিজিপি) পুলিশ ও সেনাক্যাম্পের হামলার পর বিদ্রোহী তথা সন্ত্রাসীদের ধরার নামে রোহিঙ্গা জাতি নিধনের জন্য যে গণহত্যা চালাচ্ছে তাতে প্রায় ৫ হাজার রোহিঙ্গার চেয়ে বেশি প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। তা এখনো চলমান। আরাকান মংডুসহ বিভিন্ন কলাকা থেকে চার লাখের চেয়ে বেশী রোহিঙ্গা মুসলিম নাফ নদী ও সাগরপথে পাড়ি দিয়েছে। গণমাধ্যমের দেওয়া তথ্যমতে, রোহিঙ্গাদের উপর রাখাইনের দমন, নিপীড়ন হত্যা ও বিতাড়নের জন্য এখন পর্যন্ত আরাকান (রাখাইন) রাজ্যের প্রায় ১৭৯টি গ্রাম জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে রাখাইন রাজ্য সরকারের অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী ইউকে আইথিন বলেছেন যেদিন চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে, সেদিন ওই এলাকার সম্পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিৎ করা হবে। তিনি আরো বলেন, আগের রাজ্য সরকার এখানে একটি বাণিজ্য অঞ্চল গড়ার পরিকল্পনা নিয়েছিল। এই সরকার শুধু সেটিকে আরেক ধাপ অগ্রসর করে অর্থনৈতিক অঞ্চল হিসেবে গড়ে তোলার পদক্ষেপ নিয়েছে। এখানে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের মতোই কিছু সুযোগ সুবিধা পাবেন বিনিয়োগকারী। আর এ ব্যবস্থাপনা ও পরিচালনার দায়িত্ব কেন্দ্রী সরকার নয়, বরং রাখাইন রাজ্য সরকারের হাতেই থাকবে। এ অর্থনৈতিক অঞ্চলে এর জন্য তাদের কোনো করও দিতে হবেনা বলেও জানান, রাখাইন রাজ্যের সংশ্লিষ্টরা। এ উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে মিয়ানমারের সামরিক জান্তা ও উগ্রপন্থি রাখাইন আরাকানের রোহিঙ্গা অধ্যুষিত মুসলমানদের উপর হত্যা, দমন নিপীড়ন ও নির্যাতন অব্যাহত রেখেছে। প্রাণ ভয়ে রোহিঙ্গারা দলে দলে নর নারী ও শিশুরা বাংলাদেশের কক্সবাজার জেলার উখিয়া ও টেকনাফ সীমান্তবর্তী এলাকার শরণার্থী মর্যাদা নিয়ে পালিয়ে আসছে। আরাকানে ৪৮১টি গ্রামের মধ্যে ১৭৯টি গ্রাম এখন মানবশূণ্য। রোহিঙ্গা জাতীমত্তাকে মিয়ানমার রাখাইন সরকার অস্বীকার করে বলেন, এরা বাংলাদেশী। এদিকে বাংলাদেশের সর্ব দক্ষিণ সীমান্ত উপজেরা টেকনাফে অর্থনৈতিক অঞ্চল করতে সরকার ইতিপূর্বে বিভিন্ন প্রকল্প হাতে নিয়েছে। তদ্রোরূপ মিয়ানমার সরকারও আরাকানের দক্ষিণ তথা মংডু শহরকে অর্থনৈতিক অঞ্চল করতে অনুরূপ ভাবে পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে।

 

 


আরোও সংবাদ