আরশাদুল আলম বাচ্চুর বিলবোর্ড

প্রকাশ:| বৃহস্পতিবার, ৪ ডিসেম্বর , ২০১৪ সময় ১২:২০ পূর্বাহ্ণ

নগরীর জামালখান মোড়। চারপাশ বিলবোর্ডে ঢাকা। বুধবার সিটি কর্পোরেশন ও নগর পুলিশ যৌথ অভিযান চালায়। অপসারণ করা হয় অবৈধ ৬টি বিলবোর্ড।

কিন্তু নীতিমালা বহির্ভূত বড় বিলবোর্ডটি উচ্ছেদ করা হয়নি। কারণ বিলবোর্ডটির মালিক ক্ষমতাসীন দলের নেতা আরশাদুল আলম বাচ্চুর। তিনি এমইএস কলেজ ছাত্র সংসদের জিএস ও নগর ছাত্রলীগের সাবেক দপ্তর সম্পাদক।
Capture
তবে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের দাবি, পর্যাপ্ত কারিগরী সহায়তা না থাকায় বিলবোর্ডটি অপসারণ করা যায়নি।

কর্পোরেশন সূত্র জানায়, সকাল সাড়ে দশটা থেকে জামালখান মোড়ে বিলবোর্ড উচ্ছেদ শুরু করে সিটি কর্পোরেশন ও নগর পুলিশ। অভিযানে নেতৃত্ব দেন জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আছিয়া খাতুন। বিলবোর্ডে ঢাকা মোড়টি থেকে ছয়টি বিলবোর্ড অপসারণ করা হয়।

নীতিমালা বহির্ভূত একটি বড় বিলবোর্ড অপসারণের চেষ্টা করে সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তারা। এসময় উপস্থিত হন আরশাদুল আলম বাচ্চুর লোকজন। তারা বিলবোর্ডটি বাচ্চুর বলে জানান। পরে বিলবোর্ডটি অপসারণ না করে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মোড় এলাকায় চলে যায় অপসারণে অংশ নেওয়া কর্মীরা। বিকালে চমেক হাসপাতাল এলাকায় আরও দুইটি বিলবোর্ড অপসারণ করা হয়।

কর্পোরেশনের রাজস্ব কর্মকর্তা শামসুল আলম বলেন,‘বিলবোর্ডটি নিয়ে যা বলার ম্যাজিস্ট্রেটকে বলেছি কিন্তু তিনি কেন উচ্ছেদ করেননি জানি না।’

জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আছিয়া খাতুন বাংলানিউজকে বলেন,‘আমাদের যে সরঞ্জাম ছিল তা দিয়ে বিলবোর্ডটি অপসারণ করা সম্ভব ছিল না। এর আগে কাস্টমস এলাকায় একটি বিলবোর্ড উচ্ছেদ করতে গিয়ে ক্রেন উল্টে দুর্ঘটনা ঘটে। জামালখান অনেক ব্যস্ত এলাকা। দুর্ঘটনা এড়াতে বিলবোর্ডটি উচ্ছেদ করা হয়নি। এ ছাড়া অন্য কোন কারণ নেই।’

এর আগে গত ১৭ নভেম্বর নগরীর জিইসি মোড় এলাকায় আরশাদুল আলম বাচ্চুর একটি বিলবোর্ড অপসারণের নির্দেশ দেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। বোর্ডটির কিছু অংশ কাটতেই কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সহ-সম্পাদক শেখ জাফর আহমদ মুজাহিদ এটাকে বৈধ দাবী করে ম্যাজিস্ট্রেটের সঙ্গে কথা বলেন। পরে বিলবোর্ডটি কাটা বন্ধ করার নির্দেশ দেন ম্যাজিস্ট্রেট।

কর্পোরেশন সূত্র জানায়, বুধবার ৮টি বিলবোর্ড অপসারণ ও ৬টি বিজ্ঞাপনী সংস্থাকে ৬৬হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। অবৈধভাবে বিলবোর্ড স্থাপনের দায়ে প্রাচী অ্যাডকে ৩০ হাজার, অ্যাডওয়ে পাবলিসিটিকে ১০হাজার, অ্যাড গার্ডেনকে ৮ হাজার, শফি আর্টকে ৮ হাজার টাকাসহ আরও দুইটি বিজ্ঞাপনী সংস্থাকে ৫ হাজার টাকা করে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।