আরও একটি ড্রাম থেকে নমুনা পরীক্ষার নির্দেশ

প্রকাশ:| রবিবার, ৩০ আগস্ট , ২০১৫ সময় ১১:৪১ অপরাহ্ণ

চট্টগ্রাম বন্দরে আমদানি করা সানফ্লাওয়ার তেলের আরও একটি ড্রাম থেকে নমুনা সংগ্রহ করে কোকেন পরীক্ষার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। তদন্তকারী কর্মকর্তার আবেদনের ভিত্তিতে আদালত ৫৯ নম্বর ড্রামটি তিনটি সংস্থার মাধ্যমে পুন:পরীক্ষার নির্দেশ দিয়েছেন।

রোববার (৩০ আগস্ট) বিকেলে চট্টগ্রাম মহানগর হাকিম রহমত আলী এ নির্দেশ দিয়েছেন।

চট্টগ্রাম মহানগর পিপি মো.ফখরুদ্দিন চৌধুরী বলেন, ১০৭টি ড্রামের মধ্যে ৯৬ নম্বর ড্রামে আগে কোকেনের অস্তিত্ব পাওয়া গিয়েছিল। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ৫৯ নম্বর ড্রামেও কোকেন আছে বলে সন্দেহ করছে। এজন্য আদালত ওই ড্রামটি তিনটি সংস্থার মাধ্যমে পুন:পরীক্ষার আদেশ দিয়েছেন।

তিনটি সংস্থা হচ্ছে, সেনাবাহিনীর আর্মড ফোর্সেস ফুড এন্ড ল্যাবরেটরিজ, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর এবং সিআইডি। এর আগে ১০৭টি সানফ্লাওয়ার তেলের ড্রাম থেকে তিন কৌটা করে মোট ৩২১ কৌটা নমুনা সংগ্রহ করে তিন ভাগ করে এই তিনটি সংস্থার মাধ্যমে পরীক্ষার নির্দেশ দিয়েছিলেন আদালত।

২৩ জুলাই মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের নমুনা পরীক্ষার রাসায়নিক ফলাফলে ৯৬ নম্বর ড্রামেও কোকেনের অস্তিত্ব থাকার পর্যবেক্ষণ দেয়া হয়। ওই পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে ড্রামটি পুন:পরীক্ষার জন্য ২৭ আগস্ট আদালতে আবেদন জানান তদন্তকারী কর্মকর্তা নগর গোয়েন্দা পুলিশের সহকারি কমিশনার (উত্তর) মো.কামরুজ্জামান।

রোববার শুনানি শেষে আদালত ৫৯ নম্বর ড্রামটি থেকে ফের নমুনা সংগ্রহ করে তিনটি সংস্থার মাধ্যমে পরীক্ষার আদেশ দিয়েছেন।

নগর পুলিশের কাছ থেকে তথ্য পেয়ে তরল কোকেন সন্দেহে গত ৬ জুন রাতে চট্টগ্রাম বন্দরে একটি কনটেইনার বন্দরে সিলগালা করে শুল্ক গোয়েন্দা কর্মকর্তারা। ৮ জুন এটি খুলে ১০৭টি ড্রামের প্রতিটিতে ১৮৫ কেজি করে সানফ্লাওয়ার তেল পাওয়া যায়। তেলের নমুনা প্রাথমিক পরীক্ষা করে কোকেনের অস্তিত্ব পাওয়া না গেলে উন্নত ল্যাবে কেমিক্যাল পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়।

২৭ জুন শুল্ক গোয়েন্দা অধিদপ্তর জানায়, কেমিক্যাল পরীক্ষায় একটি ড্রামে তরল কোকেনের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে।

চালানটি নগরীর খাতুনগঞ্জের খানজাহান আলী লিমিটেডের নামে বন্দরে আনা হয়েছিল। কনটেইনারটি সিলগালা করার আগে নগর গোয়েন্দা পুলিশ অভিযান চালিয়ে খানজাহান আলী লিমিটেডের প্রতিষ্ঠান প্রাইম হ্যাচারি লিমিটেডের ব্যবস্থাপক গোলাম মোস্তফা সোহেলকে গ্রেপ্তার করেছিল।

২৮ জুন নগরীর বন্দর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ওসমান গনি বাদি হয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের ১৯ এর ১(খ) ধারায় জাহান আলী লিমিটেডের চেয়ারম্যান নূর মোহাম্মদ ও সোহেলকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন। পরে ওই মামলায় সোহেলকে গ্রেপ্তার দেখানো হয় এবং আরও পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। মামলায় মাদক আইনের সঙ্গে আদালতের নির্দেশে চোরাচালানের ধারাও সংযুক্ত করা হয়।

কোকেন আমদানির মামলায় এ পর্যন্ত গ্রেপ্তার হয়েছেন ৬ জন। এরা হলেন, আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান খানজাহান আলী লিমিটেডের মালিকানাধীন প্রাইম হ্যাচারির ব্যবস্থাপক গোলাম মোস্তফা সোহেল, কসকো শিপিং লাইনের ম্যানেজার এ কে আজাদ, গার্মেন্ট পণ্য রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান মণ্ডল গ্রুপের বাণিজ্যিক নির্বাহী আতিকুর রহমান, সিকিউরিটিজ প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা মেহেদি আলম, সিএন্ডএফ কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম এবং আবাসন ব্যবসায়ী মোস্তফা কামাল।

তাদের বিভিন্ন মেয়াদে কয়েক দফা রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এদের মধ্যে সোহেল এবং মেহেদি আলম আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন।