আমেরিকার বাজারে শুল্কমুক্ত সুবিধার বিষয়ে চিন্তাভাবনা

প্রকাশ:| বৃহস্পতিবার, ৬ আগস্ট , ২০১৫ সময় ০৭:৩৫ অপরাহ্ণ

বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রফতানির ক্ষেত্রে আমেরিকার বাজারে শুল্কমুক্ত সুবিধা দেওয়ার বিষয়ে চিন্তাভাবনা করছে সেদেশের সরকার।বৃহস্পতিবার বিকেলে চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত এক সেমিনারে একথা জানান বাংলাদেশে নিযুক্ত আমেরিকার রাষ্ট্রদূত মার্শিয়া বার্নিকেট।

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সকালে নগরীর র‌্যাসিসন ব্লু হোটেলে বাংলাদেশ অ্যাপারেল অ্যান্ড সেফটি এক্সপো শুরু হয়। তিনদিন ব্যাপী এ প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ।
আমেরিকার রাষ্ট্রদূত মার্শিয়া বার্নিকেট
বার্ণিকাট বলেন, রূপকল্প ২০২১ সালের মধ্যে ৫০ বিলিয়ন ডলার রফতানির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে আমেরিকার সরকার সব ধরনের সহযোগিতা করবে। এ বিষয়ে আমি নিশ্চয়তা দিয়ে বলতে পারি।

‘রাণা প্লাজা ধসের পর থেকে আমরা পর্যবেক্ষণে আছি।
ব্র্যান্ডিং বাংলাদেশ
বাংলাদেশে যোগ দেওয়ার পর থেকে পোশাক শিল্পের উন্নয়ন দেখে আমি অভিভূত হয়েছি।’

আমেরিকার বাজারে শুল্কমুক্ত সুবিধা ফিরিয়ে দেওয়া উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দিয়ে তিনি বলেন, বিষয়টিকে কিভাবে এগিয়ে নেওয়া যায় সেই উদ্যোগ নেব।

সেমিনারে উপস্থিত বক্তারা আমেরিকায় শুল্কমুক্ত সুবিধা নিয়ে কথা বলেন। তাদের বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে এসব কথা বলেন এমেরিকার রাষ্ট্রদূত।

তিনি বলেন, আরএমজি সেক্টরের উন্নয়ন করতে গিয়ে সরকারের সঙ্গে কাজ করছে অ্যাকর্ড, অ্যালায়েন্স। এদেশের কারখানার পরিবেশ ভাল রাখতে এর দরকার ছিল।

বাংলাদেশের স্বার্থেও এর প্রয়োজন ছিল।

হোটেলের মেজবান বলরুমে বেলা আড়াইটায় শুরু হয় ব্রান্ডিং বাংলাদেশ শীর্ষক সেমিনার। সেখানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ।

বিশেষ অতিথি ছিলেন সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

সেমিনারে ‘হেল্পিং বিল্ড ব্রান্ড: দ্যা এ্যাপারেল সেক্টর অফ বাংলাদেশ’ শীর্ষক মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ’র অধ্যাপক ড. সৈয়দ ফরহাত আনোয়ার।

উইলিয়াম শেক্সপিয়রের একটি উদৃতি দিয়ে পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশন শুরু করেন ফরহাত আনোয়ার। ব্রান্ডিং বাংলাদেশের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন তিনি।

সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেন, রাজনীতি নিয়ে আমরা আলাদা হলেও দেশের অর্থনীতির স্বার্থে এক। সকালে আমি জিএসপি সুবিধা

ফিরে পাওয়ার বিষয়ে কথা বলেছি। তখন আমীর খসরু সাহেব্ ছিলেন না। কিন্তু বিকেলে তিনিও একই কথা বললেন। অর্থাৎ আমরা দেশের অর্থনীতির স্বার্থে এক।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ নিয়ে অনেকেই অনেক কথা বলেন।

কেউ বলেন, তলাবিহীন ঝুড়ি, কেউ বলে বেশিদিন সাসটেইন করে না আবার কেউ বলেন, বাংলাদেশ ইজ মিরাকল।

কারণ হিসেবে তিনি বলেন, বাংলাদেশে রফতানি আয় এখন ২৫ বিলিয়ন ডলার। ২০২১ সালে ৫০ বিলিয়ন ডলারের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে কাজ করছে। জিডিপি বেড়েছে। অর্থনীতির ক্ষেত্রে যে পরিবর্তন হয়েছে তা অভাবনীয়।

রাণা প্লাজা দুর্ঘটনার পরে বড় চ্যালেঞ্জ দেখা দেয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে এখন ঘুরে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ। সম্প্রতি শেষ হওয়া জি-৭ সম্মেলনে বাংলাদেশের পোশাক শিল্প নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করা হয়েছে।

সেমিনারে প্রধান অতিথির আগে নগর বিএনপির সভাপতি ও সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বক্তব্য রাখেন। সেখানে তিনি রাজনৈতিক কোন বক্তব্য দেননি।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিতে আমরা এক।

খসরু সাহেব রাজনৈতিক বক্তব্য দেননি। তাই আমিও দেব না। বাংলাদেশকে অর্থনৈতিকভাবে এগিয়ে নিতে আমরা একযোগে কাজ করতে চাই।

আমীর খসরু বলেন, কেবল কম দামে পোশাক নিতে পারে সেজন্যই বিদেশি ক্রেতারা বাংলাদেশে আসে না। মানের দিক থেকেও সেরা হওয়ার কারণে এখানে আসে।

তিনি বলেন, ইউরোপের বাজারে শুল্কমুক্ত সুবিধা পেলেও আমেরিকায় পাচ্ছে না। সেখানে এ সুবিধা দেওয়া প্রয়োজন।

তবে বর্তমানে কারখানায় যেসব সমস্যা রয়েছে তা সমাধান করা প্রয়োজন বলেও মনে করেন তিনি।

বিজিএমইএ’র সভাপতি আতিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে সেমিনারে মডারেটরের দায়িত্ব পালন করছেন মোহাম্মদী গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রুবানা হক।

মেলায় দুইদিন পোশাক খাতের নিজস্ব ব্র্যান্ডিং বিষয়ক ছাড়াও রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা অর্জন, অবকাঠামো উন্নয়ন বিষয়ক আরও তিনটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হবে। ‘ট্রেনিং অ্যান্ড ডেভলপিং স্কিলস ফর স্ট্রং, সাসটেইনেবল অ্যান্ড ব্যালেন্সড গ্রোথ’, ‘ফিন্যান্সিং অ্যাপারেল গ্রোথ’ এবং ‘ক্যাপাসিটি বিল্ডিং অব পোর্ট, কাস্টমস, পাওয়ার অ্যান্ড ইনফ্রাস্টাকচার টু রিচ ৫০ বিলিয়ন ডলার ইন ২০২১’ শীর্ষক সেমিনারগুলোতে দেশি বিদেশি বিশেষজ্ঞদের প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হবে।