আমার সন্তানকে ১৯৯৪ সালে চট্টগ্রামে গোলাম আযম প্রতিরোধ আন্দোলনে পাঠিয়ে আমি সঠিক কাজটি করেছিলাম

প্রকাশ:| শুক্রবার, ২৬ জুলাই , ২০১৩ সময় ০৪:৫২ অপরাহ্ণ

প্রেস রিলিজ ১৯৯৪ সালে চট্টগ্রামে গোলাম আযম প্রতিরোধ আন্দোলনে শহীদ এহসানুল হক মণির পিতা বলেছেন, গোলামের বিচারে আমরা nirmulপ্রচণ্ড কষ্ট পেয়েছি। সন্তুষ্ট হতে পারিনি। তার সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত না হলে শহীদ জননী জাহানারা ইমামের সাথে শহীদ মনি, টিটু, জাফরদের আত্মা কষ্ট পাবে।
বাকরুদ্ধ কণ্ঠে তিনি আরো বলেন, সেদিন গোলাম আযমের মতো কুলাঙ্গারকে প্রতিরোধ করতে আমার সন্তানকে যুদ্ধে পাঠিয়ে আমি সঠিক কাজটি করেছিলাম। এতে আমি গর্ব অনুভব করি কিন্তু গোলামের ৯০ বছর জেল’এ আমার গর্ব খর্ব হয়ে যায়। আমার মতো শহীদের পিতাদের অন্তত এ গর্ব কেড়ে নেবে না বাংলাদেশ। অবিলম্বে গোলামের সকল সুবিধা প্রত্যাহার করে কয়েদীর পোষাকে তাকে সাধারণ কয়েদীদের সাথে পাঠানোর জোর দাবি জানান তিনি।
একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি প্রতিবছর দিনটি যথাযোগ্য মর্যাদায় স্মরণ করায় কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, আমার আর হারাবার কিছু নেই। আমি আমৃত্যু ঘাতক বিরোধী আন্দোলনে নিজেকে নিয়োজিত রাখতে চাই।
১৯৯৪ সালে গোলাম আযম প্রতিরোধ আন্দোলরে শহীদদের গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করে অবিলম্বে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের রায় কার্যকর এবং কুখ্যাত যুদ্ধাপরাধী গো. আযমের সকল সুবিধা প্রত্যাহার করে তাকে জেলে কয়েদিদের সাথে পাঠানোর দাবিতে গতকাল ২৬ জুলাই শুক্রবার সকাল ১১ টায় চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি চট্টগ্রাম জেলা আয়োজিত মানববন্ধন ও গণসম্মিলনে শহীদ মণির পিতা এ.কে.এম আমিন প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
সংগঠনের জেলা আহবায়ক সাবেক ছাত্রনেতা সীমান্ত তালুকদারের সভাপতিত্বে ও সংগঠনের জাতীয় পরিষদ সদস্য মো. জোবায়েরের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে সূচনা বক্তব্য দেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাংগঠনিক সম্পাদক ও বিভাগীয় সমন্বয়ক লেখক-সাংবাদিক শওকত বাঙালি। দাবির সাথে একাত্মতা ঘোষণা করে বক্তব্য দেন মুক্তিযুদ্ধ গবেষক ডা. মাহফুজুর রহমান, দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান, সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক সাধারণ সম্পাদক কবি নাজিমুদ্দীন শ্যামল, কবি-সাংবাদিক কামরুল হাসান বাদল, সাবেক ছাত্রনেতা মাসুদ করিম টিটু, যুবলীগ নেতা কাজল প্রিয় বড়–য়া, মো. সাজ্জাত হোসেন, বিপ্লব বর্ধন, নির্মূল কমিটি নেতা স্বপন সেন, আবুল হাসনাত মো. বেলাল, মাহবুবুল আলম পাভেল, নাজমুল আলম খান, শিবলী নোমান চৌধুরী, রফিকুল মান্নান জুয়েল, সাব্বির হোসাইন, মাউসুফ উদ্দিন মাসুম, সামশুল আলম শওকত, মাঈনুদ্দীন হানিফ, শেখ মহিউদ্দিন বাবু, আসাদুজ্জামান জেবিন, আখতারুজ্জামান বাবলু, সনেট চক্রবর্তী, মানিক তলাপাত্র, নিখিলেষ সরকার রাজ, অভি চৌধুরী, মহিদুল ইসলাম, জাকারিয়া মাসুদ, রাহুল চৌধুরী, রাজন বিশ্বাস, কামাল উদ্দিন, রাসেল দে, সুকান্ত দে, নিশান বণিক, মো. আমীর, মো. বাবলু, রুবেল চৌধুরী, রবিন দে, শুভ দেব, শুভ ঘোষ, শাওন রয়, রবিউল ইসলাম প্রমুখ।
ডা. মাহফুজুর রহমান বলেছেন, সংবিধানের ৪৯ ধারা সংশোধন করতে হবে। রাষ্ট্রপতির ক্ষমা প্রার্থনার বিষয়ে সংবিধানে ‘যুদ্ধাপরাধীদের ক্ষমা নাই’ মর্মে সংশোধনী আনতে তিনি বর্তমান সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান।
সম্মিলন শেষে নির্মূল কমিটি নেতৃবৃন্দ চৈতন্যগলি গোরস্থানে শহীদ এহসানুল হক মনির কবর জেয়ারত করেন।
উল্লেখ্য, ১৯৯৪ সালের ২৬ জুলাই চট্টগ্রামে জামায়াত প্রধান যুদ্ধাপরাধী নরঘাতক গোলাম আযমের জনসভা প্রতিরোধ করতে গিয়ে তৎকালীন সরকারের প্রশাসনের ছত্রছায়ায় জামায়াত শিবিরের গুলিতে গোলাম আযম প্রতিরোধ আন্দোলনের ৫ জন কর্মী শহীদ হন। ১৯৯৫ সাল থেকে প্রতি বছর দিনটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন করে আসছে একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি।