২৪ ঘন্টার মধ্যে ফয়সালসহ সংশ্লিষ্টদের গ্রেফতার করতে হবে

নিউজচিটাগাং২৪/ এক্স প্রকাশ:| রবিবার, ১ জুলাই , ২০১৮ সময় ১২:৫৬ পূর্বাহ্ণ

‘আমার মেয়েকে হত্যা করা হয়েছে। আর কিছু চাইনা, শুধু বিচার চাই। আমার মতো আর কেউ যাতে সন্তানহারা না হয়, স্বজনহারা না হয়। আপনারা ঐক্যবদ্ধভাবে আমার সন্তানের হত্যাকাণ্ডের বিচার করবেন।’

চট্টগ্রাম নগরের ম্যাক্স হাসপাতালে ভুল চিকিৎসায় আড়াই বছর বয়েসী শিশু রাইফা খানের মৃত্যুর ঘটনায় জড়িতদের শাস্তি দাবিতে আয়োজিত মানববন্ধনে কাঁদতে কাঁদতে কথাগুলো বলেছেন সন্তানহারা বাবা রুবেল খান।

শনিবার বিকেলে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সামনে এই কর্মসূচীর আয়োজন করে চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়ন।

সেখানে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) মহাসচিব ওমর ফারুক বলেন, টনসিলের রোগ নিয়ে লাশ হয়ে ফিরতে হবে- এটা কোনভাবেই মানা যায় না।

এটা সংশ্লিষ্টদের উদাসিনতার কারণে হয়েছে। ঢাকায় জগলুল আহমেদের ভুল চিকিৎসার কারণে একটি হাসপাতাল বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। চট্টগ্রামের এই ম্যাক্স হাসপাতালও বন্ধ করে দিতে হবে। ২৪ ঘন্টার মধ্যে ডা. ফয়সাল ইকবালসহ সংশ্লিষ্টদের গ্রেফতার করতে হবে। বিএমএ থেকে তাদের বহিস্কার ও লাইসেন্স বাতিল করতে হবে।

ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি শাবান মাহমুদ বলেন, যতক্ষণ পর্যন্ত এই হত্যার বিচার না হবে ততক্ষণ আমাদের লড়াই করতে হবে। ন্যায় বিচারের জন্য আমাদের জ্বলে ওঠতে হবে।

ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) সভাপতি আবু জাফর সূর্য বলেন, এটি সুস্পষ্ট হত্যাকান্ড। দুর্বৃত্তদের বিচার অনিবার্য। দুর্বৃত্তরা সাংবাদিকদের ক্ষমতা দেখতে চায়। সাংবাদিক সমাজ এর শেষ দেখে ছাড়বে।

বিএমএ সাধারণ সম্পাদক ডা. ফয়সাল ইকবালকে উদ্দেশ্যে করে চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি নাজিমুদ্দিন শ্যামল বলেন, তিন খুনের আসামি এখন থানায় গিয়েও মাস্তানি করে। এ রকম অনেক গুন্ডা ছিল, যাদের এখন চিহ্নও নেই। সাংবাদিকদের সাথে গুন্ডামি করবেন না।

চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের জ্যেষ্ঠ সহ সভাপতি কাজী আবুল মনসুর বলেন, সহকর্মী রুবেল খানের নিষ্পাপ শিশুকে হত্যা করা হয়েছে। চিকিৎসকদের পেশাগত দাম্ভিকতা মেনে নেয়া যায়না। এই দাম্ভিকতা চিকিৎসা সেবায় সরকারের অর্জনকে প্রশ্নবিদ্ধ করবে।

মানববন্ধনে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) নির্বাহী সদস্য আসিফ সিরাজ, চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক হাসান ফেরদৌস ও প্রচার সম্পাদক কুতুব উদ্দিন প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

এদিকে শনিবার সকালে রুবেল খানের কাজির দেউড়ি রাবেয়া লেইনের বাসায় গিয়ে দেখা যায় এক হৃদয়বিদারক পরিস্থিতি। রুবেল খান ও তার স্বজনদের কান্নায় সংবাদকর্মীরাও চোখে পানি ধরে রাখতে পারেননি।

শনিবার জোহরের নামাজের পর চট্টগ্রাম নগরীর গরীবুল্লাহ শাহ মাজার মসজিদ চত্বরে রাইফার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর গরীবুল্লাহ শাহ কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

এর আগে বৃহস্পতিবার বিকালে ঠান্ডা জনিত গলা ব্যথা করায় রাইফাকে ম্যাক্স হাসপাতালে ভর্তি করানো হয় । এরপর শুক্রবার রাতে রাইফাকে অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া হলে সে অস্বস্তি বোধ করে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে জানালে তারা শিশু বিশেষজ্ঞকে কল দেওয়ার পরামর্শ দেন। এরপর শিশু বিশেষজ্ঞ বিধান বড়ুয়াও একই ধরনের ওষুধ দেন।

রাতে ওই ওষুধ দেওয়ার পর থেকে রাইফার খিঁচুনি শুরু হয়। দায়িত্বরত চিকিৎসককে জানালে তিনি ডা. বিধান বড়ুয়ার সাথে কথা বলে ‘সেডিল’ ইনজেকশন পুশ করেন। এরপর রাইফা ছটফট করতে থাকে। একপর্যায়ে নিস্তেজ হয়ে মারা যায়।

রাইফার মৃত্যুর খবর পেয়ে রাতেই হাসপাতালে ছুটে যান সাংবাদিরা। তাদের প্রতিবাদের মুখে পুলিশ দায়িত্বরত চিকিৎসক বিধান রায় ও সুমন তালুকদার এবং নার্সকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।

খবর পেয়ে ভোর রাতে কয়েকজন সহযোগী নিয়ে চকবাজার থানায় উপস্থিত হন চিকিৎসকদের সংগঠন বিএমএ’র চট্টগ্রামের সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল ইকবাল।

সাংবদিকরা জানান, ফয়সাল ইকবাল চকবাজার থানায় ওসির রুমে প্রবেশ করামাত্রই ওসি আবুল কালামের কাছে জানতে চান, কোন সাহসে চিকিৎসক ও নার্সকে আটক করা হয়েছে? এ সময় এক ঘন্টার মধ্যে হাসপাতাল বন্ধ করে দেওয়া এবং কোনো সাংবাদিককে চিকিৎসা না দেওয়ার হুমকিও দেন ফয়সাল ইকবাল।

এমনকি কোন অপরাধে চিকিৎসক ও নার্সকে আটক করা হয়েছে তা জানতে চেয়ে চকবাজার থানার ওসি আবুল কালামের সাথেও বাদানুবাদে জড়ান ফয়সাল ইকবাল। একপর্যায়ে শনিবার ভোরে বিএমএ, সিইউজে ও পুলিশের ত্রিপক্ষীয় বৈঠকের পর আটক চিকিৎসক ও নার্সকে থানা থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

এ ঘটনা তদন্তে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। চট্টগ্রামের সিভিল সার্জনকে প্রধান করে গঠিত কমিটিতে বিএমএ প্রতিনিধি, সিইউজে প্রতিনিধি, বিএমএ ও সিইউজে’র পক্ষ থেকে একজন করে শিশু বিশেষজ্ঞ থাকবেন। আগামী পাঁচ দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়ার কথা রয়েছে।