আমার ছোট বেলার ঈদ: এ. এম হোবাইব সজীব

প্রকাশ:| মঙ্গলবার, ৫ জুলাই , ২০১৬ সময় ০৯:০১ অপরাহ্ণ

সজীব
প্রতিবছরের ন্যায় আবারও এসেছে ঈদ-উল- ফিতর। মুসলমানদের সবচেযে বড় আনন্দ উৎসব। দীর্ঘ একমাস সিয়াম সাধনার পর এসেছে খুশির এই উপলক্ষটি। ঘরে, ঘরে, জনে জনে আনন্দ ও খুশির বার্তা বয়ে এনেছে এই ঈদ। দিনটি ভ্রাতৃত্ব, সহমর্মিতা ও ধনী গরিব নির্বিশেষে সকলকে এক কাতারে শামিল করার চেতনায় উজ্জীবিত করে। কল্যাণের পথে ত্যাগ ও তিথিক্ষার মূলযন্ত্রের দীক্ষিত করে। অপরদিকে সাংবাদিকতা পেশায় মোটামুঠি প্রতিষ্ঠিত। শৈশব, যৌবন পেরিয়ে জীবনের এই অধ্যায়ে এসে শুধুই সফলতার গল্প। সাংবাদিকতা চলমান অবস্থায় সন্ত্রাস বিরোধী সংবাদ প্রকাশ করতে গিয়ে বিভিন্ন মিথ্যা মামলা হামলা ও চক্রান্ত বাঁধা ডিঙিয়ে আজ রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ সাংবাদিকতায় পদে অধিষ্টিত। তাই দায়িত্বও বেশি। সারাদিন কর্মব্যস্তার প্রধান অংশটি হলো জনস্বার্থে সংবাদ সংগ্রহ করা। বলতে গেলে আমার পেশাটা হচ্ছে এক প্রকার জনসেবা। কিন্তু তার পরেও পিছু ডাকে অতীত। কখনো কখনো মনে পড়ে যায় নিজের পিছনে ফেলে রেখে আসা সেই আমিকে উখিদেয়। ঈদ এলেই সে নস্টালজিয়ায় চেপে বসে নিজেকে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় ছোটবেলার ঈদে।
২ ভাই ৪ বোন মধ্যে আমি ছিলাম বাবা মায়ের নবম সন্তান। দাদা মরহুম খাইরুল্লাহ মাতম্বার ছিলেন কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার কালারমারছড়া ইউনিয়নের তৎকালীন জমিদার। বাবা মোজাফ্ফর আহমদ (কালু) ছিলেন সফল ব্যবসায়ী ও শ্রমিক নেতা। আর মা ফাতেমা বেগম গৃহিনী। পবিত্র রমজানে মা, রাত দুইটার দিকে উঠে ভাত-রান্না করতেন। তরকারী গরম করে সবাইকে ডাকতেন। ছোটবেলায় পটপুরে সেহেরী খেলেও এখন সেহেরিতে দুধ ভাত ছাড়া আর কিছুই খাওয়া হয়না। রোজা শেষে ঈদের চাঁদ কে কার আগে মাঠে আমাদের বড় পুকুরে যাবে, সেটিও ছিলো একটা প্রতিযোগিতা। আমার সবচেয়ে মনে পড়ে যেখানে আমার ছোট বেলার সুখস্মৃতির সবচেয়ে বেশি জড়িত রয়েছে সে বড় পুকুর পাড়ের কথা! যে খানে আমার প্রিয় মানুষটির সাথে বছরে ঈদের দিন একবার হলেও দেখা হত। ছোট বেলার ঈদে যে সেলামি পেতাম, তা এখন ভাবলে মনে হয় সেটির মূল্য কোটি টাকার মতোই ছিলো ! গুনে রাত জেগে হিসাব মিলাতাম। কত টাকা দিয়ে কি খেলাম, কি কিনলাম এসব হিসেব। হিসাবে গরমিল হলেই শুরু করে দিতাম কান্না। আমার ছোট বেলা কেটেছে মহেশখালীর কালারমারছড়া মোঃ শাহ ঘোনা গ্রামে। ঈদ এলে নতুন শার্ট, প্যান্ট ও জুতা কিনে দিতেন বাবা-মা। এখন নিজের টাকায় কতকিছু কিনি। কিন্তু বাবা-মায়ের মত কেনা জিনিসের মতো মায়া লাগানো। এখনকার ঈদ অন্যরকম। সকালে ঈদের নামাজ আদায় করে একটি গ্রাম ছাড়া সারাদিন কালারমারছড়া ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে কাটাব। সেখানে যে সব আত্মীয়স্বজন ও এলাকার মানুষের সঙ্গে সাৎক্ষাত করব। চোখের পলক পড়ত না। কখন চাঁদ উঠে? আকাশের দিকে তাকিয়ে আছিই। তারপর চাঁদ উঠল সে কি হে হৈল্লোড়, চিৎকার! তারপর চাঁদ দেখা শেষ করেই দৌড়ে এসে বাড়িতে মা-বাবা আত্মীয়স্বজনকে বলতাম চাঁদ দেখেছি। এখন চাঁদ দেখতে কেউ আকাশের দিকে চেয়ে তাকে না প্রযুক্তির আগ্রাসানে ছোটবেলার সে সব খুশি মাখা চাঁদ দেখা আর হয়না। সে সময় একটা মজার ঘটনা ঘটেতো। ঈদের দিন সকালে নামাজ পড়ে এসে মায়ের হাতে রান্না সেমাই, লাচ্চা, পায়েস, খিঁচুড়ি খেয়ে বেড়াতে বের হতাম। উদ্দেশ্য একটাই বেড়াতে আত্মীয় স্বজনের বাসায় বাড়িতে গেলে অন্যরকম আনন্দ লাগত তারা হাঁসি খুশিতে কথা বলত। এখন এসব আমার জন্য অতীত। সাফ কথা সাংবাদিকরা কত দেশের কত কথা লেখেন কিন্তু যা লিখতে পারেন না তা হলো, সেই সাংবাদিকদের নিজের কথা। অথচ অভাব- অভিযোগ, দুঃখ-দৈন্য সবার মতো সাংবাদিকদের ও আছে। কিন্তু ইচ্ছা থাকা সত্বেও সব কথা সব সময় লিখতে পারেন না। ফলে পেশাগত জটিলতা, অভাব অভিযোগ, অ-কথিত থেকে যায়। পাঠকরা এতে ভূল বোঝেন। সমাজ রুষ্ট হয়। সাংবাদিক হিসাবে সংবাদ পত্রের স্বাধীনতা সাংবাদিকরা বিশ্বাসী। তারা জানে, সংবাদ পত্র শুধু সমাজের দর্পণ নয়, সমাজের চিকিৎসক ও বটে।
লেখক,
এ.এম হোবাইব সজীব
সাধারণ সম্পাদক
কক্সবাজার জেলা উপপকূলীয় সাংবাদিক ফোরাম।
মোবাইল, ০১৮১৫-০৬৪৩৭২