‘আমার ছেলে তো রাজনীতি করেনা, তাকে কেন পুড়িয়ে মারা হলো’

প্রকাশ:| মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি , ২০১৫ সময় ১০:২২ অপরাহ্ণ

পট্রোল বোমায় নিহত পেকুয়ার ইদ্রিসের মায়ের আর্তনাদ
কক্সবাজার প্রতিনিধি::
পেকুয়ার ইদ্রিসের মায়ের আর্তনাদ‘আমার ছেলে তো কোন রাজনীতি করেনা, রাজনীতি বুঝেও না’। কেন তাকে পুড়িয়ে মারা হলো’। আমার আদরের ইদ্রিসের এ মৃত্যু আমি মেনে নিতে পারছিনা। ছেলের মৃত্যুর খবর শুনে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় অজোর নয়নে বিলাপ করে কাদছিল নিহত ইদ্রিসের মা মোহছেনা বেগম। চার ভাই ও চার বোনের মধ্যে সবার ছোট মো: ইদ্রিস (১৭)। চার ভাই ও চার বোনের সবার বিয়ে হয়ে গেছে অনেক আগে। চার ভাই বিয়ে করে পিতা-মাতার সংসার থেকে আলাদা বসবাস করে। তারা পিতা-মাতাকে কোন ধরনের ভরণ পোষণ দেয়না। পিতা-মাতাকে নিয়ে কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার সদর ইউনিয়নের গোঁয়াখালী গ্রামে একটি ঝুঁপড়ি ঘরে বসবাস করত ইদ্রিস। পিতা-মাতার আয়ের একমাত্র সম্বল ছিল পেট্রোল বোমায় নিহত ইদ্রিস। পরিবারের অভাব-অনটন দূর করতে গত ছয় মাস পূ্ের্ব চট্টগ্রামের বায়েজিদ এলাকায় অবস্থিত আবুল খায়ের কোম্পানির স্টার শিপ মিল্ক কারখানায় মাসিক ৭হাজার টাকা বেতনে সাধারান শ্রমিকের চাকুরী নেন ইদ্রিস। এরপর থেকে ভালভাবেই কাটছিল ইদ্রিসসহ পিতা-মাতার সংসার। ছেলে ইদ্রিসের সামান্য আয়েই পিতা-মাতা সন্তুষ্ট ছিল।

আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ইদ্রিসের মূত্যুর খবর চমেক হাসপাতাল থেকে গ্রামের বাড়ীতে পৌছালে পুত্র হারানোর শোকে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন তার-পিতা মাতা। তারা সন্ধ্যায় চট্টগ্রামে ছুটে গেছেন ইদ্রিসের লাশ গ্রহণ করতে। তার আতœীয়-স্বজন প্রতিবেশীরা ভিড় করছেন ইদ্রিসের বাড়ীতে। গ্রামের সহজ-সরল ও শান্ত প্রকৃতির ছেলে ইদ্রিসের মৃত্যু কোন ভাবেই মেনে নিতে পারছেনা তার প্রতিবেশীরা।

উল্লেখ্য যে, গত ১১ ফেব্রে“য়ারি রাত সাড়ে ৯টার দিকে চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার শাহমীরপুর এলাকায় বিএনপি-জামায়াতের টানা অবরোধ-হরতালে সিএনজি অটোরিকশায় দুর্বৃত্তদের ছোড়া পেট্রোলবোমায় ইদ্রিসসহ চারজন দগ্ধ হন। ওইদিন রাতে গুরুতর দগ্ধ ইদ্রিস ও অপর ১জনকে চমেক হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটে ভর্তি করা হয়। পেট্রোল বোমায় নিহত ইদ্রিসের বড় ভাই মো. উসমান বলেন, ‘চার ভাই-চার বোনের মধ্যে সবার ছোট ইদ্রিস। সে চট্টগ্রামের বায়েজিদ এলাকায় একটি কারখানায় কাজ করতো। ঘটনার দিন (বুধবার) রাতে বাড়ি থেকে কারখানায় ফিরছিল।’

জানা যায়, দগ্ধ হওয়ার ছয়দিন পর আজ মঙ্গলবার বিকাল সাড়ে চারটার দিকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) ইদ্রিসের মৃত্যু হয়। নিহত ইদ্রিস কক্সবাজার জেলার পেকুয়া উপজেলার গোয়াখালী গ্রামের সর্দার আহমদের ছেলে।

চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের চিকিৎসক ডা. স্বরুপ বলেন, ‘আগুনে ইদ্রিসের শরীরের ৩০ শতাংশ পুড়ে গেছে। তাকে বার্ন ইউনিটে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছিল। মঙ্গলবার সকালে তার অবস্থার অবনতি হলে আইসিইউতে নিয়ে যাওয়া হয়। বিকালে তার মৃত্যু হয়েছে।’

কান্নারত অবস্থায় নিহত ইদ্রিসের বৃদ্ধ পিতা সর্দ্দার আহমদ জানান , ‘আমার ছেলেতো কোন রাজনীতি করে না। তাকে কেন রাজনীতি নামের এ ভয়ানক আগুনে পুড়ে মরতে হলো, আমি এর জবাব চাই। তিনি আরো বলেন ‘তার ছেলে ইদ্রিসের সামান্য আয় দিয়েই তাদের সংসার চলত; এখন ইদ্রিসকে হারিয়ে তিনি নির্বাক।’