আমানত হলের কর্তৃত্ব নিতে মরিয়া ছাত্রলীগ ও শিবির

প্রকাশ:| বৃহস্পতিবার, ১৭ এপ্রিল , ২০১৪ সময় ০৪:২২ অপরাহ্ণ

শহিদুল সুমন, চবি ::

cuচট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে শিবির-ছাত্রলীগ সংঘর্ষে একজন নিহত হওয়ার পর পরিস্থিতি স্বভাবিক হলেও খোলা হয়নি আমানত হল। সর্বধিক আসনের চবির এই হলটি (আমানত) তিন মাস ধরে বন্ধ থাকায় সীমাহীন কষ্টে পড়েছেন এই হলের সাধারণ শিক্ষার্থীরা। এদিকে ছাত্রলীগ ও শিবির দুই দলই আমানত হলের কতৃত্ব নিতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। দুই পক্ষের আধিপত্যের লড়ায়ে আবারো সংঘর্ষের আশঙ্কা করছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১২ ই জানুয়ারি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহ আমানত হলে ছাত্রলীগ ও শিবিরের সংঘর্ষে মামুন হোসাইন নামের এক শিবির নেতা নিহত হয়। এছাড়া সংঘর্ষে উভয় দলের কমপক্ষে আরো ৩০ জন কর্মী আহত হয়। এ ঘটনার পর শাহ আমানত হল বন্ধ করে দেয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্র্তৃপক্ষ। পরবর্তীতে গত ১৫ই জানুয়ারি আমানত হলে খুলে দেয়ার দাবিতে উপাচার্য বরাবর স্মারকলিপি দেয় ছাত্রশিবির। একই দিনে ক্যাম্পাস থেকে শিবিরকে বিতাড়িত করা এবং শাহ আমানত হল দ্রুত খুলে দেয়ার দাবিতে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। ছাত্রলীগ ও শিবির দু’দলই এ হলে উঠতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। হল খুলে দেওয়ার ব্যাপারে দু’দলই আপাতত তাকিয়ে আছেন প্রশাসনের সিদ্ধান্তের দিকে। দ্রুত হল খুলে দেয়া না হলে কঠোর আন্দোলন যাবে বলে জানিয়েছেন ছাত্রলীগ ও শিবির।
এ ব্যাপারে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক দিয়াজ ইরফান চৌধুরী বলেন, ‘আমানত হল খুলে দেওয়া এখন কেবল সময়ের দাবি। আমানত হল খুলে দেয়ার জন্য আমরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বরাবর দাবি জানিয়েছি। হল খুলে দিলে সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিয়ে ছাত্রলীগ এ হলে উঠবে। এখন প্রশাসনের সিদ্ধান্তের দিকে তাকিয়ে আছে ছাত্রলীগ।’
এ ব্যাপারে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শিবিরের সাধারণ সম্পাদক রাজিবুল ইসলাম হক বাপ্পি জানান, ‘শাহ আমানত হল খুলে দেওয়া সাধারণ শিক্ষার্থীদের প্রাণের দাবি। আমানত ও শাহ জালাল হলে সকল বৈধ শিক্ষার্থীদের উঠানোর জন্য আমরা প্রশাসনের কাছে বারবার দাবি জানিয়ে আসছি। তবে প্রশাসনের সিদ্ধান্তে আমাদের কোন ভরসা নেই।’
শীঘ্রই আমানত হল খুলে দেয়া না হলে শিবির কঠোর আন্দোলনে যাবে বলেও জানান শিবির সাধারণ সম্পাদক।
এদিকে দীর্ঘ দিন হল বন্ধ থাকায় সাধারণ শিক্ষার্থীরা পড়েছে বিপাকে। হল বন্ধের পর এ হলের অনেক শিক্ষার্থী বাড়ি চলে যান। ক্লাস ও পরীক্ষা দিতে ক্যাম্পাসে এসেই বিপাকে পড়ে তারা। হল বন্ধ থাকায় বাইরের কটেজে বন্ধুদের সাথে অনেকেই অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে।
আমানত হলে অবস্থানকারী ইনস্টিটিউট অব মেরিন সায়েন্সেস অ্যান ফিশারিজ বিভাগের শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী এ বি এম আতাউল্লাহ এ ব্যাপারে বলেন, ‘ আগামী মাস থেকে আমার পরীক্ষা। হল বন্ধ থাকায় আমি এক বন্ধুর সাথে থাকি। কোন কটেজেও সিট পাচ্ছিনা। এ অবস্থায় আমি বিপদে পড়েছি। তাছাড়া হল খুলে দেয়া হবে আবার সংঘর্ষ হতে পারে। তাই ভয়ও হচ্ছে।’
সাধারণ শিক্ষার্থীদের ভোগান্তির কথা স্বীকার করলেও শাহ আমানত হল কখন খুলে দেয়া হবে তার নির্দিষ্ট কোন সময় বলতে পারেনি হল প্রশাসন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবার আগে এ হল খোলা হবেনা বলে জানা গেছে। এ ব্যাপারে আমানত হলের প্রভোস্ট প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আবুল মনসুর বলেন, ‘ অনেক শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা শুরু হয়েছে। হল বন্ধ থাকায় তাদের বেশ অসুবিধে হচ্ছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়ার আগে হল খুলে দিলে আবার সংঘর্ষ হতে পারে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আমানত হল খুলে দেয়া হবে।
সংঘর্ষের পর ১২ ই জানুয়ারি রাতে তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করেছে প্রশাসন। তদন্ত কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। কিছু দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তদন্ত কমিটির সদস্য ও সহকারী প্রক্টর ওহিদুল আলম। তবে কত দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে তা তিনি নিশ্চিত করে বলতে পারেননি । এ ঘটনায় এখন এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করা যায়ন


আরোও সংবাদ