আমাদের প্রকৃতির অংশ স্বর্ণচাঁপা

প্রকাশ:| শনিবার, ২ মে , ২০১৫ সময় ১১:৩৩ অপরাহ্ণ

স্বর্ণচাঁপাএকসময় আমাদের নিসর্গ সজ্জায় গাছটি চরম উপেক্ষিত ছিল। আজকাল পার্ক-উদ্যান ও পথপাশে কিছুটা সহজলভ্য হয়ে উঠেছে। ফুলটির প্রতি আমাদের কিঞ্চিৎ পক্ষপাতও আছে। সেই প্রাচীনকাল থেকেই জনপ্রিয়তার শীর্ষে তার অবস্থান। মৈমনসিংহ গীতিকায় আছে- ‘চাইর কোনা পুষ্কুনির পারে চাম্পা নাগেশ্বর/ ডাল ভাঙ্গ পুষ্প তুল কে তুমি নাগর।’ চাঁপা ফুলকে আঞ্চলিক ভাষায় চাম্পা ফুল বলা হয়। প্রাচীন লোককথায়ও চাম্পা নামটিই এসেছে বারবার।

জানামতে, চট্টগ্রামের পথপাশে, ঢাকার শাহবাগে গণগ্রন্থাগারের প্রবেশপথের বাঁ-পাশে কয়েকটি সুউচ্চ গাছ চোখে পড়ে। জাতীয় জাদুঘরের ভাস্কর নভেরা হল লাগোয়া পুকুরপাড়ে আছে বেশ কয়েকটি। এ ছাড়া নীলক্ষেত পুলিশফাঁড়ি, হলিক্রস স্কুল, সড়ক ভবন, জাতীয় উদ্ভিদ উদ্যান, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, রমনা পার্ক, শিশু একাডেমি এবং সিলেট দেখা যায়।

ফুলের ক্ষেত্রে চাঁপা নামটি আমাদের অতি সুপরিচিত। তবে সব চাঁপাই চাঁপা নয়। প্রসঙ্গত, কনকচাঁপার কথা বলা যেতে পারে। নাম চাঁপা হলেও আদতে চাঁপা পরিবারের সদস্য নয়। একটির সঙ্গে অন্যটির দুস্তর ফারাক। আলোচ্য চাঁপা সুষমা ও সুগন্ধের জন্য কাব্য, কলা, উপহার, অর্চনা সর্বত্রই ব্যবহৃত। এর স্নিগ্ধ বর্ণ ও উজ্জ্বল সৌরভ পবিত্রতার প্রতীক। বৃদ্ধি দ্রুত, জীবন দীর্ঘ, চাষ সহজ এবং প্রস্ফুটন অফুরান। হিন্দু ও বৌদ্ধদের কাছে গাছ অত্যন্ত পবিত্র। শ্রীলঙ্কায় বুদ্ধমূর্তি তৈরিতে এই কাঠ বহুল ব্যবহার্য।

স্বর্ণচাঁপা মূলত পাহাড়ি প্রজাতি। সমতলেও বৃদ্ধি স্বাভাবিক। বৈজ্ঞানিক নাম- michelia champaca. গাছের কাণ্ড সরল, উন্নত, মসৃণ এবং ধূসর। পাতা চ্যাপ্টা, উজ্জ্বল-সবুজ, একান্তরে ঘনবব্ধ। ফুল একক, কাক্ষিক এবং ম্লান-হলুদ, রক্তিম কিংবা প্রায় সাদা। পাপড়িসংখা প্রায় ১৫। আমাদের দেশে সাদা রঙের ফুল চোখে পড়ে না। ফুলের বর্ণগত বিচিত্রতায় বিভ্রান্ত হওয়ার কোনো কারণ নেই। মাটি, আবহাওয়া, পারিপার্শ্বিক অবস্থা এমনকি তাজা ও বাসি ফুলের ক্ষেত্রেও রঙের তারতম্য হতে পারে। পরিপূর্ণ প্রস্ফুটিত চাঁপা তীব্র সুগন্ধি। গ্রীষ্মের প্রথম ভাগ থেকে বর্ষা-শরৎ অবধি ফুল থাকে। ফুল শেষ হলে গুচ্ছবদ্ধ ফল ধরে। দেখতে অনেকটা আঙুরের মতো। কাক ও শালিকের প্রিয় খাদ্য। চাঁপা ভেষজগুণেও অনন্য। বাকল ও ফুল বাতরোগের ওষুধ। ফুলের আরক চক্ষুরোগে ব্যবহার্য। বীজ পায়ের ক্ষতে উপকারী। কাঠ দারুমূল্যযুক্ত।