আমলারা শিক্ষকদেরকে সরকারের প্রতিপক্ষ করাতে চাইছে

প্রকাশ:| বৃহস্পতিবার, ২৮ মে , ২০১৫ সময় ০৮:২৩ অপরাহ্ণ

শিক্ষক সমাজ সরকারের প্রতিপক্ষ নয় উল্লেখ করে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেতারা বলেছেন, ‘আমলারা শিক্ষক সমাজকে সরকারের প্রতিপক্ষ হিসেবে দাঁড় করাতে চেষ্টা করছেন। ’

আমলারা শিক্ষকদেরকে সরকারের প্রতিপক্ষ করাতে চাইছেপ্রস্তাবিত অষ্টম জাতীয় বেতন কাঠামো বাতিল করে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকদের বেতন-ভাতা সিনিয়র সচিবের সমতুল্য করাসহ আট দফা দাবিও জানান শিক্ষকরা।

বৃহস্পতিবার বিকেল পাঁচটায় চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব চত্ত্বরে মানববন্ধন ও সংহতি সমাবেশে চবি শিক্ষক সমিতির নেতারা এ দাবি জানান।

বক্তারা বলেন, ‘শিক্ষকরা মানুষ গড়ার কারিগর।  শিক্ষক সমাজকে পশ্চাতে রেখে দেশের সার্বিক উন্নয়ন সম্ভব নয়। কিন্তু প্রস্তাবিত অষ্টম জাতীয় বেতন কাঠামোতে ড. ফরাসউদ্দিন বেতন কমিশন এবং সচিব কমিটি সমতার নীতি ও সুবিধাবঞ্চিতদের ব্যাপারগুলোকে গুরুত্ব দেননি। নিজেদের সুযোগ সুবিধাকে প্রাধান্য দিয়ে আমলারা একটি কাঠামো সরকারকে দিয়ে পাস করিয়ে নিতে চাচ্ছেন। ’

টাইম স্কেল ও সিলেকশান গ্রেড বাদ দেয়ার সুপারিশ করে ড. ফরাসউদ্দিন বেতন কমিশন এবং সচিব কমিটি সুবিধাবঞ্চিতদের উপর চরম অবিচার করেছেন বলে দাবি করেন শিক্ষক নেতারা।

বক্তারা বলেন, ‘সরকারি কর্মকর্তাদের গুরুত্ব খাটো করে দেখার কোন অবকাশ নেই। তবে সমাজের অন্যান্য পেশার লোকজন ও শিক্ষকরা যে দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে যে অপরিহার্য অবদান রাখছেন সেটি অস্বীকার করা অসমীচিন। ’

‘‘সচিব কমিটি তাঁদের সুপারিশে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বেতন দুই ধাপ নামিয়ে এনে সরকারের ইতিবাচক ভূমিকাকে প্রশ্নবিদ্ধ এবং সরকারকে বিব্রতকর পরিস্থিতির সম্মুখীন করেছে। আমরা সরকারের প্রতিপক্ষ নয়।  প্রস্তাবিত বেতন কাঠামো শিক্ষকদের উচ্ছ্বসিত হওয়ার পরিবর্তে হতাশায় নিমজ্জিত করেছে।’’

সমাবেশে চবি শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ড.কাজী এস এম খসরুল আলম কুদ্দুসী বলেন, ‘আমরা সরকারকে কয়েকদিন সময় দিতে চায়। এর মধ্যে যদি সরকার শিক্ষক সমাজের যৌক্তিক দাবি মেনে না নেন তবে শিক্ষকরা ঘরে বসে থাকবে না।  কঠোর আন্দোলন কর্মসূচীর মাধ্যমে নিজেদের অধিকার আদায় করে নিবে। ’

মানববন্ধন ও সংহতি সমাবেশে বক্তব্য রাখেন চবি শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক মোহাম্মদ আবুল মনছুর,অধ্যাপক ড.ফরাইজী কামাল উদ্দিন, অধ্যাপক ড. মনসুর উদ্দিন আহমেদ, অধ্যাপক ড. বেণু কুমার দে, অধ্যাপক ড. শাহ আলম, শিক্ষক সমিতির সদস্য অধ্যাপক ড.সুপ্তিকণা মজুমদার, অধ্যাপক সেকান্দর চৌধুরী, চবি শিক্ষক সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আলী আজগর চৌধুরী, অধ্যাপক নসরুল কদির, চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও এনিম্যাল সাইন্সেস বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. রায়হান ফারুক, সাধারণ সম্পাদক কবিরুল ইসলাম খান, চবি শিক্ষক মাসুম আহমেদ।

এর আগে গত ২৪ মে চবি শিক্ষক সমিতির কার্যালয়ে আটদফা দাবিতে সাংবাদিক সম্মেলন করে শিক্ষকরা।

দাবিগুলো হলো, প্রস্তাবিত অষ্টম জাতীয় বেতন কাঠামোতে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা সম্পন্ন অধ্যাপকদের বেতন-ভাতা সিনিয়র সচিবের সমতুল্য করা,সিলেকশন গ্রেড প্রাপ্ত অধ্যাপকদের বেতন-ভাতা সিনিয়র সচিবের সমতুল্য করা,সহযোগী অধ্যাপক, সহকারী অধ্যাপক ও প্রভাষকদের বেতন কাঠামো ক্রমানুসারে নির্ধারণ, প্রতিবেশী দেশসমূহের আলোকে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের গবেষণা ভাতা, বই ভাতাসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধাদি নিশ্চিত ,সরকারি কর্মকর্তাদের  ন্যায় গাড়ি, আবাসন ও অন্যান্য সুবিধা শিক্ষকদের ক্ষেত্রেও নিশ্চিত করা,প্রত্যাশিত বেতন কাঠামো অনুযায়ী ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্স-এ শিক্ষকদের পদমর্যাদা ও অবস্থান নিশ্চিত,চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়সহ অন্যান্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের পদমর্যাদা মূখ্য সচিব/মন্ত্রী পরিষদ সচিবের সমতুল্য করে সে অনুযায়ী সুবিধাদিও নিশ্চিত করা এবং শিক্ষানীতি অনুযায়ী শিক্ষকদের জন্য স্বতন্ত্র বেতন স্কেল প্রবর্তন করা।


আরোও সংবাদ