‘আমরা মেয়রের পাশে আছি, থাকব’

প্রকাশ:| শনিবার, ১৩ আগস্ট , ২০১৬ সময় ০৮:৩৩ অপরাহ্ণ

পাশে আছিচট্টগ্রাম সিটি মেয়র আ.জ.ম নাছির উদ্দীনের পক্ষে সমর্থন ব্যক্ত করেছেন চট্টগ্রাম নাগরিক উদ্যোগের ব্যানারে সর্বস্তরের জনতা। শনিবার বিকেলে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সামনে নাগরিক উদ্যোগের আয়োজনে এক প্রতিবাদী মানববন্ধন সমাবেশ থেকে ঘুষের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী অবস্থানের কারনে চট্টল মেয়রকে স্থানীয় সরকারের দেয়া পত্রে উষ্মা প্রকাশ করা হয়েছে। সমাবেশ থেকে অবিলম্বে মন্ত্রণালয়ের পত্রটি প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়। একই সাথে মেয়রের অবস্থানের প্রতি একাত্বতা জানান বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ। সমাবেশে বক্তারা দেশব্যাপী দুর্নীতি বিরোধী সংগ্রাম জোরদার করতে পাড়ায়-পাড়ায দুর্নীতিবিরোধী দুর্গ গড়ে তোলারও আহ্বান জানানো হয়। সংগঠনের সভাপতি চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি সাংবাদিক রিয়াজ হায়দার চৌধুরী’র সভাপতিত্বে সমন্বয়ক বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট চট্টগ্রাম জেলার সাধারণ সম্পাদক খোরশেদ আলমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত একাত্বতা প্রকাশ করে বক্তব্য রাখেন বরেণ্য রাজনীতিক বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব নঈম উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী, চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি বিশিষ্ট ক্রীড়া সংগঠক আলহাজ্ব আলী আব্বাস, চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য শেখ মাহমুদ ইসহাক, দৈনিক বীর চট্টগ্রাম মঞ্চের সম্পাদক সাংবাদিক সৈয়দ উমর ফারুক, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্যানেল মেয়র চৌধুরী হাসান মাহমুদ হাসনী, জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি এড. মুজিবুল হক, চট্টগ্রাম ইঞ্জিনিয়ার্স ইনষ্টিটিউশনের সাবেক চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মোহাম্মদ হারুন, নগর আওয়ামী লীগের সদস্য প্রকৌশলী বিজয় কিষান চৌধুরী, সেক্টর কমান্ডার্স ফোরাম চট্টগ্রাম উত্তর জেলার সভাপতি ড. মাহমুদ হাসান, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাচ্য ভাষা বিভাগের চেয়ারম্যান ড. জিনবোধি ভিক্ষু, ওম্যান চেম্বার অব্ কমার্স এর সহ-সভাপতি অধ্যাপিকা রেখা আলম চৌধুরী, অগ্রণী ব্যাংক অফিসার্স ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি ব্যাংকার আবদুল হক, কেন্দ্রীয় যুবলীগের সদস্য আব্দুল মান্নান ফেরদৌস, চসিক কাউন্সিলর হাসান মুরাদ বিপ্লব, আবিদা আজাদ, চাক্তাই শিল্প ও বনিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জামাল হোসাইন, পাহাড়তলী ট্রেড এন্ড কমার্স এসোসিয়েশনের সদস্য সচিব শেখ রাজীব আহমেদ, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব অরুণ চন্দ্র বনিক, অনুপ বিশ্বাস, সাইফুল আলম বাবু, ছড়াকার সংসদ চট্টগ্রামের সাধারণ সম্পাদক আ.ফ.ম মুদাচ্ছের আলী, শ্রমিক নেতাদের পক্ষে বক্তব্য রাখেন আবদুল মতিন মাষ্টার, চট্টগ্রাম হকার্স ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক নুরুল আলম লেদু, নগর যুবলীগের সদস্য সুমন দেবনাথ, লিটন রায় চৌধুরী, জাবেদুল আলম সুমন, মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, তানভীর আহমেদ রিংকু, সাখাওয়াত হোসেন সাকু, এ.এম. মহিউদ্দিন, শহীদুর রহমান শহীদ, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক আবদুল্লাহ আল মামুন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি আলমগীর টিপু , ছাত্রলীগের সংগঠক উম্মে সানজিদা জিনিয়া প্রমুখ। সমাবেশে আরো উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম আইন কলেজের সাবেক ভিপি সুজিত দাশ, রেবা বড়ুয়া , এড. আখতারুজ্জামান রোমেন, জসিম উদ্দিন মিঠুন, এডভোকেট নজরুল ইসলাম, আরিফ মঈনুদ্দিন, মো: শাকিল, এড. টিপু শীল জয়দেব, আবু ইছা, রেবা বড়–য়া, ওয়ায়েস কাদের, সাংস্কৃতিক সংগঠক সৈয়দা রোকসাত আলী তাজিন, উম্মে রায়না, রাইসা আহমেদ, আফরিন মনি, লাখি আক্তার, সোনিয়া আক্তার, ডা: আইচ, মো: ফোরকান, ডা: আর.কে. রুবেল, বোয়ালখালী উপজেলা বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি সুভাষ চৌধুরী টাংকু, সাধারণ সম্পাদক মো: নুরুল আজিম, সহ-সভাপতি শ্যামল দেব সবুজ, সাংগঠনিক সম্পাদক বনষ্পতি বিশ্বাস দুর্জয়, সুমন চৌধুরী, এম. ইলিয়াছ, কামাল হোসেন প্রমুখ।
সভাপতির ভাষণে সাংবাদিক নেতা রিয়াজ হায়দার চৌধুরী বলেন, চট্টল মেয়র ও চট্টলবাসীর সংগ্রাম সরকার কিংবা সচিবালয়ের বিরুদ্ধে নয়। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক আহুত দুর্নীতিবিরোধী সংগ্রামকে বেগবান করতেই কতিপয় অসৎ আমলার বিরুদ্ধে এই সংগাম। আর এই সংগ্রামের জন্য পাড়ায়-পাড়ায় দূর্নীতিবিরোধী দুর্গ গড়ে তোলার আহ্বান জানান। চসিক কাউন্সিলরদের পক্ষে একাত্বতা প্রকাশ করে সংরক্ষিত কাউন্সিরর আবিদা আজাদ বলেন, প্রয়োজনে আমরা কাউন্সিলর একযোগে পদত্যাগ করবো তবু দুর্নীতিবিরোধী সংগ্রাম চালিয়ে যাবো।
চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্মকান্ডের প্রতিবন্ধকতাকারীদের রুখে দাঁড়াও শীর্ষক প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তাগণ বলেন, মেয়র মহোদয়ের বক্তব্যের প্রতিক্রিয়া হিসেবে স্থানীয় সরকারের মন্ত্রণালয় কর্তৃক অভিযোগ প্রমাণের জন্য সাতদিন সময় বেঁধে দিয়ে চিঠি দেয়া একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিকে হেয় করার সামিল। মেয়র আ.জ.ম নাছির উদ্দীন চট্টগ্রাম নগরীর ৬০ লাখ মানুষের অভিভাবক। তিনি মেয়র পদে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে তাঁর নির্বাচনী অঙ্গীকার পালনে সচেষ্ট হয়েছেন। গত এক বছরে তাঁকে অনেক সীমাবদ্ধতা ও প্রতিকূলতার মধ্যে এগুতে হয়েছে। তারপরও তিনি থেমে নেই।
সমাবেশে বক্তাগণ আরো বলেন, বিগত মেয়রের আমলে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনে সমস্যার পাহাড় তৈরী হয়েছে। রাস্তা-ঘাটের বেহাল অবস্থা। নগরীর সৌন্দর্য্য বিল বোর্ডে ঢাকা পড়ে যায়। বর্তমান মেয়র আ.জ.ম নাছির উদ্দীন নগরীকে বিলবোর্ড মুক্ত করেছেন। তাঁর এই পদক্ষেপ সর্বমহলে প্রশংসিত হয়েছে চট্টগ্রাম নগরীর উন্নয়ন কর্মকান্ডে বড় অংকের তহবিল প্রয়োজন। মন্ত্রণালয় যে থোক বরাদ্দ দেয় তা অত্যন্ত সীমিত। চট্টগ্রামকে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম নগরী ও বাণিজ্যিক রাজধানী বলা হলেও বাস্তব প্রেক্ষিত বিবেচনায় অবহেলিত। তিনি এই বিষয়টি তুলে ধরার জন্যই গত ১০ আগষ্ট বুধবার নগরীর টিআইসিতে নগর সংলাপ সেমিনারে বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি যা বলেছেন অপ্রিয় সত্য হতে পারে কিন্তু কোন ভাবেই অগ্রহণযোগ্য নয়। মনে রাখা উচিত চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন সরকারের অংশ। সরকারের উজ্জ্বল ভাবমূর্তি রক্ষার জন্যই চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের স্বার্থ অক্ষুন্ন রাখা এবং কাজের গতিশীলতা সৃষ্টি করা প্রয়োজন।
বক্তাগণ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের চিঠি সৌজন্য বহির্ভূত। আ.জ.ম নাছির উদ্দীনকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাই মেয়র পদে প্রার্থী দিয়েছিলেন। তাই মন্ত্রণালয়ের চিঠির ভাষা রুঢ় হতে পারে না এবং স্থানীয় সরকার সচিব সাংবাদিকদের কাছে যে মন্তব্য করেছেন তা শিষ্টাচার পরিপন্থী। বক্তাগণ চট্টগ্রামের উন্নয়নের স্বার্থে চট্টগ্রামের নির্বাচিত সকল সাংসদ এবং মন্ত্রীদের একযোগে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, চট্টগ্রাম যেন বঞ্চিত না হয় সে ব্যাপারে প্রত্যেককে সজাগ হতে হবে। চট্টগ্রাম বাংলাদেশের অর্থনৈতিক হৃদপিন্ড। তাই চট্টগ্রাম বাঁচলে সারা দেশ বাঁচবে।