আমনে বাম্পার ফলন কৃষকদের ব্যাপক সাড়া

প্রকাশ:| বুধবার, ১৫ জুন , ২০১৬ সময় ১০:৩৮ অপরাহ্ণ

মুক্ত বীজ
কায়সার হামিদ মানিক, উখিয়া প্রতিনিধি:
চলতি আমন মৌসুমে জেলায় কৃষকদের উন্নত জাতের বীজ ধানের চাহিদা পূরণ করছে বে-সরকারী পর্যায়ের বীজ উন্নয়ন প্রকল্পের বেশ কয়েকটি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান। তৎ মধ্যে বাম্পার ফলন উৎপাদন হওয়ায় চাষীদের কাছে মুক্তা বীজের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।
বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কার্পোরেশন (বিএ,ডি,সি) এর জেলা বীজ প্রত্যয়ন অফিস সূত্রে জানা যায়, কক্সবাজারে বে-সরকারী পর্যায়ের ৪টি বীজ উৎপাদন কারী প্রতিষ্ঠান রয়েছে। প্রতিষ্ঠান গুলো হচ্ছে মুক্তা বীজ উৎপাদন খামার (রামু) প্রতিকৃত (সদর) জননী এন্টারপ্রাইজ (চকরিয়া) ও এডভান্স মাল্টি ফার্ম (চকরিয়া)। জেলা বীজ প্রত্যয়ন অফিসার আব্দুল জলিল মন্ডল এ প্রতিবেদককে জানান, সরকারের পাশা-পাশি আমরা বে-সরকারী ভাবে ব্যক্তি মালিকানাধীন উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানকে বীজ উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাত এবং বাজার জাত করণে পরামর্শ দিয়ে থাকি। এমনকি চাষীদেরকে বীজ উৎপাদনে উদ্বুদ্ধ করণ এবং প্রযুক্তি ব্যবহার সম্পর্কে ধারণা দেওয়া হয়। তিনি আরও বলেন, জেলায় ৪টি বে-সরকারী প্রতিষ্ঠান বীজ উৎপাদন করে বাজার জাত করায় জেলায় আমন মৌসুমে বীজ সংকট মোকাবেলা করতে সক্ষম হয়েছে। বিশেষ করে গুণগত মান ও বাম্পার ফলন উৎপাদন হওয়ায় মুক্তা বীজ ব্যবহারে কৃষকদের মাঝে ব্যাপক সাড়া পড়েছে।
বিএ,ডি,সির সিনিয়র সহকারী পরিচালক সুমন চাকমা এ প্রতিবেদককে বলেন, বে-সরকারী ভাবে জেলায় বীজ উৎপাদন কারী প্রতিষ্ঠানের বীজ ধান গুলো গুনগত মান নির্ণয়, আদ্রতার মান বজায় ও অংকুর উৎগম ইত্যাদি বিষয়গুলো যাচাই বাচাই করে উৎপাদিত বীজ বাজার জাত করণে সুযোগ দেওয়া হয়ে থাকে। মুক্তা বীজ উৎপাদন খামারের মালিক মোঃ ইসমাঈল জানান, ২০০৭ সালে চাষী পর্যায়ে বীজ উৎপাদন শুরু করি। মূলত বিএ,ডি,সির পরামর্শ ও উদ্বুদ্ধ হয়ে বীজ উৎপাদনের সফলতা পেয়েছি। ২০০৮ সালে কৃষি মন্ত্রণালয় থেকে জাতীয় পুরস্কার পান তিনি। অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও বলেন, চলতি আমন মৌসুমে মুক্তা বীজ উৎপাদন খামারের অধীনে ৯০ মেট্টিক টন উন্নত জাতের বীজ উৎপাদন করা হয়েছে। যা জেলার চাহিদা মিটিয়ে চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলায় সরবরাহ করা হয়।
কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, চলতি আমন মৌসুমে ব্রি-ধান ১১, ২২, ৩৩, ৩৯, ৪৬, ৪৯ ও ৫২ নং উন্নত জাতের বীজ ধানের পাশা-পাশি পাইজাম ও হরিধানের বীজ ধান কৃষকদের মাঝে চাহিদা রয়েছে। পশ্চিম রতœা গ্রামের চাষী সাইফুল ইসলাম বলেন, গেল আমন মৌসুমে মুক্তা বীজ ধান ব্যবহার করে চাষ করায় বাম্পার ফলন হয়েছে। কোটবাজার ভালুকিয়া সড়কের ব্যবসায়ী শাহজাহান জানান, বর্তমানে কৃষকরা বীজ ধান ক্রয়ে দোকানে ভীড় জমাচ্ছে। চার দিকে বীজ তলা তৈরি শেষ হওয়ায় এখন বীজ ধান বুপন করবে কৃষকরা। তবে সরকারের পাশা-পাশি বে-সরকারী ভাবে উৎপাদিত উন্নত জাতের মুক্তা বীজের চাহিদা চাষীদের নিকট আগ্রহ বেশি।