‘আবুল হোসেন জড়িত, তবু নাম বাদ দেয় দুদক’

প্রকাশ:| মঙ্গলবার, ১৮ জুন , ২০১৩ সময় ০৮:০৫ অপরাহ্ণ

পদ্মা সেতু প্রকল্পে ‘দুর্নীতির ষড়যন্ত্রে’ সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী আবুল হোসেন ‘জড়িত থাকলেও’ মামলায় তার নাম বাদ দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন।’আবুল হোসেন জড়িত, তবু নাম বাদ দেয় দুদক’abul_hossain

পদ্মা সেতুর ‘দুর্নীতি’ বিষয়ে বিশ্ব ব্যাংকের আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ প্যানেলের চূড়ান্ত পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে একথা বলা হয়েছে। প্রতিবেদনটি মঙ্গলবার বিশ্ব ব্যাংকের ওয়েবসাইটে প্রকাশ হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, “পদ্মা সেতুর ‘দুর্নীতির ষড়যন্ত্রে’ সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন জড়িত ছিলেন। অথচ দুর্নীতির মামলা থেকে মন্ত্রীর নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। যে কারণে দুদকের করা দুনীর্তির তদন্ত নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য হয়নি।”
‘আর্থিক লাভের উদ্দেশ্যে ষড়যন্ত্র’
বিশ্ব ব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে,”দুদকের প্রাথমিক তদন্তে অভিযুক্ত সাতজনের সঙ্গে সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেনের নাম অন্তর্ভুক্ত ছিল। কিন্তু পরবর্তীতে দুদকের দায়ের করা দুনীতির মামলায় মন্ত্রীর নাম বাদ দেওয়া হয়।”

সাবেক যোগাযোগ মন্ত্রীসহ অভিযুক্ত সাতজন ‘দুর্নীতির ষড়যন্ত্রে’ সঙ্গে জড়িত ছিলেন দাবি করা হয়েছে বিশ্ব ব্যাংক প্যানেলের প্রতিবেদনে।

এতে বলা হয়, “এরা সবাই আর্থিকভাবে লাভবানের উদ্দেশ্যে কানাডার পরামর্শক প্রতিষ্ঠান এসএনসি লাভালিনকে কাজ পাইয়ে দেওয়ার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিলেন। দুর্নীতির ষড়যন্ত্রের এ অপরাধে ইতিমধ্যে এসএনসি লাভালিনকে কালো তালিকাভুক্ত করেছে বিশ্ব ব্যাংক। অন্যদিকে, একই অপরাধে বাংলাদেশ সরকার সেতু বিভাগের সাবেক সচিব মোশরারফ হোসেন ভূইয়া (এনডিসি), পদ্মা সেতু প্রকল্পের সাবেক পরিচালক রফিকুল ইসলামসহ অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে।”

বর্তমানে জামিনে থাকা মোশারফ হোসেন ভূঁইয়া চাকরিতে যোগ দিয়েছেন।

পদ্মা সেতুর দুনীতির তদন্তে বিশেষজ্ঞ প্যানেল বাংলাদেশে তদন্ত করে যাওয়ার ৬ মাস পর চূড়ান্ত রিপোর্ট প্রকাশ হলো।

২৯০ কোটি ডলারের পদ্মা সেতু প্রকল্প বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় অবকাঠামো প্রকল্প।

এতে ১২০ কোটি ডলার ঋণ দিতে বাংলাদেশের সঙ্গে চুক্তি করলেও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে গত বছরের মাঝমাঝি তা বাতিল করে বিশ্ব ব্যাংক। প্রকল্পে এডিবি, জাইকা ও আইডিবি ঋণ সহায়তা দেয়ার কথা থাকলেও বিশ্ব ব্যাংকের পর তারাও সরে যায়।

প্রকল্পটি বর্তমানে নিজস্ব অর্থায়নে বাস্তবায়নে এগুচ্ছে বাংলাদেশ। চলতি অর্থবছরের মতো আগামী অর্থবছরের বাজেটেও এ প্রকল্পে কয়েক হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

পদ্মা সেতু প্রকল্পে দুর্নীতির ষড়যন্ত্রের অভিযোগের মামলায় সৈয়দ আবুল হোসেনকে আসামি করা না-করা বিষয়ে তদন্ত পরিপূর্ণভাবে শেষ না হওয়া পর্যন্ত সিদ্ধান্ত নেয়া সম্ভব নয়।

‘দুর্নীতি’ নিয়ে বিশ্ব ব্যাংকের প্রতিবেদনের আলোকে অর্থ মন্ত্রণালয়কে দেয়া প্রতিক্রিয়ায় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) একথা বলেছে বলে সমকালকে জানিয়েছেন কমিশনের নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক শীর্ষস্থানীয় এক কর্মকর্তা।

মঙ্গলবার দুপুরে দুদক চেয়ারম্যান গোলাম রহমান সচিবালয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ে গিয়ে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতকে প্রতিক্রিয়ার কপি দেন। বিশ্ব ব্যাংক তার বিশেষজ্ঞ দলের তদন্ত প্রতিবেদন অর্থ মন্ত্রণালয়কে দিয়েছিল গত ১১ জুন।

এ বিষয়ে বিশ্ব ব্যাংককে জবাব দিতে গত রোববার দুদক চেয়ারম্যানের কাছে প্রতিবেদনটি পাঠিয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চাওয়া হয়েছিল।

অর্থ মন্ত্রণালয়কে দেয়া প্রতিক্রিয়া বিষয়ে দুদকের নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক ওই কর্মকর্তা সমকালকে বলেন, “মামলার অভিযোগ তদন্ত চলছে। কানাডা থেকে এ সংক্রাšø তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তদন্ত পরিপূর্ণভাবে শেষ না হওয়া পর্যন্ত সৈয়দ আবুল হোসেনকে আসামি করা-না করার বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়া সম্ভব নয়।”

তদন্ত প্রসঙ্গে দুদক চেয়ারম্যান গোলাম রহমান সমকালকে বলেন, “স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ, বস্তুনিষ্ঠ তদন্তেরর পর এ ষড়যন্ত্রে যাদের সংশিষ্টতা পাওয়া যাবে তাদের সবার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।”

দুদকের প্রতিক্রিয়া পাওয়ার পর বিশ্ব ব্যাংকের তদন্ত প্রতিবেদনের জবাব দেয়া হবে বলে সোমবার জানিয়েছিলেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।

২৯০ কোটি ডলারের পদ্মা সেতু প্রকল্পে বিশ্ব ব্যাংকের ১২০ কোটি ডলার ঋণ দেয়ার কথা ছিল। তবে দুর্নীতির ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলে সংস্থাটি ঋণচুক্তি বাতিল করে দেয় ২০১১ সালে।

কানাডিয়ান প্রতিষ্ঠান এসএনসি-লাভালিনকে পরামর্শক হিসেবে কাজ পাইয়ে দিতে দুর্নীতির ষড়যন্ত্রের অভিযোগে পরবর্তী সময়ে দুদকের পক্ষ থেকে মামলা করা হয়।

এ মামলা প্রসঙ্গে বিশ্ব ব্যাংকের তদন্ত প্রতিবেদনে বক্তব্য রয়েছে। এ প্রসঙ্গে গত ১৩ জুন অর্থমন্ত্রী সমকালকে বলেন, “বিশ্ব ব্যাংকের যুক্তি হচ্ছে সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেনের বিরুদ্ধে প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও [মামলার] অভিযোগপত্রে তার নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।”

তবে কানাডার এসএনসি লাভালিনের যে চার কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ঘুষ দেওয়ার প্রস্তাবের অভিযোগ রয়েছে তাদের সম্পর্কে তদন্ত প্রতিবেদনে কিছু উল্লেখ করা হয়নি।


আরোও সংবাদ