আবুল হাসেম মাষ্টার আর নেই, হাটহাজারীতে শোকের ছায়া

প্রকাশ:| শুক্রবার, ৬ জুন , ২০১৪ সময় ০৭:১৭ অপরাহ্ণ

মির্জা ইমতিয়াজ শাওন, নির্বাহি সম্পাদক,নিউজচিটাগাং২৪.কম ।।আবুল হাসেম মাষ্টার মৃত্যুতে আমরা শোকাহত
নিউজচিটাগাং২৪.কম এর উপদেষ্ঠা, ইতিহাসবিদ,লেখক, পর্যটক, , সবার প্রিয় সাদাসিধে আবুল হাসেম মাষ্টার ৬টা৫৫মিনিটে মৃত্যু বরণ করেছেন…..(ইন্নালি……….রাজেউন)।বুকে ব্যাথা অনুভব করলে হাশেম স্যারকে সেনানিবাস জেনারেল হাসপাতালে আনার পথে হৃদ যন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে আজ ৬জুন সন্ধ্যা ৬টা ৫৫মিনিটে তিনি ৬৮ বয়সে মৃত্যু বরণ করেন।
তার মৃত্যুতে হাটহাজারীতে শোকের ছায়া নেমে আসে। ররেণ্য এ শিক্ষাবিদের মৃত্যুতে গভির শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করছে নিউজচিটাগাং২৪.কম পরিবার।

আবুল হাসেম। এলাকায় তিনি হাসেম মাষ্টার হিসাবে পরিচিত। একাধারে তিনি শিক্ষক, মনোযোগী পাঠক, শিক্ষাব্রতী, ভ্রমন প্রিয়, শিক্ষা গবেষক, সত্যানুসন্ধানী , ইতিহাস সংরক্ষক, স্পষ্টবাদী, সৃজনশীল, ধর্ম ভিরু, প্রগতিমনা, রুচিশীল উন্নত উদারমনের, দায়িত্বশীল, কর্তব্যনিষ্ট ও বন্ধু পরায়ন ব্যক্তিত্ব হাসেম স্যার। ছোটবড় সকলকে একবার দেখামাত্র সহজে আপন করে নেওয়ার অসাধারন গুনের অধিকারী তিনি। একটি বিদ্যালয় প্রতিষ্টার সময় নেশার ছলে শিক্ষকতা করতে গিয়ে পরে পেশা হিসাবে শিক্ষকতা কে মনে প্রানে গ্রহন করেছেন । অসাধারণ প্রতিভার অধিকারী এই হাসেম স্যার। তার স্মৃতিশক্তি অত্যন্ত প্রখর। বয়োবৃদ্ধির সাথে সাথে সাধারনত বেশীর ভাগ মানুষের নিয়মানুসারে স্মৃতিশক্তি কমতে থাকে ।কিন্তু তার বেলায় বিষয়টি ব্যতিক্রম । কোন বিষয় একবার পাঠকরলে সেবিষয়ের বেশির ভাগ তিনি স্মৃতিতে ধরে রাখতে পারেন। তাছাড়া কোন মানুষের সাথে একবার পরিচয় হলে তার নাম ঠিকানা পরিচিতির তারিখ ,বার ও সময় বলে দিয়ে পুনরায় কোন স্থানে দেখা হলেই তার সাথে আলাপ চারিতায় রত হওয়া তার স্বাভাবজাত ধর্ম । হাসেম স্যারের চেয়ে বয়সে বড় ছোট যে কারো সাথে বিশেষ করে পরিচিত জনদের সাথে দেখা হলেই সালাম দিয়ে মুরুব্বী, বদ্দা, স্যার সম্বোধন করেই তিনি কথা বলেন। সাধারন জীবন যাপন চলা ফেরায় জৌলুসহীন এই ব্যক্তিত্ব সকলের কাছ শ্রদ্ধাভাজন। তাই সকলে তাকে হাসেম স্যার হিসাবে সম্বোধন করে থাকে। তিনি ব্যক্তি স্বার্থকে কোন দিন প্রাধান্য দেননি । সংসার জীবনে ও তিনি উদাসীন প্রায়। আত্মকেন্দ্রীকতার স্থান তার কাছে নেই। নিলোর্ভ হাসেম স্যারের অর্থ বিত্তের প্রতি কোন মোহ ছিলনা। দীর্ঘ প্রায় চল্লিশ বছর প্রধান শিক্ষকতা জীবনে কোন দিন প্রধান শিক্ষক হিসাবে প্রতিষ্ঠানের কোন টাকা পয়সা তার কাছে রাখেনি এটা কিন্তু বিরল ঘটনা ।

হাটহাজারীর ১১নং ফতেপুর ইউনিয়নের ফতেপুর বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হয় স্বাধীনতার পরবর্তী সময়ে। তখন হাটহাজারী নির্বচনী এলাকার জাতীয় সংসদ সদস্য ছিলেন ফতেপুর নিবাসী মরহুম এম.এ ওহাব। এলাকার সন্তানদের শিক্ষিত করতে এমপি ওহাবের নেতৃত্বে এই বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার কার্যক্রম শুরু হলে আবুল হাসেমকে এই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব প্রদান করা হয় এলাকার সন্তান হিসাবে। উদ্দেশ্য ছিল দুইটা। শিক্ষক হিসেবে হাসেম স্যার দায়িত্ব পালন করবেন ,তেমনি ভাবে এলাকার সন্তান হিসাবে স্থানীয়দের সন্তানদের লেখা পড়ার প্রতি আগ্রহী করে তুলতেও তিনি দায়িত্ব পালন করবেন। বিদ্যালয়ের দায়িত্ব গ্রহনকরে লেখা পড়ার মান উন্নয়ন ও বিদ্যালয়টিকে একটি প্রতিষ্ঠিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে তিনি নিবেদিত ভাবে ত্যাগ ও শ্রম দিতে থাকেন। এ বিদ্যালয় থেকে বিএড প্রশিক্ষণ নিতে গিয়ে অন্য এক শিক্ষকের সাথে বন্ধুত্বপূর্ন সর্ম্পক হলে এয়াপোর্ট এলাকায় একটি স্কুলে তিনি কিছুদিন শিক্ষকতা করেন। বর্তমানে এ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি বিএফ শাহীন কলেজ হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। পরবর্তীতে রাউজান উপজেলার উরকিরচর উচ্চ বিদ্যালয়ে এবং পরে একই উপজেলার শ্যামাচরন উচ্চ বিদ্যালয়ে সফলতার সাথে প্রধান শিক্ষক হিসেবে সফলতার সাথে দায়িত্ব পালন করে এ শিক্ষাব্রতী অবসর গমন করেন। এরপরও শিক্ষার প্রতি নেশাগ্রস্থ এ শিক্ষক ঘরে বসে থাকতে পারেননি। পুনরায় অন্য একটি বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় সহযোগীতা করতে তাকে আবারও ডেকে নিয়ে প্রধান শিক্ষককের দায়িত্ব অর্পন করেন স্কুল কর্তৃপক্ষ। শিক্ষকতা করার সময় তিনি পেশাজীবি সংগঠন করতেন।

আবুল হাশেম মাষ্টার একজন শুধু সফল শিক্ষক নন। তিনি শিক্ষকতা পেশার অনুকরনীয় দৃষ্টান্ত। বই পড়ার প্রতি তার প্রচন্ড আগ্রহ। আর বই পড়ার প্রতি প্রচন্ড নেশাসক্ত এ শিক্ষক বই ক্রয়েও তার অনাবিল আগ্রহ। তার বাড়ীতে অসংখ্য দুষ্প্রাপ্য বই সংগ্রহে রয়েছে। তার বই সংগ্রহের ব্যাপারে অনেক মজার গল্পও রয়েছে। তিনি স্কুল থেকে পবিত্র ঈদ ও কোরবানীর ঈদের বোনাস নিয়ে পরিবারের জন্য বাজার করতে গিয়ে অসংখ্যবার পরিবারের বাজারের খরচের অর্থ দিয়ে বই কিনে নিয়ে এসেছেন। তার অসংখ্য শিক্ষার্থী ও ঘনিষ্ঠজন তাকে কিছু উপহার দেওয়ার কথা বললে তিনি কিছু বই এর নাম লিখে দেন। এসব বই তাদের কাছ থেকে উপহার হিসেবে নেন এবং এখনো তার সে অভ্যাস বদলায়নি। তার থাকার ঘরে বই এর অমূল্য সংগ্রহশালা রয়েছে। শোয়ার খাটের উপরে নিচে বই আর বই। টিনছানিযুক্ত বেড়ার কুঠিরি তার মূল্যবান দুষ্প্রাপ্য বই সংরক্ষনের আধুনিক রুচি সম্মত তাক ও আলমিরা না থাকায় এলামেলাভাবে বই গুলো সংরক্ষিত রয়েছে। বই প্রেমী ও পাঠকদের জন্য তার এ সংরক্ষনশালা অত্যন্ত মূল্যবান। তিনি অনৈতিক উপার্জনকারী ও দুর্নীতিবাজদের স্পষ্টভাবে কথা বলেন। মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের অত্যন্ত সক্রিয় এ শিক্ষাবিদ সার্বক্ষনিক প্রগতিশীল চিন্তা চেতানা ধারন করে প্রায় প্রত্যেকস্থানে এ ব্যাপারে সোচ্চার হয়ে কথা বলেন। এক সময় প্রগতিশীল রাজনীতির সাথে জড়িত থেকে সৎ ও যোগ্য রাজনীতি সচেতন প্রগতিবাদী শক্তিকে জোরালো করতে কাজ করেছেন। তিনি নিজে মিথ্যা বলেন না। অন্য কাউকে মিথ্যা বলাও পছন্দ করেন না। তেমনি তিনি মিথ্যাবাদীকে ঘৃণা করেন। বড়ছোট সকলকে যোগ্যতা অনুসারে সম্মান করতে তিনি কুণ্ঠাবোধ করেন না। যেখানে অন্যায় সেখানে হাশেম মাষ্টারের প্রতিবাদ। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে বিদ্যালয়ের প্রয়োজনে পত্রিকায় কোন বিজ্ঞপ্তি দিতে গিয়ে তিনি নিজেকে দপ্তরী কিংবা পিয়ন পরিচয় দিয়ে বিদ্যালয়ের অর্থ সাশ্রয় করার কথাও প্রচারিত আছে। বেশী টাকা দিয়ে বিজ্ঞপ্তি দিলে তাকে প্রধান শিক্ষক বকাঝকা করবে বলে দায়িত্বরত বিজ্ঞাপন কর্মকর্তাকে অনেকবার বলেছেন। প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনে এটুকুই তার মিথ্যার আশ্রয় নেওয়া।

হাশেম মাষ্টার শুধু শিক্ষক নয় তিনি একজন ভ্রমন বিলাসী মানুষও। দেশ ভ্রমন মানুষের জীবনে একটি শিক্ষা। এতে অভিজ্ঞতা সঞ্চয় হয়। তাই তিনি দেশ ভ্রমনে বেশী আগ্রহী। প্রত্যেক ধর্মের প্রতি তার অগাধ বিশ্বাস ,শ্রদ্ধা ও ভক্তি রয়েছে। তাই তিনি ধর্মজ্ঞানে জ্ঞানী হতে প্রত্যেক ধর্মীয বই ও ব্যাপকভাবে পাঠ করেন। তার ধর্ম ইসলামকে তিনি মানবতার ধর্ম বলে উল্লেখ করে এ ধর্মে কোন সংকীর্ণতার স্থান নেই বলে মনে করেন। তাই প্রত্যেক ধর্ম তার কাছে সম্মান ও শ্রদ্ধার। ১৯৯৭ সালে তিনি দেশ ভ্রমণ শুরু করেন। বাংলাদেশের এমন কোন দর্শনীয় স্থান ও প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান নেই যেখানে তিনি যাননি। কোন জেলার কোন উপজেলা কি জন্য বিখ্যাত তিনি জিজ্ঞাসা করার সাথে সাথে বলে দিতে পারবেন। দেশ ভ্রমনে আগ্রহীদের নিয়ে তিনি প্রতিষ্ঠা করেছেন ভ্রমন পিপাসুদের সংগঠন“অভিযাত্রী”। সংগঠনের পক্ষ থেকে প্রতিবছর জানুয়ারী মাসে দেশের বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান ভ্রমন করে ঐতিহাসিক নিদর্শনগুলো প্রত্যক্ষ করেন। অভিযাত্রী প্রতিষ্ঠার ব্যাপারেও তার অনেক প্রত্যাশা রয়েছে। এ সংগঠনের মাধ্যমে তিনি সমাজের কুসংষ্কার ও সংকীর্ণতা দূর করে আর্দশ,নীতিবান,সৎ যোগ্য নাগরিক গড়ে তোলার ব্রত গ্রহণ করেছেন। এ সংগঠনের নেতৃত্বে তিনি ফতেপুরে একটি বালিকা বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করারও স্বপ্ন দেখেন। এ সংগঠনে বিভিন্ন শ্রেনী পেশা ধর্ম বর্ণের লোক রয়েছে। বিনে সূতার মালায় তাদের গ্রথিত করে অসাম্প্রদায়িক চেতনায় সুখী সম্বৃদ্ধ বাংলাদেশ সর্বোপরি মুক্তিযোদ্ধাদের স্বপ্ন বাস্তবায়ন করা তার একান্ত প্রত্যাশা। দেশের অনেক মানুষের একটি ভ্রান্ত ধারনা বাংলা নববর্ষ একটি নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের উৎসব। প্রকৃতপক্ষে বর্ষবরন উৎসব সমস্ত বাংলাভাষাভাষীর। একথা প্রমান করার জন্য তিনি প্রত্যেক বাংলা বর্ষের প্রথমদিন অভিযাত্রীর উদ্যোগে জাকজমকপূর্নভাবে বাংলা নববর্ষ পালন উৎসব পালন করে থাকেন। এখানে আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। পুঁথি পাঠের আসর,কুইজ প্রতিযোগীতা এবং সংগঠনের কর্মপ্রন্থা নিয়ে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত গ্রহন করা হয়। সমাজে প্রবাহমান অসুস্থধারার পরিবর্তন করে সুস্থধারা প্রর্বতনের মানসে তার এ উদ্যোগ ও আয়োজন। সমাজের সর্ব পেশার লোকজনকে অনুষ্ঠানে আমন্ত্রন জানানো হয়।

শ্রদ্ধাভাজন আবুল হাশেম স্যার বই সংগ্রহ,বই পড়া ছাড়াও তিনি কথায় কথায় ছন্দ মিলিয়ে কথা বলতে পটু। তাছাড়া তার লেখালেখির প্রতি সীমাহীন আগ্রহ। গ্রামের পথে প্রান্তরে বিচরন করে নিবেদিত প্রান মানুষকে তুলে এনে তার লেখায় স্থান করে নেওয়াতে তিনি তার দায়িত্ব বলে মনে করেন। তাছাড়া পুরাতন ইতিহাস ও ঐতিহ্যের কথা বর্তমান ও ভবিষ্যত প্রজম্মের কাছে তুলে ধরার মানসে তিনি ইতিমধ্যে হাটহাজারীর ইতিহাস গ্রন্থ ২য় খন্ড প্রকাশ করেছেন। ইতিহাস গ্রন্থের প্রথম খন্ড প্রকাশিত হয় ১৯৯০ সালে। বইটি তেমন সমৃদ্ধ না হলেও প্রথম খন্ড এখন পাওয়া যায় না। তাই এবার দ্বিতীয় খন্ড প্রথম খন্ডের চেয়ে সমৃদ্ধ পরিসরে প্রকাশ করা হয়েছে। তৃতীয় খন্ড লেখনীর কাজও চলছে। তাছাড়া ১৯৯১ সালে চট্টগ্রামের বলী খেলা নিয়ে তার লেখা একটি বই প্রকাশিত হয়েছে। ১৯৯২ সালে মুক্তিসংগ্রামে চট্টগ্রাম নামে একটি বই প্রকাশিত হয়। হাটহাজারীর ইতিহাস তৃতীয় খন্ডের লেখার কাজ চলছে, মুক্তিযুদ্ধে হাটহাজারী, স্মৃতিময় ফতেপুর,ফতেপুরের ইতিহাস ও ঐতিহ্য এবং মহাকবি আলাওল এর নামে একটি বই লেখার কাজ চলমান ছিল। নিভৃতচারী এ হাশেম স্যার তাঁর জীবনের সমস্ত উপার্জনের অর্থ দিয়ে হাটহাজারীর ইতিহাস প্রকাশ করেছেন। নিবেদিত হাশেম স্যারের এ সৃজনশীল কর্মকান্ডকে সহযোগীতা করা বিত্তবানদের নৈতিক দায়িত্ব হলেও তেমন সহযোগীতা কারো কাছ থেকে পাওয়া যায়নি। ভবিষ্যত প্রজম্মের কাছে দায়মুক্ত হতে তিনি যেই মহৎ উদ্যোগ নিয়েছেন । চালচলনে একেবারে সাধারন এ মানুষটি ইতিহাসের উপকরন তথ্য সংগ্রহ সকরার জন্য কাঁধে থলে নিয়ে যখন বাড়ী বাড়ী ঘুরেছেন অনেকে ভিক্ষুক মনে করে তাকে চাউল ভিক্ষা দিতে হাজির হয়েছেন বলেও তিনি অনেক স্থানে কথা বলতে গিয়ে নিজ মুখে সেকথা বলেছেন। তিনি বলেছেন চাউর ভিক্ষা নয় ইতিহাসের উপকরন/উপাদান ভিক্ষা চাইতে তিনি এসেছেন। চাল চলনে একেবারে সাধারন বলে তাকে অনেকে পছন্দও করেনা। বৃহৎ অন্তর ও অসাধারন প্রতিভার অধিকারী হাশেম স্যারের সাথে যারা ঘনিষ্ঠভাবে মিলামেশা করেনি তারা প্রাথমিক দেখায় বুঝতে পারবে না তিনি কত বড় মাপের মানুষ ও প্রতিভাধর ব্যক্তিত্ব। আবুল হাশেম মাষ্টার ১৯৪৬ সালের ১৮ এপ্রিল হাটহাজারীর ফতেপুর ইউনিয়নের মাইজপট্টীর আশরাফ আলী হাজীর বাড়ীতে জম্মগ্রহন করেন। তাঁর পিতার নাম মরহুম নজির আহমদ। মাতা কুমছুমা বেগম। তাঁর সখ ভ্রমন,বই পড়া,পাঠাগার প্রতিষ্ঠা,ঐতিহাসিক স্থান দর্শন,বাংলাদেশের প্রত্নতত্ত্ব নিদর্শন দেখা,লোকজ লুপ্তগান সংস্কৃতি উদ্ধার ও ঘুরে দেখা বাংলাদেশ। তিনি এম.এ.বি.এড ডিগ্রীর অধিকারী ছিলেন। বয়সের ভারে এ অসামান্য প্রভিতাধর শিক্ষাবিদ আক্রান্ত হলেও মনের দিকে তিনি অত্যন্ত শক্ত ও নবীন ছিলেন। মূহুর্তের মধ্যে তিনি যেকোন মানুষকে আপন করে নেওয়ার অসামান্য গুন গুলোর একটি ছিল। দুস্প্রাপ্য বই এর সংগ্রহ শালায় তিনি আকণ্ঠ নিমর্জ্জিত থাকেন। সব সময় তাঁর কাধে একটি থলে ঝুলানো থাকে। যেখানে বসে যেকারো সাথে কথা বলতে শুরু করলেও ইতিহাসের উপকরন তথ্য সংগ্রহ করতে তিনি ব্যস্ত হয়ে উঠেন এবং গুরুত্বপূর্ণ উপকরন খাতায় লিখে নেন। বিরল প্রতিভার এ ব্যক্তিত্বকে নিয়ে হাটহাজারীর সচেতন লোকজন গর্ববোধ করেন। তবে অনেকে শংকার মধ্যেও থাকেন তাঁর বয়সের কারনে। তাঁর অসমাপ্ত লেখা প্রকাশের জন্য সৃজনশীল মনোভাবাপন্নদের এগিয়ে আসা উচিত। বই অনুরাগী হাশেম স্যার ঢাকা চট্টগ্রামে বই মেলার কথা শুনলে কিংবা নতুন ইতিহাস ও এতিহ্য সমৃদ্ধ বই প্রকাশের সংবাদ পেলে ছুটে যেতেন তা সংগ্রহ করতে। সর্বশেষ আলাউল একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করছিলেন।
বরেণ্য এ শিক্ষাবিদ ৬৮ বছর বয়সে মৃত্যু বরন করেন। হাশেম স্যারের শূন্যতা পূরন হওয়ার নয় …। আগামীকাল শনিবার বাদ যোহর মদনহাট স্কুলের মাঠে মরহুমের জানাযা অনুষ্ঠিত হবে।

বিভিন্ন শ্রেনী পেশার নেতৃবৃন্দ তার মৃত্যুতে সংবাদপত্রে প্রদত্ত বিবৃতিতে শোক প্রকাশ করেন । বিবৃতিদাতারা হলেন পানি সম্পদ মন্ত্রী ব্যারিষ্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ এমপি , নির্বাচন কমিশনার আব্দুল মোবারক,সাবেক মুখ্য সচিব আব্দুল করিম, চট্টগ্রাম জেলাপরিষদ প্রশাসক এম.এ. ছালাম, সাবেক মেয়রও মন্ত্রী মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দীন ,সাবেক হুইপ আলহাজ্ সৈয়দ ওয়াহিদুল আলম, বাংলাদেশ কল্যান পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অবঃ) সৈয়দ মোঃ ইব্রাহিম বীর প্রতীক, বিজেএমইএ এর সাবেক সভাপতি এসএম ফজলুল হক, চাসিকের প্রধান শিক্ষা কর্মকর্তা অধ্যাপক মুহম্মদ শহীদুল্রাহ, উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি অধ্যক্ষ মোঃ ইসমাইল, উপজেলা চেয়ারম্যান মাহবুবুল আলম চৌধুরী, হাটহাজারী বিশ্ব বিদ্যালয় কলেজের অধ্যক্ষ মির কফিল উদ্দীন, উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি নুর মোহাম্মদ,উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক সোহরাব হোসেন নোমান, হাটহাজারী প্রেস ক্লাব সভাপতি কেশব কুমার বড়–য়া ,নিউজচিটাগাং২৪.কম এর নির্বাহি সম্পাদক মির্জা ইমতিয়াজ শাওন, হাটহাজারী প্রেস ক্লাব সাধারন সম্পাদক মনসুর আলী,বাংলাদেশ জাতীয় সাংবাদিক সংস্থ্রা হাটহাজারী উপজেলার সভাপতি খোরশেদ আলম শিমুল , সম্পাদক আসলাম পারভেজ, বাংলাদেশ কলেজ বিশ্ব বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যক্ষ কাজী ফারুক আহমদ,সাধারন সম্পাদক অধ্যক্ষ আহমদুল হক,চট্টগ্রাম জেলা কমিটির সভাপতি অধ্যক্ষ দবির উদ্দীন,সম্পাদক অধ্যাপক আবু তাহের, বাংলাদেশ কলেজ শিক্ষক সমিতি হাটহাজারী শাখার সভাপতি অধ্যক্ষ মির কফিল উদ্দীন,সম্পাদক অধ্যাপক হুমায়ন কবির, বাংলাদেশ কলেজ শিক্ষক সমিতির চট্টগ্রাম জেলার উপদেষ্টা অধ্যক্ষ ফরিদ আহমদ, বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি হাটহাজারী শাখার সভাপতি শিমুল মহাজন, সম্পাদক ফিরোজ চৌধুরী,হাটহাজারী পৌরসভা উন্নয়ন সংগ্রাম কমিটির আহবায়ক রাশেদুল ইসলাম, সদস্য সচিব আবু তালেব,সাংবাদিক মোঃ হোসেন,বুদ্ধিজীবী কল্যাণ পরিষদ চট্টগ্রামের সভাপতি এস.এম.জামাল উদ্দিন, সহ-সভাপতি অধ্যক্ষ হুমায়ুন কবির, সাধারণ সম্পাদক নাজিম উদ্দিন, নিউজচিটাগাংফ্যান ক্লাব ইউএই এর মুহম্মদ আলী রশিদ, হাটহাজারী বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ ব্যাবসায় শিক্ষা ক্লাবের(২০০১) সম্পাদক নূরশেদ অলম, ইতিহাস চর্চা কেন্দ্রের সভাপতি সোহেল মো;ফখরুদ-দীন, স্বাধীন সংবাদপত্র পাঠক সমিতির কেন্দ্রীয় সভাপতি, এস.এম.জামাল উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক আবু বকর সিদ্দিক প্রমুখ। নেতৃবৃন্দ মরহুমের আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন এবং শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেন।


আরোও সংবাদ