আবারও মে

প্রকাশ:| শনিবার, ১০ জুন , ২০১৭ সময় ০২:১৬ পূর্বাহ্ণ

আবারও সরকার গঠন করছেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী ও ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ পার্টির নেতা থেরেসা মে। আজ শুক্রবার স্থানীয় সময় দুপুরে একং বাংলাদেশ সময় বিকেলে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা রাণী দ্বিতীয় এলিজাবেথের সঙ্গে তার রাজপ্রাসাদ বাকিংহাম প্যালেসে সাক্ষাৎ শেষে বেরিয়ে তিনি এই কথা জানান। এর মধ্যদিয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারানো সত্ত্বেও দেশের নিশ্চিত ভবিষ্যতের জন্য আবারও সরকার গঠন করতে যাচ্ছেন তিনি। এক্ষেত্রে তিনি সমমনা ডেমোক্রেটিক ইউনিয়নিস্ট অব নর্দার্ন আয়ারল্যান্ড দলের সমর্থন নেবেন।
থেরেসা তার সরকারি বাসভবন ডাউনিং স্ট্রিটের সামনে ব্রিফিংয়ে বলেন, সবচেয়ে বেশি আসন ও সবচেয়ে বেশি ভোট পাওয়ায় একমাত্র আমাদের দলেরই সরকার গঠনের এখতিয়ার আছে। তাই ডেমোক্রেটিক ইউনিয়নিস্টদের সঙ্গে নিয়ে ভবিষ্যতের নিশ্চয়তা দিতে পারে এবং ক্রান্তিকালে যুক্তরাজ্যকে এগিয়ে নেবে এমন সরকার গঠন করা হবে।
কনজারভেটিভ পার্টির এ নেতা জানান, তিনি ডেমোক্রেটিক ইউনিয়নিস্টের বন্ধু ও মিত্রদের সঙ্গে নিয়ে ব্রেক্সিট বাস্তবায়নের কার্যক্রম এগিয়ে নেবেন। এজন্য তিনি সবার উদ্দেশে বলেন, চলুন একসঙ্গে কাজ করি। বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত আগাম এ নির্বাচনে ৬৫০ আসনের মধ্যে একটি ছাড়া সব ক’টি আসনের ফলই ঘোষণা হয়ে গেছে। ফলপ্রাপ্ত ৬৪৯টি আসনের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে’র কনজারভেটিভ পার্টি পেয়েছে ৩১৮ আসন। আর প্রধান বিরোধী দল জেরেমি করবিনের নেতৃত্বাধীন লেবার পার্টি পেয়েছে ২৬১ আসন।
৬৫০ আসনের পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে প্রয়োজন ৩২৬ আসন। সে হিসেবে ৮ আসন দূরেই থেমে গেল ক্ষমতাসীনরা। এখন সমমনা ওই ডেমোক্রেটিক ইউনিয়নিস্ট তাদের সমর্থন দিলেই জোট গঠনের মাধ্যমে সরকার চালাতে পারবে কনজারভেটিভরা। কিন্তু বিগত নির্বাচনে ৩৩১ আসন পাওয়া কনজারভেটিভরা এবার এভাবে জনপ্রিয়তা হারানোয় থেরেসাকে পদত্যাগের আহ্বান জানান করবিন। লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির নেতা টিম ফ্যারনও থেরেসাকে পদত্যাগের আহ্বান জানিয়ে বলেন, তার যদি আত্মসম্মান বোধ থাকে, তবে পদত্যাগ করা উচিত।
ব্রেক্সিটের পর গত বছরের জুলাইয়ে প্রধানমন্ত্রী পদে ডেভিড ক্যামেরনের স্থলাভিষিক্ত হওয়া থেরেসা গত এপ্রিলের মাঝামাঝি সময়ে আকস্মিক নির্বাচনের ডাক দেন। ২০২০ সালে পরবর্তী নির্বাচন হওয়ার কথা থাকলেও তার এই আগাম নির্বাচন আহ্বানকে ব্রেক্সিট বাস্তবায়নে ক্ষমতা আরও নিরঙ্কুশ করার পদক্ষেপ বলে দেখা হচ্ছিল। কিন্তু নির্বাচনে দেখা গেল, থেরেসা নিজেই বেশ অস্বস্তি ডাকলেন।