আবারও নিম্ন মানের গম, পড়ে আছে বহির্নোঙরে

প্রকাশ:| মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই , ২০১৫ সময় ১০:৪২ অপরাহ্ণ

বিতর্কের ভয়ে খালাস করা হচ্ছে না নিম্ন মানের গম। দুই মাস ধরে বন্দরের বহির্নোঙরে কুতুবদিয়ায় আটকে আছে জাহাজ।
নিম্ন মানের গম
ব্রাজিলের গম নিয়ে বিতর্ক শেষ না হতেই, আবারও নিম্ন মানের গম এনে বিপাকে পড়েছে, খাদ্য অধিদফতর। ফ্রান্স ও রোমানিয়া থেকে আমদানি করা ওই গম পরীক্ষা কোরে দেখা গেছে, তা মানসম্মত নয়।

তাই বিতর্কের ভয়ে তা খালাস করা হচ্ছে না। ফলে দুই মাস ধরে, প্রায় সোয়া দুই লাখ টন গম পড়ে আছে, চট্টগ্রাম আর কুতুবদিয়া বন্দরের বহির্নোঙরে।

আমদানি করা গম নিয়ে, কিছুতেই পিছু ছাড়ছে না বিতর্ক। ব্রাজিল থেকে আনা গম নিয়ে, যখন চরম সমালোচনার মুখে সরকার, ঠিক সেময় ফ্রান্স ও রোমানিয়া থেকে ৫টি জাহাজে প্রায় সোয়া দুই লাখ টন গম এসে পৌঁছেছে কুতুবদিয়া বন্দরে। এর মধ্যে কোনো কোনোটি তো দেড় থেকে দুমাস ধরে বহির্নোঙ্গরে রয়েছে। কিন্তু রহস্যজনক কারণে সেগুলো খালাস করা হচ্ছে না।

বন্দর সূত্রে জানা গেছে, এম ভি স্পার ক্যানিস একটি জাহাজ ৫১ হাজার ৩৪৭ মেট্রিক টন গম নিয়ে গত ২রা জুন থেকে কুতুবদিয়ায় অবস্থান করছে। ১৪-ই জুন একই জায়গায় ৫০ হাজার ১৪৮ টন গম নিয়ে বহির্নোঙ্গর করেন এম ভি জিন ইয়াও। এর ১২ দিন পর সেখানে ভেড়ে এম ভি ওয়েস্টার্ন টেক্সাস। যাতে ৫২ হাজার টন গম রয়েছে। আর এম ভি কে পি আলবাট্রস ৫২ হাজার টন গম নিয়ে পৌঁছায় ৯ জুলাই। এর আগে গত ৩০ জুন এম ভি পিনটেইল ৫ হাজার সাত শত ৯৭ মেট্রিক টন গম নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে আসে। এরমধ্যে কেপি অ্যালবাট্রসে আনা গমের নমুনা পরীক্ষা করে খাদ্য অধিদপ্তর। কিন্তু নিম্নমানের হওয়ায়, তা নিতে রাজি হয়নি সংস্থাটি।

তবে ৭-ই জুলাই পিনটেইল থেকে বন্দরে আনার জন্য ১ হাজার ৯০০ টন গম লাইটার জাহাজে তোলা হয়। কিন্তু নিম্নমানের হওয়ায়, শেষ পর্যন্ত সেগুলোও নিতে অস্বীকৃতি জানায় খাদ্য অধিদপ্তর। এখন লাইটার জাহাজগুলো অলস পড়ে আছে কর্ণফুলী নদীর মোহনায়।

শিপিং এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশন বলছে, জাহাজগুলো দিনের পর দিন বহির্নোঙ্গরে পড়ে থাকায়, সরকারকে গুণতে হচ্ছে বাড়তি ভাড়া।

তবে এ নিয়ে খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের সাথে কথা বলতে চাইলে, ব্যস্ততার অজুহাতে তিনি রাজি হননি। প্রায় তিন ঘন্টা অপেক্ষার পর ব্যক্তিগত সহকারির মাধ্যমে জানান, এ বিষয়ে তার কিছু বলার নেই।