আফগানিস্তান থেকে সব মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের হুমকি দিয়েছে ওয়াশিংটন

প্রকাশ:| বৃহস্পতিবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি , ২০১৪ সময় ০৯:১৮ অপরাহ্ণ

আফগানিস্তান থেকে সব মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের হুমকি দিয়েছে ওয়াশিংটন। চলতি বছর শেষ হওয়ার আগেই এই পরিকল্পনা কার্যকর করা হতে পারে বলেও কাবুলকে সতর্ক করা হয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা গত মঙ্গলবার টেলিফোনে আফগান প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাইয়ের সঙ্গে কথা বলেন। তখনই ওয়াশিংটনের এ অবস্থানের কথা আফগান প্রেসিডেন্টকে জানান তিনি।
প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নিরাপত্তা চুক্তি স্বাক্ষরে রাজি হচ্ছেন না। এ কারণে ওয়াশিংটন এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ার হুমকি দিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
হামিদ কারজাইচলতি বছরের শেষ নাগাদ আফগানিস্তান থেকে মার্কিন বাহিনীর মূল অংশ প্রত্যাহার করার কথা। তবে আফগান বাহিনীকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্য কিছু মার্কিন সেনা থেকে যাওয়ার কথা। এটা নিশ্চিত করতেই আইনি সুরক্ষার জন্য আফগানিস্তানের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় নিরাপত্তা চুক্তি (বিএসএ) স্বাক্ষর করতে চায় যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু কারজাই তালেবানের সঙ্গে শান্তিপ্রক্রিয়া শুরুর আগে বিএসএ স্বাক্ষর করতে চান না। তাঁর যুক্তি, চুক্তির পর মার্কিন বাহিনীর বোমায় আফগান নাগরিকেরা মারা গেলে তার দায় তাঁকেই নিতে হবে।
ওবামা-কারজাই ফোনালাপের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে হোয়াইট হাউস। হোয়াইট হাউস থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানানো হয়, ওবামা আফগান প্রেসিডেন্টকে ফোন করে বলেছেন, বিএসএ চুক্তিতে রাজি না হলে ওয়াশিংটনকে অন্য পরিকল্পনায় এগিয়ে যেতে হবে। আফগান সরকার চুক্তিতে রাজি না হলে সম্পূর্ণ সেনা প্রত্যাহার করা ছাড়া পেন্টাগনের বিকল্প হাতে থাকবে না।
প্রেসিডেন্ট কারজাইয়ের মুখপাত্র আইমাল ফাইজি জানান, দুই প্রেসিডেন্ট টেলিফোনে প্রায় ৪০ মিনিট কথা বলেন। সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে তাঁদের আলোচনা হয়েছে। প্রেসিডেন্ট কারজাই মার্কিন প্রেসিডেন্টকে বলেছেন, আফগানিস্তান বিএসএ চুক্তিতে স্বাক্ষর করতে চায়। কিন্ত শর্ত হলো, তার আগে অবশ্যই তালেবানের সঙ্গে শান্তি আলোচনা শুরু হতে হবে।
আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সেনা পুরোপুরি প্রত্যাহারের ব্যাপারে ওবামার পরিকল্পনার সঙ্গে একমত মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী চাক হেগেলও। এই প্রথম তিনি নিশ্চিত করেছেন, আফগানিস্তান থেকে সব সেনা প্রত্যাহারের বিষয়টি সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করছে মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগ পেন্টাগন।
এপ্রিলে আফগান প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পর নতুন সরকার ক্ষমতায় এলে যুক্তরাষ্ট্র-আফগানিস্তান বিএসএ চুক্তি হতে পারে বলে আভাস পাওয়া গেছে। কয়েকজন আফগান প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী এ বিষয়ে ইঙ্গিত দিয়েছেন। এএফপি ও রয়টার্স।