“আপনাদের খাদেম ছিলাম, আগামীতেও থাকব”- মনজুর

প্রকাশ:| বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল , ২০১৫ সময় ০২:০৬ অপরাহ্ণ

খাদেম ছিলাম
চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ২০ দলীয় জোট সমর্থিত চট্টগ্রাম উন্নয়ন আন্দোলনের মেয়র প্রার্থী মোহাম্মদ মনজুর আলম কমলা লেবু মার্কার সমর্থনে গতকাল বুধবার সকাল থেকে নগরীর ২৩ নং উত্তর পাঠানটুলী ওয়ার্ডে গণসংযোগ করছেন। গণসংযোগকালে তার সাথে স্থানীয় বিএনপি নেতৃবৃন্দ , বিপুল সংখ্যক কর্মী সমর্থক এবং এলাকার সর্বস্তররের লোকজন উপস্থিত ছিলেন।

এসময় সদ্য সাবেক এ মেয়র বলেন-বিগত ৫ বছরের উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রক্ষা করে নগরবাসীর সেবা করার জন্য আমি আবার মেয়র পদে প্রার্থী হয়েছি। আগামী ৫ বছরে চট্টগ্রাম মহানগরীকে একটি উন্নত আধুনিক নগরীতে পরিণত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এ পরিকল্পনার আলোকে নগরীর প্রধান সমস্যা জলবদ্ধতাকে গুরুত্ব দিয়ে আমরা ১৯৯৫ সালের প্রস্তাবিত ড্রেনেজ মাস্টার প্ল্যান এর বাস্তবায়ন, নগরীর যানজট নিরসনে বাস ও ট্রাক টার্মিনাল নির্মাণ, কালুরঘাটে আধুনিক গার্মেন্টস পল্লী স্থাপন, পর্যটনের উন্নয়ন, সাইক্লোন সেন্টার নির্মাণ, বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন, কর্পোরেশনের মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠা, পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণ বসবাসকারী বস্তিবাসীদের জন্য বহুতল ফ্ল্যাট নির্মাণ এবং নগরীতে ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র স্থাপনসহ বিভিন্ন পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি বলেন নগরীতে এখন জলাবদ্ধতা নেই, আছে জল জট। যে কারনে একঘন্টার বৃস্টিপাতে দিনভর মানুষকে কষ্ট পেতে হয়না। দুই ঘন্টার বৃস্টিপাতে সৃস্ট জলজট একঘন্টায় শেষ হয়ে যাচ্ছে। ইতিপূর্বে ২০ বছর যাবৎ নগরীর এ সমস্যা নিরসনে কোন পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। শুধু তার দায়িত্বে থাকাকালীন সময়ে এ সমস্যা সমাধানে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে যার সুফল এখন নগরবাসী পেতে শুরু করেছে। বর্তমানে বিরাজিত জলজট নিরসনে ভরাট হয়ে যাওয়া খালখনন , ড্রেনেজ ব্যবস্থা সংস্কারসহ নানাবিধ পরিকল্পনা বাস্তবায়নাধীন রয়েছে।

এবার আপনাদের দোয়া নির্বাচিত হলে সরকারের সহযোগিতায় এসব পরিকল্পনার বাস্তবায়ন করা হবে ইনশআল্লাহ।

তিনি ভোটার ও এলাকাবাসীর উদ্দেশ্যে বলেন- গত সাড়ে চার বছরে কর্পোরেশনকে দলীয়করণ করি নাই, টেন্ডারবাজি ও সন্ত্রাসের আঁচড় পড়তে দেইনি। সবাইকে সমান মূল্যায়ন করেছি। প্রতিশ্রুতির বেশীর ভাগই বাস্তবায়ন হয়েছে। তাই অসমাপ্ত কাজ সমাপ্ত করতে আপনাদের খাদেম হিসেবে আগামী ২৮ এপ্রিল কমলা লেবু মার্কায় ভোট দিয়ে আমাকে জয়যুক্ত করবেন।

সকাল ১০টায় মনজুর আলম নগরীর দেওয়ানহাট মডেল বেকারীর সামনের থেকে গণ সংযোগ শুরু করেন।
পায়ে হেটে তিনি ভোটারদের মাঝে নির্বাচনী প্রচার পত্র বিলি করে ভোট প্রার্থনা করেন। এর পর তিনি বায়তুশ শরফের পীর সাহেবের মাজার জেয়ারত করেন। এসময় তিনি পোস্তারপাড়া, ধনিয়ালা পাড়া, দেওয়ান হাট, চৌমুহনী, পাঠানটুলি, মোগলটুলি এলাকায় গনসংযোগকালে খন্ড খন্ড পথ সভায় বক্তব্য রাখেন। গণসংযোগকালে শত শত এলাকাবাসী সাবেক এ মেয়রকে স্বাগত জানান। মনজুর এলাকাবাসীর সাথে সালাম ও শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং আগের মত সুখে-দু:খে তাদের পাশে থাকার আশ^াস দিয়ে বলেন- বিগত ২২ বছর ধরে নগরবাসীর সেবা করে আসছি। নিজ এলাকা কাট্টলী থেকে কাউন্সিলর হিসেবে জনসেবা শুরু করে গত ২২ বছরে ৪১টি ওয়ার্ডের জনগনের মাঝে সেবা পৌছে দিয়েছি।

তিনি তার নির্বাচনী প্রচারণায় বিভিন্ন এলাকায় প্রতিপক্ষের প্রার্থীর কর্মী-সমর্থক দ্বারা বাধাপ্রাপ্ত হওয়ার অভিযোগ তুলে বলেন- নির্বাচনী প্রচারনায় সকল প্রার্থীকে সমান অধিকার দেয়া প্রয়োজন। আমরা সবার অংশ গ্রহনে আনন্দমুখর পরিবেশে একটি সুষ্ঠ শান্তিপূর্ন নিরপেক্ষ নির্বাচন চাই। এখন নির্বাচন কমিশনের উচিত সকল প্রার্থীর জন্য সে পরিবেশ সৃষ্টি করে দেয়া।

মনজুর আলম বলেন আমি নির্বাচন আচরন বিধি মেনে প্রচারনা চালাচ্ছি। কিন্তু সরকারী দলের প্রার্থীর লোকজন আমার নির্বাচনী প্রচারনায় বাধা দিচ্ছে। সন্ত্রাস, ভীতি-আতংকজনক পরিবেশ তৈরী করে পরিস্থিতি অবনতির পায়তারা চালানো হচ্ছে।

গনসংযোগকালে বিএনপি নেতা ও কাউন্সিলর নিয়াজ মো. খান, এসএম সাইফুল আলম,স্থানীয় কাউন্সিলর প্রার্থী সিরাজুল ইসলাম, মহিলা কাউন্সিলর প্রার্থী বেগম ফাতেমা বাদশা, হাজী মো. হাসেম, আমীর হোসেন, হাজী মো. মহসিন, মহিলা দলের নেত্রী ফেরদৌস বাবুল, নাজমা আক্তার, নুসরাত, লুৎফা, নাসরিন, আফরোজা, কুলসুমা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।


আরোও সংবাদ