আনোয়ারায় হচ্ছে বিশেষ অর্থনৈতিক জোন

প্রকাশ:| সোমবার, ১৭ আগস্ট , ২০১৫ সময় ১১:৪৬ অপরাহ্ণ

সমুদ্র সামনে রেখে চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার গহিরা এলাকায় হচ্ছে বিশেষ অর্থনৈতিক জোন।  সাড়ে ৬০০ একর জমির উপর তৈরি হবে এ অর্থনৈতিক জোন।  এরই মধ্যে আনোয়ারা অর্থনৈতিক জোন-২ এর  ২৯১ একর খাস জমির দলিল সম্পাদন করেছে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন।

সোমবার দুপুরে দলিল সম্পাদনের কাজ সম্পন্ন হয়। শীগগির আনোয়ারা অর্থনৈতিক জোন-১ এর জমি জরিপের কাজ শুরু হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।

জেলা প্রশাসনের ডেপুটি রেভিনিউ কালেক্টর ও নির্বাহী ম্যাজিস্টেট মোহাম্মদ রুহুল আমীন বলেন, দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির জন্য সরকার দেশে ১৭টি বিশেষ জোন করার ঘোষণা দেয়।  দেশে সমুদ্রের সঙ্গে লাগোয়া প্রথম অর্থনৈতিক জোন হবে চট্টগ্রামের আনোয়ারায়।  সরকারি নির্দেশে আনোয়ারা বিশেষ জোন-২ এর জন্য চারটি মৌজায় ২৯১ একর খাস জমি বন্দোবস্ত করে ভূমি মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়।  সম্প্রতি মন্ত্রণালয় বন্দোবস্তকৃত জমির অনুমোদন দেয়।

তিনি বলেন, মন্ত্রণালয়ে অনুমোদনের পর আজ (১৭ আগস্ট) ২৯১ একর সরকারি খাস জমির দলিল সম্পাদন করা হয়েছে।  জমিদাতার পক্ষে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মেজবাহ উদ্দিন এবং জমি গ্রহীতার পক্ষে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) এর নির্বাহী চেয়ারম্যান স্বাক্ষর করেছেন।

জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, অর্থনৈতিক বিশেষ জোন-২ এর জন্য আনোয়ারা উপজেলার বেলচূড়া মৌজার ৫ দশমিক ৯১ একর, হাজীগাঁও মৌজার ৩৮ দশমিক ১৬ একর, বটতলী মৌজার ১০০ দশমিক ৮১ একর এবং বৈরাগ মৌজার আওতাধীন ১৪৬ একর খাস জমির অনুমোদন দেয় মন্ত্রণালয়।  প্রত্যেক মৌজার অনুমোদিত মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে এক লাখ এক হাজার এক টাকা করে।

সমুদ্র সামনে রেখে অর্থনৈতিক জোনটি হবে আনোয়ারার গহিরায়।  জাহাজ নির্মাণ শিল্প, ইলেকট্রিক ফার্নেস ও সিমেন্ট শিল্পকে প্রাধান্য দিয়ে এ বিশেষ অথনৈতিক অঞ্চলটি গড়ে তোলা হবে।  এখানে ৩৭১ টি কারখানা স্থাপন করা যাবে।  তার মধ্যে ২৫০টিই জাহাজ নির্মাণ শিল্পের জন্য। এটি চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৩৯ কিলোমিটার, শহর থেকে ২৮ কিলোমিটার ও শাহ আমানত বিমানবন্দর থেকে ৪৬ কিলোমিটার দূরত্বে অবস্থিত।

দাবি করা হচ্ছে, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ৫৩ হাজার ৪২০ জনের কর্মসংস্থান হবে।  আনোয়ারা অর্থনৈতিক জোনের কাজ ২০১৭ থেকে শুরু হয়ে শেষ হবে ২০২০ সালে।  প্রকল্প এলাকায় তেমন অবকাঠামো সুবিধা নেই। নেই বিদ্যুৎ ও গ্যাস লাইন। মোবাইল যোগাযোগ থাকলেও ফিঙ্ড টেলিফোন ও সুপেয় পানি সরবরাহ সুবিধা নেই। পানি উন্নয়ন বোর্ডের একটি সংযোগ সড়ক আছে। তবে সেটির অবস্থাও বেহাল। তাই অবকাঠামোসহ প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ের কাজ শেষ করতে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৪ হাজার ৭০০ কোটি টাকা।


আরোও সংবাদ